প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশের সামুদ্রিক জলসীমায় মাছের সুষ্ঠু প্রজনন, উৎপাদন, সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদের সংরক্ষণ এবং টেকসই মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়েছে। এ সময়ে জেলেদের মধ্যে ২৪ হাজার মেট্রিক টন ভিজিএফ চালে বরাদ্দ দেয়া হয় বলে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
সোমবার (১৫ জুন) মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র তথ্য অফিসার মো. মামুন হাসান স্বাক্ষরিত বার্তায় গণমাধ্যমে এসব তথ্য জানানো হয়।
গত ১৫ এপ্রিল থেকে চলতি মাসের ১১ জুন পর্যন্ত মোট ৫৮ দিন দেশে সামুদ্রিক জলসীমায় সকল ধরনের মৎস্য নৌযান কর্তৃক মৎস্য আহরণ নিষিদ্ধ কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার আওতায় চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনা বিভাগের ১৪টি উপকূলীয় জেলার ৬৭টি উপকূলীয় উপজেলা এবং চট্টগ্রাম মহানগর অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এই সময়ে ১৪টি উপকূলীয় জেলা ও সংশ্লিষ্ট উপজেলায় ৬০টি টাস্কফোর্স কমিটির সভা, ২৬০টি সচেতনতামূলক সভা, ১২ হাজার ৬৭৮টি ব্যানার ও পোস্টার স্থাপন এবং ৬৮ হাজার ৭৫টি লিফলেট বিতরণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বাণিজ্যিক ট্রলারের সমুদ্রযাত্রার অনুমতি বন্ধ রাখা হয় এবং বরফকলগুলোর উত্পাদন নিয়ন্ত্রণ করা হয়। এছাড়া বিভাগভিত্তিক মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং মৎস্য অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়ে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হয় বলে জানানো হয়েছে।
বার্তায় জানানো হয় যে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে জেলেদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় ১৪ জেলার ৬৯টি উপজেলায় ৩ লাখ ১২ হাজার ৫০০টি মৎস্যজীবী পরিবারকে মাসিক ৪০ কেজি করে মোট ২৪ হাজার ১৬৫ দশমিক ৬২৫ মেট্রিক টন ভিজিএফ (চাল) বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিবহন ব্যয় বাবদ ৬০ লাখ ৪১ হাজার ৪০৬ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।
এই সময়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সমন্বয়ে ৩ হাজার ৫০২টি অভিযান এবং ৫৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে। এ সময় ২ হাজার ৪৩৮টি অবতরণ কেন্দ্র, ৯ হাজার ১৫১টি মাছঘাট, ১৭ হাজার ৫৮৫টি আড়ৎ এবং ১৬ হাজার ৪৯৪টি বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে।
অভিযানের সময় ১ হাজার ১৯০ দশমিক ৬০ মেট্রিক টন মাছ এবং ৫৪৩ দশমিক ৪৭ লাখ মিটার অবৈধ জাল জব্দ করা হয়েছে। একইসাথে ৪৮টি মামলা দায়ের, ৪৫ দশমিক ৯৪৬ লাখ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ২৬ জন জেলেকে কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। নিলাম থেকে আয়কৃত ৬১ লাখ ৫০ হাজার ৬০০ টাকা সরকারের কোষাগারে জমা দেয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম ও বরিশাল বিভাগে জেলে ও যান্ত্রিক নৌযানের সংখ্যা বেশি হওয়ায় এসব এলাকায় অভিযান কার্যক্রম তুলনামূলকভাবে বেশি পরিচালিত হয়েছে।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়, মৎস্য অধিদপ্তর, বাংলাদেশ কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ, জেলা প্রশাসন এবং অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী একত্রে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে কাজ করেছে।
এ ধরনের বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম সামুদ্রিক মাছের প্রজনন ও মজুদ বৃদ্ধির মাধ্যমে দেশের সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জেলেদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক কল্যাণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলেও জানানো হয়েছে।
১৫ এপ্রিল থেকে ১১ জুন পর্যন্ত ৫৮ দিন সাগরে মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। সামুদ্রিক মৎস্য সম্পদ সংরক্ষণ ও টেকসই আহরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতিবছরের মতো এবারও বঙ্গোপসাগরের বাংলাদেশ জলসীমায় সব ধরনের মাছ ধরার ওপর ৫৮ দিনের সরকারি নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন