প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
স্কুলের সামনে বাণিজ্য মেলার দর্শনার্থীদের জন্য স্থাপিত গণশৌচাগার থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে শিক্ষার পরিবেশ অসহনীয় হয়ে ওঠার অভিযোগে বরিশাল নগরীর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা গণশৌচাগারের টিনের বেড়া ভেঙে দিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে স্কুল ছুটির পর এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে একই দাবিতে বুধবার মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছিল শিক্ষার্থীরা। তবে অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের পরও জেলা প্রশাসন কিংবা মেলা কর্তৃপক্ষ কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি।
ঘटनাস্থল নগরীর কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজ সংলগ্ন পরেশ সাগর মাঠ এলাকা। সম্প্রতি সেখানে মাসব্যাপী বাণিজ্য মেলা শুরু হয়েছে। মেলার দর্শনার্থীদের জন্য বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের কাছেই গণশৌচাগার নির্মাণ করা হয়। এতে শিক্ষার্থীরা চরম ভোগান্তির মুখে পড়ে।
জানা গেছে, নগরের ১৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত জিলা স্কুলের মালিকানাধীন পরেশ সাগর মাঠে বাণিজ্য মেলার আয়োজন করেছে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ। মাঠের পাশেই কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শ্রেণিকক্ষ এবং সেখান থেকে আনুমানিক ১০ গজ দূরে নির্মাণ করা হয় গণশৌচাগার।
শুধু কালেক্টরেট স্কুল নয়, আশপাশের আরও চার থেকে পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও পরেশ সাগর মাঠ ব্যবহার করে। খেলার মাঠে বাণিজ্য মেলা আয়োজন সরকারিভাবে নিষিদ্ধ দাবি করে মেলা বন্ধের আবেদন জানিয়ে হাইকোর্টে রিট করেন মানবাধিকারকর্মী রণি সিকদার। এর পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত মেলার ওপর অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।
ঈদুল আজহার দুই দিন আগে সরকারি ছুটির মধ্যে মেলার উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য মজিবর রহমান সরোয়ার, বিভাগীয় কমিশনারসহ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অতিথি করা হলেও তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না।
ঈদের ছুটি শেষে গত ৭ জুন বিদ্যালয়ে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হলে শিক্ষার্থীরা দুর্গন্ধজনিত সমস্যার মুখোমুখি হয়। তাদের অভিযোগ, গণশৌচাগার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল এবং আশপাশের পরিবেশও অসহনীয় হয়ে উঠেছিল।
এ অবস্থায় বুধবার নগরীর টাউন হলের সামনে মানববন্ধন করে কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীরা। কিন্তু এরপরও শৌচাগার অপসারণ না করায় বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পর শিক্ষার্থীরা শৌচাগারের টিনের বেড়া ভেঙে দেয়।
বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সাইমুন ইসলাম বলেন, “ঈদের পর স্কুলে এসে দুর্গন্ধের কারণে ক্লাস করা খুবই কষ্টকর হয়ে পড়ে। আমরা মানববন্ধনের মাধ্যমে শৌচাগার সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিলাম। কিন্তু কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় আজ আমরা এর প্রতিবাদ করেছি।”
কালেক্টরেট স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ অলিউল ইসলাম বলেন, “গণশৌচাগার থেকে ছড়িয়ে পড়া দুর্গন্ধে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছিল। বিষয়টি বরিশাল চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি এবায়দুল হক চাঁন এবং জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের পরিচালক জিএম আতায়ে রাব্বী বলেন, “বিষয়টি চেম্বারের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনের খবর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশের একদিনের মাথায় এ ঘটনা ঘটল। বর্তমানে শিক্ষার্থীদের দাবি, শিক্ষার পরিবেশ রক্ষায় অবিলম্বে বিদ্যালয়সংলগ্ন স্থান থেকে গণশৌচাগার সরিয়ে নিতে হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন