প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ফরিদপুরে সমাজসেবা অধিদপ্তরের অধীনে একটি সরকারি শিশু পরিবারে (বালিকা) ষষ্ঠ শ্রেণির এক কিশোরী (১৪) অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার চাঞ্চল্যকর একটি ঘটনা ঘটে গেছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলার একমাত্র আসামি মো. ওয়াহিদ শেখকে (৫৪) পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। অন্যদিকে, দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে ওই শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার হওয়া ওয়াহিদ শেখ সদর উপজেলার আদমপুর গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজ শেখের ছেলে। তিনি ওই শিশু পরিবার সংলগ্ন স্থানীয় বাজারে একটি দর্জি দোকানের মালিক।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ভুক্তভোগী কিশোরী শহরের টেপাখোলা এলাকার একটি স্কুলে ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। শিশু পরিবার থেকে স্কুলে যাতায়াত করার সুবাদে গত ৫ জানুয়ারি বিকালে দর্জি দোকানদার ওয়াহিদ শেখ তাকে চকলেট দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রথমবার ধর্ষণ করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে মেয়েটিকে একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হতে হয়। সম্প্রতি শারীরিক জটিলতা দেখা দিলে, গত ৬ জুলাই শিশুটিকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসক জানান, কিশোরীটি ২৭ সপ্তাহ দুই দিনের অন্তঃসত্ত্বা।
ঘটনার জ্ঞাত হওয়ার পর, ফরিদপুর সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক ও শিশু নিবাসের তত্ত্বাবধায়ক মোহাম্মদ আরিফ হোসেন বাদী হয়ে গত ৬ জুলাই ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ গত ৮ জুলাই অভিযুক্ত ওয়াহিদ শেখকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠিয়েছে।
ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুল হাসান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মামলা দায়েরের পর পরই পুলিশ তার দায়িত্ব পালন করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের আশ্রিত কিশোরীর সুরক্ষায় এমন চরম ব্যর্থতার দায়ে কর্তৃপক্ষ কড়া পদক্ষেপ নিয়েছে। সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ-সচিব ও পরিচালক (প্রশাসন ও অর্থ) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দায়িত্ব অবহেলার অভিযোগে শিশু পরিবারের পাঁচ কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে গত ৮ জুলাই সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।
জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. এহিয়াতুজ্জামান জানান, আদালতের নির্দেশ মোতাবেক বর্তমানে ভুক্তভোগী কিশোরীটিকে নিরাপদ হেফাজতে রাখা হয়েছে সমাজসেবা বিভাগের অধীনে নারী ও শিশু-কিশোরী মহিলা হেফজতিদের আবাসন কেন্দ্রে। সেখানে তাকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের দেখভাল ও চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন