প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজারের দরিয়ানগরে অবস্থিত চট্টগ্রাম ভেটেনারী ও প্রাণী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ে কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল, যেখানে ১৩ শ্রমিক মাটি কাটছিলেন। ঈদের ছুটির শেষে কাজে ফিরে আসার মাত্র চার দিনের মাথায় ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে হঠাৎ করে মাটি ধসে চাপা পড়েন তিন শ্রমিক। সহকর্মীরা তৎক্ষণাৎ উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও দুজন শ্রমিকের প্রাণ রক্ষা সম্ভব হয়নি। গুরুতর আহত আরেক শ্রমিককে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যে কারণে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে তা হলো অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার প্রক্রিয়া।
শ্রমিকরা জানান, পাহাড়ি অঞ্চলে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য গত দুই মাস ধরে ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। ঈদের কারণে কাজ কয়েকদিন বন্ধ ছিল, তারপর সোমবার থেকে আবার কাজে ফিরলেন শ্রমিকরা। মোট ১৩ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন তবে মাটি কাটার কাজে নিয়োজিত ছিলেন তিনজন। দুপুরের দিকে হঠাৎ মাটি ধসে পড়ে তাদের ওপর চাপা পড়েন। সঙ্গে সঙ্গে অন্য শ্রমিকরা চিৎকার করতে থাকেন, এবং তারা দ্রুত সাড়া দিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে মাটিচাপা অবস্থায় তিন শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে দেখা যায় যে, দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত একজনকে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে চট্টগ্রামে।
নিহত শ্রমিকদের মধ্যে একজন হলো চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার জাফর আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ ইলিয়াস এবং অপরজন নাসির আহমেদের ছেলে মোহাম্মদ রাকিব।
আহত শ্রমিক মোহাম্মদ শাহজাহান একই উপজেলার বাসিন্দা।
প্রত্যক্ষদর্শী শ্রমিক মোহাম্মদ রিদুয়ান বলেন, ‘ঈদের আগে ৬দিন কাজ করেছি। এরপর ঈদের ছুটি কাটিয়ে আমরা বাড়িতে গিয়েছিলাম। তখন সোমবার থেকে কাজ শুরু করি। বৃহস্পতিবার সকালে আমরা বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছিলাম। হঠাৎ শুনি পেছন থেকে একপাশের মাটি ধসে পড়েছে এবং কয়েকজন শ্রমিক চাপা পড়ে গেছে। আমরা দ্রুত চিৎকার করে সবাইকে ডাকলাম। অনেকে আগেও আসলেন এবং দ্রুত মাটি সরিয়ে তাদের উদ্ধার করি।’
শ্রমিক মোহাম্মদ হামিদ বলেন, ‘কাজ করার সময় হঠাৎ ওপর থেকে মাটি ধসে পড়ে। তখন অন্তত কয়েকজন একটু দূরে ছিলাম। যারা মাটি কাটছিলেন, তাদের মধ্যে তিনজন মাটিচাপা পড়েন। ঘটনাস্থলে আরও ১০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। আমরা এসে দ্রুত তাদের উদ্ধারে হাত লাগালাম।’
এদিকে, পানি চলাচলের ছড়ার ওপর ড্রেন ও কালভার্ট নির্মাণের কাজ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান লাকি এন্টারপ্রাইজ। দুই মাস ধরে প্রকল্পটির কাজ চলছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে দাবী করা হয়েছে, পাহাড় ধস নয়, কালভার্ট নির্মাণের সময় মাটি কাটার কারণেই দুর্ঘটনা ঘটে।
চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও প্রাণী বিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী ইমাম হোসেন উল্লেখ করেন, ‘এখানে মূলত একটি পুরোনো লোহার ছাকুনি (কালভার্ট কাঠামো) পরিবর্তন করে নতুন কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। এটি কোনো পাহাড় কাটার কাজ নয়। কালভার্ট নির্মাণের জন্য মাটি খননের সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন দ্রুত আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কাজটি ঠিকাদারের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হচ্ছিল।’
লাকি এন্টারপ্রাইজের ম্যানেজার আব্দুর রহমান মজুমদার বলেন, ‘সড়কের নিচে পুরোনো কালভার্টের পরিবর্তে নতুন একটি কাঠামো নির্মাণের কাজ চলছিল। এ প্রকল্পের জন্য নিয়ম অনুযায়ী টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কাজটি আমাদের প্রতিষ্ঠান পেয়েছে। নির্মাণকাজে স্থানীয় এলাকার শ্রমিকরাই নিয়োজিত ছিলেন। কাজ চলাকালে দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।’
মাটি ধসের ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ। তবে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই শ্রমিক ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্টরা চলে যান। ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর ফায়ার সার্ভিস জানায়, অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।
কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন বলেন, দরিয়ানগর এলাকায় একটি কালভার্ট নির্মাণকাজ চলছিল। কাজের একটি পর্যায়ে মাটি ধসে তিন শ্রমিক মাটির নিচে চাপা পড়ে। পরে ঘটনাস্থলে থাকা অন্যান্য শ্রমিকরা তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান। প্রাথমিকভাবে দেখা গেছে, কালভার্টের জন্য মাটি কাটার সময় ওপরের অংশ থেকে মাটি ধসে পড়ে শ্রমিকদের ওপর, এবং তারা মাটিচাপা পড়েন। অপরিকল্পিতভাবে মাটি কাটার কারণেই ঘটে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন