প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের অতিদরিদ্র এবং সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, পুনর্বাসন ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকার বহুমুখী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। সংসদের অধিবেশনে তিনি বিরোধীদলীয় সদস্য মো. মোক্তার আলী (যশোর-৬)-এর লিখিত প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেন।
মন্ত্রী জানান, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বিভিন্ন পুনর্বাসন ও সামাজিক উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার লক্ষ্য অতিদরিদ্র জনগণের উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া। এছাড়াও, তিনি বলেন, পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কর্মসূচির মাধ্যমে ভূমিহীন ও দরিদ্র গ্রামীণ জনগণের জন্য আয়বর্ধক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হওয়ার অভিপ্রায় নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্য, স্যানিটেশন, প্রাথমিক শিক্ষা, সাক্ষরতা, পরিবার পরিকল্পনা, বাল্যবিবাহ, যৌতুক ও নারী-শিশু পাচার প্রতিরোধে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মন্ত্রী আরও বলেন, পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি) কর্মসূচির আওতায় সুবিধাবঞ্চিত ও নিম্নআয়ের গ্রামীণ নারীদের সঞ্চয়ে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, এবং স্থানীয় চাহিদাভিত্তিক বিভিন্ন পেশাগত প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। এই প্রশিক্ষণের মধ্যে রয়েছে বাঁশ ও বেতশিল্প, সূচিশিল্প, গবাদিপশু মোটাতাজাকরণ, মৎস্যচাষ, হাঁস-মুরগি পালন, নার্সারি ব্যবস্থাপনা, পাটজাত পণ্য উৎপাদন, নকশিকাঁথা, কাঠের হস্তশিল্প, জাল বুনন ও ক্ষুদ্র ব্যবসা ব্যবস্থাপনা।
বৃহত্তর সামাজিক উন্নয়নের জন্য নগর সমাজ উন্নয়ন (ইউসিডি) কর্মসূচি দেশের সব সিটি করপোরেশন ও জেলা সদর পর্যায়ের ৮০টি নগর সমাজসেবা কার্যালয়ের মাধ্যমে কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে। এই প্রকল্পের আওতায় দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ, কমিউনিটি সংগঠিতকরণ এবং সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে সমন্বয়ের ভিত্তিতে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়ন করা হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, ২০০২-০৩ অর্থবছর থেকে সরকারি অর্থায়নে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে দগ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কর্মসূচি চালিয়ে আসা হচ্ছে। এই কর্মসূচির আওতায় উন্নত চিকিৎসা, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং আত্মকর্মসংস্থানের জন্য সুদমুক্ত ক্ষুদ্রঋণ দেওয়া হচ্ছে। মো. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশের ৪৯৫টি উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয় ও ৮০টি নগর সমাজসেবা কার্যালয়সহ মোট ৫৭৫টি কার্যালয়ের মাধ্যমে এই কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
মন্ত্রী জানান, পরিবারভিত্তিক জরিপের মাধ্যমে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী উপযুক্ত উপকারভোগীদের চিহ্নিত করে আয়বর্ধক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা পর্যায়ে বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারীদের ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তি, বেদে, হিজড়া ও চা-শ্রমিকসহ অনগ্রসর জনগণের জীবনমান উন্নয়ন, ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকজনিত পক্ষাঘাত, জন্মগত হৃদরোগ ও থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের আর্থিক সহায়তা, ভিক্ষুক পুনর্বাসন, হাসপাতাল সমাজসেবা এবং অন্যান্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
অশিক্ষিত ও বেকার দরিদ্র যুবকদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে টেকসই কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সমাজসেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে চাহিদাভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা হচ্ছে। সমাজকল্যাণ মন্ত্রী বলেন, নগর সমাজসেবা কর্মসূচির আওতায় ব্যবসা ও স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠার জন্য ১০ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ সফলভাবে সম্পন্নকারীরা সর্বাধিক ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
মন্ত্রী জাহিদ হোসেন জানান, নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন জোরদারের লক্ষ্যে ঢাকার মিরপুর ও রংপুরের শালবনে অবস্থিত দুটি আর্থসামাজিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে চামড়াজাত পণ্য, ব্লক-বাটিক, দর্জির কাজ, সূচিশিল্প, বিউটি কেয়ার, গার্মেন্টস উৎপাদন, বাঁশ ও বেতশিল্প সহ বিভিন্ন বিষয়ে কারিগরি প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য হল শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা, যাতে তারা সামাজিক ভাতার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়ে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সামাজিক উন্নয়নে কার্যকর অবদান রাখতে পারেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন