প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
রাশিয়া শনিবার ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, গ্লাইড বোমা এবং ড্রোন দিয়ে একটি নতুন বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এই হামলায় অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
কয়েক ডজন মানুষ আহত হয়েছেন। এ তথ্য ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হামলার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশের প্রতিরক্ষা শক্তি জোরদার করতে মিত্র দেশগুলোর কাছ থেকে আরো দ্রুত অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করা আবশ্যক। এজন্য কূটনৈতিক তৎপরতা আরো বাড়ানোর জন্য তিনি আহ্বান করেছেন।
বর্তমানে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ব্যবহৃত গোলাবারুদে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ এখন দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। নতুন সরবরাহের জন্য কিয়েভ অপেক্ষা করছে।
রাশিয়া ইউক্রেনের উত্তরাঞ্চলের সীমান্তবর্তী সুমি শহরের একটি ব্যস্ত এলাকায় দুটি গ্লাইড বোমা নিক্ষেপ করে। এতে পাঁচজন নিহত হয়েছেন এবং ৩০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি বোমা একটি বাসস্টপে আঘাত হানে। প্রকাশিত ছবিতে দেখা যাচ্ছে, একটি হলুদ বাসের এক পাশ সম্পূর্ণ ছিঁড়ে গেছে। অন্য ছবিতে একটি আবাসিক ভবনের সামনের অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আরও একজন পুরুষ সুমি অঞ্চলের একটি সীমান্তবর্তী জেলায় বিস্ফোরক যন্ত্রে পা পড়ে নিহত হয়েছেন, জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ গ্লাইড বোমা হামলায় অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন বলে আঞ্চলিক গভর্নর জানিয়েছেন। অন্যদিকে, দক্ষিণের বন্দরনগরী ওডেসায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় দুজন নিহত এবং একজন আহত হয়েছেন। পূর্বাঞ্চলের খারকিভ শহরের একটি বেসামরিক প্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলায় সাতজন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
রাতের ভিডিও বার্তায় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেনের মিত্রদের সঙ্গে সহযোগিতা আরো জোরদার করতে হবে, দয়া করে অস্ত্র সরবরাহের চুক্তিগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হোক। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেনের কূটনৈতিক উদ্যোগে পরিবর্তন আনা হবে এবং অস্ত্র সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য অংশীদার দেশগুলোর সাথে নতুন মাত্রার সমন্বয় গড়ে তোলা হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশের নেতাদের মধ্যে যেসব প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেগুলো দ্রুত এবং পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি বলেন, চলতি সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হওয়া একটি সমঝোতার আওতায় ইউক্রেনের জন্য নিজস্ব প্যাট্রিয়ট প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির লাইসেন্স পাওয়ার কথা রয়েছে। দুর্ভাগ্যবশত, সেই চুক্তিও দ্রুত কার্যকর হওয়া প্রয়োজন। ইউক্রেন জানিয়েছে, তাদের প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার গোলাবারুদ বর্তমানে খুবই সীমিত। গত এক মাসে রাশিয়ার ছোড়া বেশিরভাগ উচ্চগতির ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হয়নি। এই কারণেই কিয়েভ মিত্র দেশগুলোর কাছে আরো অধিক আকাশ প্রতিরক্ষা গোলাবারুদ চেয়েছে। একই সাথে ইউরোপীয় দেশগুলোর সাথে যৌথভাবে নিজস্ব ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরির আহ্বান নিয়ে এসেছে।
শনিবার রাতেই কিয়েভে রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনের দ্বারা হামলা চালায়। এতে অন্তত ১২ জন আহত হন। হামলার পর জেলেনস্কি বলেন, বিমান হামলার সতর্কবার্তা জারির আগে বেসামরিক অবকাঠামোতে আঘাত করা হয়েছে। তিনি জানান, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনী নষ্ট হওয়া বেশিরভাগ লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, ওডেসা, খারকিভ ও সুমিতে দিনের হামলার আগে রাতেই রাশিয়া ছয়টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, ছয়টি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২১টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। এসব হামলার অন্যতম লক্ষ্য ছিল রাজধানী কিয়েভ। বিমান বাহিনীর দাবি, তারা অন্তত দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১১১টি ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হয়েছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে কিয়েভে হামলার মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। চলতি মাসেই রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় রুশ হামলায় ৬০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইউক্রেনও দক্ষিণে রাশিয়ার দখলকৃত অঞ্চলে তাদের সামরিক রসদ সরবরাহ ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর প্রধান রবার্ট ব্রোভদি জানান, তাঁর ইউনিট এক রাতেই আজভ সাগরে ২১টি জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। পাশাপাশি সাতটি পণ্যবাহী ও সহায়ক জাহাজেও তারা হামলা করেছে। তাঁর দাবি, চলতি সপ্তাহে মোট ৭৬টি জাহাজ ইউক্রেনের ড্রোন হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে। জেলেনস্কি বলেছেন, এসব ড্রোন অভিযানের উদ্দেশ্য হল রাশিয়ার উপর চাপ সৃষ্টি করিয়ে তাকে আলোচনার টেবিলে ফিরিয়ে আনা। তবে এখন পর্যন্ত রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তার অবস্থান পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেননি। এদিকে রাশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আজভ সাগরের তাগানরগ উপসাগরে মিথানল বহনকারী একটি ট্যাংকারসহ চারটি জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় একজন নিহত হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন