প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ এশিয়ায় পশুরোগ নজরদারি, রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার উন্নয়নকল্পে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদারের লক্ষ্য নিয়ে শ্রীলঙ্কার ক্যান্ডিতে সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম (এসএলডিএফ)-এর ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার এই সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির পরিচালকগণ, বিশেষজ্ঞ, এবং কারিগরি কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন।
সার্ক সচিবালয় এবং শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে এ সভার আয়োজন করেছে। এই সভার পূর্বে, ফোরামের পঞ্চম সভা ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে, শ্রীলঙ্কার প্রাণিসম্পদ উৎপাদন ও স্বাস্থ্য বিভাগের মহাপরিচালক ড. বি.এস.এস. পেরেরা উল্লেখ করেন, প্রাণিসম্পদ খাতের টেকসই উন্নয়ন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শক্তিশালী ও আধুনিক ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ ছাড়া, উদীয়মান এবং সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে।
সার্ক কৃষি কেন্দ্রে (এসএসি) সিনিয়র প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (লাইভস্টক) ড. মো. ইউনূস আলী বলেন, সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম, সদস্য দেশগুলোর মধ্যে জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বিনিময়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।
তিনি রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ডে সামঞ্জস্য আনা, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার ওপরও জোর দেন।
সার্ক সচিবালয়ের কৃষি, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং সার্ক ডেভেলপমেন্ট ফান্ড বিভাগের পরিচালক তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো অভিন্ন প্রাণিসম্পদজনিত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, তথ্য বিনিময় এবং একটি কার্যকর ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা অতীব গুরুত্বপূর্ণ।
ফোরামের চেয়ারম্যান এবং নেপালের প্রতিনিধি ড. বরুণ শর্মা সভার উদ্বোধন ঘোষণা করে সদস্য দেশগুলোর জাতীয় ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরির মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি রোগ নির্ণয় সক্ষমতা বৃদ্ধি, জৈবঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও কারিগরি দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
সভায় সার্ক ল্যাবরেটরি ডিরেক্টরস ফোরাম এবং সার্ক চিফ ভেটেরিনারি অফিসার্স ফোরামের পূর্ববর্তী সুপারিশসমূহের বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া, ল্যাবরেটরি পরিচালকদের সক্ষমতা উন্নয়ন ও নেটওয়ার্কিং কাঠামো, আঞ্চলিক কারিগরি উপদেষ্টা গ্রুপ (ল্যাব-ট্যাগ)-এর খসড়া কার্যপরিধি, এবং সদস্য দেশগুলোর ল্যাবরেটরি সক্ষমতা, রোগ নির্ণয়, গুণগত মান নিশ্চিতকরণ ও জৈবঝুঁকি ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দেশভিত্তিক উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়।
দক্ষিণ এশিয়ায় ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি ব্যবস্থার উন্নয়নে আঞ্চলিক অগ্রাধিকার নির্ধারণ, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা, ল্যাবরেটরি নেটওয়ার্কিং, রোগ নির্ণয়ের মানদণ্ডের সামঞ্জস্যতা, সক্ষমতা উন্নয়ন এবং বিশ্ব প্রাণিস্বাস্থ্য সংস্থা (WOAH) ও জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (FAO)-এর সঙ্গে অংশীদারত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
দিনব্যাপী আলোচনা শেষে, আঞ্চলিক ভেটেরিনারি ল্যাবরেটরি সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার পাশাপাশি সীমান্ত অতিক্রমকারী পশুরোগ মোকাবিলায় সদস্য দেশগুলোর প্রস্তুতি, সমন্বয় ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একটি সুপারিশমালা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন