প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে হারের পর ড্রেসিংরুমের পরিবেশ ও নেতিবাচক প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছেন।
এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে হারের পর দেশে ফেরার সময় দলের ভেতরের অস্থিরতা নিয়ে কথা বলেছেন প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান। বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব ছাড়ার সময় নিগার সুলতানা জানিয়েছিলেন, নিজের ব্যাটিংয়ে মনোযোগ দিতেই এই সিদ্ধান্ত। তবে, এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে হেরে পদকশূন্য হয়ে দেশে ফেরার পর দলের পরিস্থিতি নিয়ে মুখ খুলেছেন তিনি।
নিগার টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্ব চালিয়ে যেতে আগ্রহী ছিলেন না। একই সময়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড কোচিং স্টাফে পরিবর্তনের পরিকল্পনা করছে—এমন খবরও সামনে এসেছে। ইমরানের জায়গায় ডেভিড হেম্পকে প্রধান কোচ করার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ব্যাটিং কোচ নাসিরউদ্দিন ফারুককেও সরিয়ে হেম্পকে ব্যাটিং বিভাগের দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানের কাছে হারের পর দলের পরিস্থিতি নিয়ে ইমরান বলেন, “আমাদের ব্যর্থতার প্রধান দায়িত্ব কার—তা আপনারা আমার চেয়ে ভালো জানেন। যেভাবেই বিষয়টি দেখেন না কেন, প্রশ্নটা আমাকে করা হচ্ছে! আগে আমরা এমন অবস্থায় ছিলাম না। আমরা বিশ্বকাপে খেলেছি সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিস্থিতিতে। এখন হঠাৎ সবকিছু বদলে গেছে।”
ইমরান মনে করেন, বাংলাদেশের সমস্যার শুরু এশিয়া কাপ থেকেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাছাকাছি ব্যবধানে হারের পর থেকেই দলের চারপাশে নানা প্রতিবেদন ও গুঞ্জন ছড়াতে থাকে। তিনি বলেন, “আমাদের সমস্যা আসলে এশিয়া কাপ থেকেই শুরু। সেখানে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে কাছাকাছি একটি ম্যাচ হেরেছিলাম। এরপর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে নানা ধরনের প্রতিবেদন ও গুঞ্জন আসতে থাকে। এমন অবস্থায় ইন্দোনেশিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দলের বিপক্ষে আমরা ১২০-১৩০ রান করতে পারিনি। সেই একই ধাক্কা আমরা এশিয়ান গেমসেও বয়ে এনেছি।”
নেতিবাচক খবর দলের খেলোয়াড়দের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করেন ইমরান। তিনি বলেন, “এ ধরনের বিষয় দল ও খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করতে পারে। আমি পুরোপুরি নিশ্চিত নই, তবে এটি অন্যতম কারণ হতে পারে। কোনো অজুহাত নয়, কিন্তু এটি একটি কারণ হতে পারে। আমরা নিজেদের ছন্দ খুঁজে পাচ্ছি না, সেই পর্যায়ে পৌঁছাতে পারছি না।”
দলের ব্যর্থতার মধ্যে কোচ ও অধিনায়ককে নিয়ে ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার খবর প্রকাশ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন ইমরান। তিনি বলেন, “ধরুন, বলা হচ্ছে আমাকে রাখা হবে না, তাকেও রাখা হবে না। একটি টুর্নামেন্ট চলাকালে এমন কথা হচ্ছে। আমরা টুর্নামেন্ট খেলছি। এর মাঝখানে আপনি প্রধান কোচ ও অধিনায়ককে এক পাশে সরিয়ে রাখলেন, এরপর কীভাবে ফল আশা করবেন?”
ইমরান জানান, আগামী অক্টোবরে তাঁর দুই বছরের চুক্তি শেষ হচ্ছে। তিনি বলেন, “আমার দুই বছরের চুক্তি অক্টোবরেই শেষ হচ্ছে। তাই আমারও কোনো প্রত্যাশা নেই।”
নিগারের অধিনায়কত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও ইমরান বলেন, ব্যক্তিগত পর্যায়ে সমালোচনা খেলোয়াড়দের প্রভাবিত করে। তিনি বলেন, “নেতিবাচক প্রতিবেদনগুলো সামনে আসার পরই অধিনায়ক টি-টোয়েন্টির নেতৃত্ব চালিয়ে না যাওয়ার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।”
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেটের পিছিয়ে থাকার বড় কারণ হিসেবে অবকাঠামোগত ঘাটতির কথাও তুলে ধরেছেন ইমরান। তিনি বলেন, “নারী ক্রিকেট এখনো প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরি করতে পারেনি।”
ইমরান বলেন, “তারা (নারী ক্রিকেট) অবশ্যই আটকে আছে। আর এটি অনেক বড় একটি বিষয়। বাইরে থেকে দেখলে—সাংবাদিকসহ অনেকেই হয়তো ভাবেন, একটি দল শুধু নেটে অনুশীলন করে মাঠে গিয়ে খেলে। কিন্তু বিষয়টি এমন নয়। এর পেছনে একটি পুরো প্রক্রিয়া রয়েছে।”
শ্রীলঙ্কার উদাহরণ দিয়ে ইমরান বলেন, সেখানে স্কুল ক্রিকেটে শত শত মেয়েদের স্কুল প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। বাংলাদেশে এমন কাঠামো নেই বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, “নতুন খেলোয়াড় উঠে আসছে না। একটি স্কোয়াড ডাকতে গেলেই আমরা মোটামুটি ৩০ জন খেলোয়াড় খুঁজে পাই। তাই ভিত্তিগত বিষয়গুলোতে নজর দিতে হবে। স্কুল ক্রিকেট, অনূর্ধ্ব-১৮, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট এবং নারীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ সুবিধা প্রয়োজন। এখন এগুলোর কোনোটিই যথেষ্টভাবে নেই। এগুলো তৈরি হলেই নতুন প্রতিভা উঠে আসতে শুরু করবে।”
নারী ক্রিকেটের অবকাঠামোগত সমস্যা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে বলে মনে করেন ইমরান। তিনি জানান, নাসিরউদ্দিন ফারুক দায়িত্ব নেওয়ার পর নারী দলকে পুরুষ দলের মতোই গুরুত্ব দেওয়ার চেষ্টা দেখতে পাচ্ছেন।
ইমরানের আশা, স্কুল ক্রিকেট চালু, অনূর্ধ্ব-১৮ কার্যক্রম, নারী হাই পারফরম্যান্স ক্যাম্প এবং আলাদা প্রশিক্ষণ সুবিধা চালু করা গেলে এক বছরের মধ্যে ভারত, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার মতো অবস্থায় যেতে পারে বাংলাদেশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন