প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ২ নভেম্বর, ২০২৬ (বাসস/এএফপি) : যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের শর্তগুলো মেনে নেয়, তাহলে তেহরান দুই দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। সোমবার এই তথ্য জানান ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই।
এএফপি থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, তিনি উল্লেখ করেন, ‘দুই দিনের মধ্যে এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা ইরানের সদিচ্ছাপূর্ণ অবস্থানের আরেকটি প্রমাণ।’
বাকাই আরও বলেন, ‘আমরা স্পষ্ট করে জানিয়েছি, যদি যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দাবিগুলো পূরণ করে, তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং আলোচনার প্রক্রিয়া আবার শুরু করা সম্ভব হবে।’
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে বার্তা বিনিময় অব্যাহত রয়েছে। তবে, ইরানের দাবিগুলো মেনে নেওয়ার সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে।
তিনি বলেন, ‘শুধু তখনই আমরা পরবর্তী ধাপগুলো নিয়ে আলোচনা করতে পারব।’
ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়ে আসছে।
ইরানের অনুমতি ছাড়া প্রণালিটি অতিক্রমের চেষ্টা করা জাহাজগুলোকে নিয়মিত লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করছে তেহরান। এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।
গত সেপ্টেম্বরে ইরান প্রথমে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করে, যা কাতারের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছানো হয়। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের দাবিগুলো মেনে নেয়, তাহলে ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা ছিল।
ইরানের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের সব রণাঙ্গনে যুদ্ধের অবসান, বিদেশে জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা, দেশটির তেল খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধের অবসান।
রোববার প্রকাশিত আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি বলেন, প্রণালিটি দিয়ে জাহাজ চলাচলের জন্য ইরান ও ওমানের মধ্যে সম্মত নতুন পথ যুক্তরাষ্ট্রকে মেনে নিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে আরোপ করা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং অঞ্চলটিতে মার্কিন সেনাসংখ্যা কমানোর পদক্ষেপও নিতে হবে ওয়াশিংটনকে।
আগস্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। ওয়াশিংটন এই পদক্ষেপকে ইরানের ওপর ‘অর্থনৈতিক শ্বাসরোধ’ নীতি হিসেবে বর্ণনা করেছে।
এদিকে, দুই দেশেই গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন সামনে রেখে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের ওপর নতুন করে হামলা চালানোর হুমকি জোরদার করেছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল।
শনিবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, মধ্য ইরানের পিকঅ্যাক্স পর্বতসহ এক বা দুটি লক্ষ্যবস্তু নিয়ে তাঁকে এখনো ‘ব্যবস্থা নিতে হবে’। স্থানটিকে সন্দেহভাজন পারমাণবিক স্থাপনা হিসেবে বিবেচনা করা হলেও তেহরান সেখানে এমন কোনো স্থাপনা থাকার কথা অস্বীকার করে আসছে।
সোমবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের আগ্রাসন বা সামরিক হামলা, যে পদ্ধতিতেই তা চালানো হোক না কেন, আমরা তার শক্তিশালী, তাৎক্ষণিক ও সর্বাত্মক জবাব দেব।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন