প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তারা সপ্তাহান্তে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, তেহরান জানাচ্ছে যে তারা এর একটি জবাব হিসেবে একটি মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে এটি উভয় পক্ষের মধ্যে এক সপ্তাহের মধ্যে তৃতীয়বারের মতো উত্তেজনা বৃদ্ধির ঘটনা।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, ইরানের ‘আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের’ জবাবে তারা ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে। তারা দাবি করেছে, আন্তর্জাতিক জলসীমার ওপরে একটি মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছিল ইরান দ্বারা।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানায় যে, তারা দক্ষিণ ইরানে হামলা চালাতে ব্যবহৃত একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। যদিও ঘাঁটিটির সঠিক অবস্থান সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
দুই দেশের মধ্যে চলমান কয়েক মাসের সংঘাতের নিরসনে আলোচনায় সপ্তাহান্তে কোনো অগ্রগতি না হওয়ার পর এই নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। মার্কিন গণমাধ্যমের রিপোর্টে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সম্ভাব্য চুক্তির শর্তে কিছু পরিবর্তনের অনুরোধ করেছেন।
বিবিসির মার্কিন সংবাদ অংশীদার সিবিএস নিউজ জানিয়েছে যে, এসব পরিবর্তনের মধ্যে রয়েছে হরমুজ প্রণালীর নৌপথ পুনরায় চালু করার এবং উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণের বিষয়টি। তবে, হোয়াইট হাউস এসব বিষয়ে মন্তব্যের অনুরোধে কোনো সাড়া দেয়নি।
ইরানের প্রধান আলোচক রোববার (৩১ মে) জানান, ইরানিদের অধিকার সম্পূর্ণরূপে সুরক্ষিত না হওয়া পর্যন্ত তেহরান কোন চুক্তিতে সম্মত হবে না।
মার্কিন সামরিক বাহিনী জানায়, তারা শনিবার ও রোববার ইরানের গোরুক এলাকা এবং কেশম দ্বীপে ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ও রাডার স্থাপনায় ‘আত্মরক্ষামূলক হামলা’ চালিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রকাশিত এক পোস্টে সেন্টকম জানায়, মার্কিন যুদ্ধবিমান ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি স্থল নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র এবং দু’টি ড্রোনে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, এসব ড্রোন আঞ্চলিক জলসীমা দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর জন্য ‘স্পষ্ট হুমকি’ তৈরি করছিল। হামলায় কোনো মার্কিন সেনা সদস্য আহত হননি বলেও জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, আইআরজিসি বলেছে যে তারা সেই বিমানঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে যেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র সিরি দ্বীপে অবস্থিত তাদের যোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছিল। দ্বীপটি ইরানের দক্ষিণ উপকূল থেকে প্রায় ৪০ মাইল (৬৫ কিলোমিটার) দূরে পারসী উপসাগরে অবস্থিত।
ইরানের সামরিক বাহিনী আরো জানায় যে যুক্তরাষ্ট্রের ‘আগ্রাসন’ পুনরাবৃত্তি হলে তাদের প্রতিক্রিয়া হবে ‘সম্পূর্ণ ভিন্ন’। আইআরজিসির এ বক্তব্য প্রকাশ করেছে ইরানের আধা-সরকারি ফার্স নিউজ এজেন্সি।
এদিকে, কুয়েতের সামরিক বাহিনী সোমবার (১ জুন) জানায় যে তারা তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ‘শত্রুতাপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা’ প্রতিহত করছে। তবে, এসব হামলা কোথায় ঘটছে সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়া হয়নি।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর আগে চালানো মার্কিন বিমান হামলার জবাবে তেহরান গত সপ্তাহে কুয়েতের একটি বিমান ঘাঁটিতে হামলা চালায়। তেহরানের ভাষ্যমতে, হরমুজ প্রণালীতে মাইন পাতা এবং নৌ ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ঠেকানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ওই হামলা চালিয়েছিল।
গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ট্রাম্প বারবার দাবি করে আসছেন যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি স্থায়ী সমঝোতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে এবং আলোচনা এগোচ্ছে। তবে, এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়নি।
গেল শুক্রবার ট্রাম্প ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা যুদ্ধবিরতি দীর্ঘায়িত করার একটি কাঠামো নিয়ে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত’ নিতে বৈঠক করেছেন। তবে বৈঠক থেকে পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে কোনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। পরে খবর প্রকাশিত হয় যে চুক্তির খসড়ায় পরিবর্তন চেয়েছেন ট্রাম্প।
সূত্র: বিবিসি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন