প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
পরিবার নিয়ে শিগগিরই ব্রিটেনে ফিরে আসছেন প্রিন্স হ্যারি। এর মাধ্যমে তার ঘটনাবহুল জীবনে একটি নতুন অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। রাজপরিবারের সঙ্গে বিরোধ, নিরাপত্তা নিয়ে আইনি লড়াই এবং ব্রিটিশ ট্যাবলয়েডগুলোর বিরুদ্ধে মামলা—এই সব মিলিয়ে তার প্রত্যাবর্তন একসময় ছিল অকল্পনীয়।
৪১ বছর বয়সী হ্যারি দীর্ঘদিন ধরে রাজপরিবারের কঠোর নিয়ম-কানুনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারেননি। তাকে একসময় ‘রাগী তরুণ’ ও ‘প্লেবয় প্রিন্স’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। সেই পরিচয় ভুলে গিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি নিজের ঘনিষ্ঠ আত্মীয়দের সঙ্গেও বিরোধে জড়িয়ে পড়েন।
লন্ডন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই খবর দিয়েছে। ছয় বছর আগে স্ত্রী মেগান মার্কেলকে সাথে নিয়ে ব্রিটেন ছেড়ে ক্যালিফোর্নিয়ায় চলে গিয়েছিলেন হ্যারি। এবারে দেশে ফিরে এসেও সিংহাসনের উত্তরাধিকারী বড় ভাই উইলিয়াম ও তার স্ত্রী প্রিন্সেস ক্যাথরিনের সঙ্গে তার সম্পর্ক এখনো স্বাভাবিক হয়নি।
তবে, ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইরত বাবা রাজা তৃতীয় চার্লসের সাথে হ্যারির সম্পর্কের উন্নতি ঘটেছে এমন ধারণা করা হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রে স্বেচ্ছানির্বাসনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফেরার পর পারিবারিক সম্পর্ক কতটা পুনর্গঠিত হবে, সেই বিষয়ে এখন নানা প্রশ্ন উঠছে।
রাজপরিবারের ইতিহাসবিদ এড ওওয়েন্স এএফপিকে বলেছেন, ‘আমি মনে করি, এই ফিরে আসার অন্যতম কারণ হলো রাজা এবং বৃহত্তর রাজপরিবারের সঙ্গে সম্পর্ক পুনঃস্থাপন।’
তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘যদি সেই ক্ষতগুলো সারিয়ে তোলা না যায়, তাহলে শুধু সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ওপর নয়, বরং এই প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তির ওপরও মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।’
এই বিরোধ রাজপরিবারের ভাবমূর্তির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। রাজপরিবারকে বর্ণবাদ ও নিপীড়নের মতো বিভিন্ন অভিযোগের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ফলে, ব্রিটেনের তরুণ ও বৈচিত্র্যময় নতুন প্রজন্মের কাছে রাজপরিবারের গ্রহণযোগ্যতা কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্রিটেনে হ্যারি এবং মিশ্র বর্ণের মেগানের ভাবমূর্তি অত্যন্ত বিভাজন সৃষ্টি করেছে। বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা গেছে, কেলেঙ্কারিতে জর্জরিত হ্যারির চাচা সাবেক প্রিন্স অ্যান্ড্রু ছাড়া অন্য কোনো রাজপরিবারের সদস্যের তুলনায় তাদের নিয়ে নেতিবাচক মত বেশি।
রাজপরিবারবিষয়ক বিশেষজ্ঞ রিচার্ড ফিটজউইলিয়ামস এএফপিকে বলেন, ‘ব্রিটেনে আস্থা কম থাকার বিষয়টি তাদের মেনে নিতে হবে। কারণ তাদের ব্রিটেন এবং রাজপরিবার সম্পর্কে বেশ কিছু কঠোর মন্তব্য করেছে।’ একসময় হ্যারি ব্রিটেনের অন্যতম জনপ্রিয় রাজপরিবারের সদস্য ছিলেন। সামরিক বাহিনী এবং দাতব্য কর্মকাণ্ডে তিনি ছিলেন অগ্রগামী। তার উজ্জ্বল লাল চুল ও বিদ্রোহী স্বভাব তাকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছিল।
কিন্তু শৈশবে মা প্রিন্সেস ডায়ানাকে হারানোর বেদনাদায়ক ঘটনার গভীর আঘাতের ছায়া দীর্ঘ সময় ধরে তার জীবনে ছিল। ২০১৭ সালে ‘দ্য টেলিগ্রাফ’কে তিনি বলেছিলেন, ‘গত ২০ বছর ধরে আমার সব আবেগ বন্ধ করে রাখার বিষয়টি শুধু আমার ব্যক্তিগত জীবনেই নয়, বরং কাজেও গুরুতর প্রভাব ফেলেছে।’
হেনরি চার্লস অ্যালবার্ট ডেভিড ১৯৮৪ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর সিংহাসনের উত্তরাধিকারী তালিকায় তৃতীয় হিসেবে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৭ সালে মায়ের কফিনের পেছনে মাথা নিচু করে পাথরের মতো মুখে হাঁটা ১২ বছর বয়সী হ্যারির ছবি বিশ্বজুড়ে মানুষের সহানুভূতি জিতেছিল।
তিনি অভিজাত আবাসিক স্কুল ইটনে পড়াশোনা করেন। পরে তিনি জানান, সেখানে থাকাকালে বড় ভাই উইলিয়াম তাকে উপেক্ষা করতেন বলে তিনি কষ্ট পেয়েছিলেন। পরে হ্যারি অস্ট্রেলিয়া ও আফ্রিকায় এক বছর অবকাশ কাটিয়েছিলেন। লেসোথোতে অনাথ শিশুদের দেখাশোনা করেছেন এবং সেখানে তিনি ডায়ানার স্মরণে একটি দাতব্য সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন।
মানসিক আঘাত বিষয়ক বিশেষজ্ঞ গ্যাবর মাতে চলতি সপ্তাহে বিবিসিকে বলেছেন, ‘তার শৈশব খুব কঠিন ছিল।’ তিনি বলেন, ‘সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিল।’ এ সময় তিনি পরিবারে ‘আবেগগত ঘনিষ্ঠতার অভাবের’ কথাও উল্লেখ করেছেন।
লম্বা এবং ক্রীড়াবিদ হ্যারি রাগবি ও পোলো খেলতে পছন্দ করেন এবং তিনি এক দশক সামরিক বাহিনীতে কাজ করেছেন। এর মধ্যে সে দুই দফা আফগানিস্তানে দায়িত্ব পালন করে এবং একবার হেলিকপ্টার পাইলট হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১৫ সালে তিনি সামরিক বাহিনী ছাড়েন।
তার আগের বছর, ২০১৪ সালে, হ্যারি আহত সেনাসদস্যদের জন্য আন্তর্জাতিক ইনভিক্টাস গেমস প্রতিষ্ঠা করেন। এখনও প্রতি বছর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। ২০১৮ সালে উইন্ডসর ক্যাসেলে হ্যারি ও মেগানের রূপকথার মতো বিয়ের অনুষ্ঠান সারা বিশ্বে সম্প্রচারিত হয়েছিল। এরপর তাদের উইলিয়াম ও কেটের সঙ্গে ‘ফ্যাব ফোর’ হিসেবে রাজপরিবারের ভবিষ্যৎ পুনরুজ্জীবনের সম্ভাবনা দেখা যায়। পরবর্তী বছর তাদের ছেলে আর্চির জন্ম হয়।
কিন্তু ২০২০ সালের শুরুতেই তাদের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা প্রকাশ্যে আসে। ওই সময় হ্যারি ও মেগান ব্রিটেন ও রাজপরিবারের কর্মরত সদস্য হিসেবে দায়িত্ব ছেড়ে দেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন