প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সার্ক এখন গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এবং অমীমাংসিত বিরোধ বারবার এ সংস্থার গতিশীলতার ওপর বাধা সৃষ্টি করেছে। ফলস্বরূপ, ভূরাজনৈতিক কারণে সার্ক পুনরুজ্জীবিতকরণ প্রক্রিয়া দুর্বল হয়ে পড়েছে। যে দীর্ঘদিনের ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা রয়েছে, তা ঐকমত্যকে আরও কঠিন করে তুলেছে। এসব জটিলতা নিরসনের স্বার্থে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন রয়েছে। গতকাল রাজধানীর ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস-বিস) মিলনায়তনে আয়োজিত এক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারটির শিরোনাম ছিল ‘আস্থা পুনর্গঠন, আঞ্চলিক সংহতি নবায়ন : সার্ক পুনরুজ্জীবনের পথ’ এবং এটি বিআইআইএসএস-এর উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রাষ্ট্রদূত তারিক এ করিম। এই সেমিনারের সভাপতিত্ব করেন বিসের মহাপরিচালক, মেজর জেনারেল আ স ম রিদওয়ানুর রহমান। প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ড. নিলয় রঞ্জন বিশ্বাস এবং সাবেক অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (সার্ক ও বিমসটেক) মো. শামসুল হক। সেমিনারে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, সার্কের প্রতিষ্ঠাকালীন রূপকল্পটি স্পষ্ট ছিল এবং দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের চ্যালেঞ্জ ও আকাঙ্ক্ষাগুলো অভিন্ন। তাই তাদের একটি সাধারণ প্ল্যাটফর্ম বা অভিন্ন মঞ্চ প্রয়োজন, যার প্রয়োজনীয়তা আজও প্রাসঙ্গিক। এটি এখন আরও বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরও জানান, সার্ক গুরুতর চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে এবং শীর্ষ সম্মেলন প্রক্রিয়া থমকে আছে। রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি রয়েছে এবং আঞ্চলিক সমন্বয় প্রত্যাশিত পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি। বারবার দ্বিপক্ষীয় উত্তেজনা এবং অমীমাংসিত বিরোধ এ সংস্থার গতিশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। শামা ওবায়েদ বলেন, যদিও সার্ক রাজনৈতিকভাবে সীমাবদ্ধ, তবুও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে এটি এখনো প্রাসঙ্গিক। এর সনদ বহাল রয়েছে, সচিবালয়, বিশেষায়িত সংস্থা এবং আঞ্চলিক কেন্দ্রগুলো এখনো কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। এর আইনি কাঠামো, প্রযুক্তিগত নেটওয়ার্ক এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্মৃতিভান্ডার আমাদের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে। তবে, সার্কের চ্যালেঞ্জগুলি কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং প্রাতিষ্ঠানিকও। এ সংস্থার শক্তিশালী বাস্তবায়ন সক্ষমতা, অধিকতর আর্থিক শক্তি এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য একটি বাস্তবসম্মত সংস্কৃতি প্রয়োজন। তাই সার্কের পুনরুজ্জীবনের জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক। সেমিনারে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও হাইকমিশনার, সাবেক কূটনীতিক, বেসামরিক ও সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গণমাধ্যমকর্মী এবং নীতিনির্ধারণ-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন