প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দক্ষিণ ফিলিপাইনে এক ভয়াবহ ৭.৮ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে একটি বৃদ্ধার সাহসিকতা এবং ভালোবাসার একটি দৃশ্য বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, তীব্র ঝাঁকুনির সময় যখন সবকিছু কাঁপছিল, তখন এক বৃদ্ধা তার নাতিকে নিজের বুকে টেনে নিয়ে শক্ত করে আগলে ধরেন।
ভিডিওটি প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই নেটিজেনরা তাকে “সুপারহিরো দাদি” হিসেবে অভিহিত করছেন। বিপদের মুহূর্তে কোনো দ্বিধা ছাড়াই শিশুটিকে রক্ষা করার এই দৃশ্যটিকে অনেকে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও মানবিকতার সবচেয়ে শক্তিশালী উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করছেন।
ভূমিকম্পের সময় ওই বৃদ্ধার মুখে আতঙ্ক থাকলেও, তার শরীরের ভাষা স্পষ্টই বলে দেয় যে, তার একমাত্র অগ্রাধিকার ছিল নাতির জীবন রক্ষা করা। মুহূর্তের মধ্যে তিনি শিশুটিকে বুকের ভেতর ঢেকে ফেলেন, যেন নিজ শরীরকেই ঢাল বানিয়ে ফেলেছেন সেই ভয়াবহ দুর্যোগের বিরুদ্ধে।
Magnitude 7.8 earthquake in the Philippines today.
— Anonymous (@YourAnonNews) June 8, 2026
CCTV footage of a grandmother trying to protect her grandchild during the earthquake.
This happened 4-6 hours ago. pic.twitter.com/vkXNUXkpzi
ভিডিওটি সোশ্যাল মিডিয়াতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। একজন ব্যবহারকারী মন্তব্য করছেন, “কী ভয়াবহ ভূমিকম্প! আশা করি সবাই নিরাপদ আছেন।”
আরেকজন মন্তব্য করেন, “নিজে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি না হলে বোঝা যায় না, তিনি কী করেছেন। এটা বোকামি নয়, এটা ছিল মুহূর্তের সেরা সিদ্ধান্ত।”
আরও একজন লিখেছেন, “এই ভিডিওটা সরাসরি দেখলে বোঝা যায় ৭.৮ মাত্রার ভূমিকম্প কতটা ভয়াবহ। এমন সময়ে তার প্রতিক্রিয়া সত্যিই শ্রদ্ধার যোগ্য।”
সোমবার (৮ জুন), স্থানীয় সময় ভোরে ফিলিপাইনের সারাঙ্গানি প্রদেশের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২.৪ মাইল) দূরে এই শক্তিশালী ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর প্রভাব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং তীব্র কম্পন অনুভূত হয় পুরো মিন্দানাও অঞ্চলের জুড়ে। শুধু তাই নয়, ৪২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ইন্দোনেশিয়ার সুলাওয়েসি দ্বীপের মানাদো শহরেও ভূমিকম্পের কম্পন স্পষ্টভাবে টের পাওয়া যায়।
অঞ্চলটি ভূতাত্ত্বিকভাবে প্রশান্ত মহাসাগরীয় “রিং অব ফায়ার”-এর অংশ হওয়ায় এখানে ভূমিকম্প তুলনামূলকভাবে বেশি ঘটে।
ভূমিকম্পের পরপরই ফিলিপাইনসহ বেশ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কবার্তা জারি করা হয়, উপকূলীয় এলাকাগুলোর জন্য বাড়তি সতর্কতা গ্রহণ করা হয় এবং লোকজনকে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, এই ভূমিকম্পে অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে এবং হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন