প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
গত রাতে (৩০ জুন) আইভরি কোস্টকে ২-১ গোলে হারিয়ে ২৮ বছর পর বিশ্বকাপের শেষ ১৬–তে জায়গা করে নিয়েছে নরওয়ে। এর আগের দিন ব্রাজিল জাপানকে একই ব্যবধানে হারিয়ে শেষ ১৬ নিশ্চিত করেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নরওয়ের মতো মাঝারি শক্তির প্রতিপক্ষ পেয়ে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা তেমন খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা কি তেমন? ইতিহাস বলছে, সুযোগ থাকলে ব্রাজিল বরং নকআউট রাউন্ডে নরওয়েকে এড়িয়েই চলতে চাইবে।
আর্লিং হলান্ড, মার্টিন ওডেগার্ড, আলেক্সান্ডার শরলথ, আন্তনিও নুসা এসব নামগুলো সমীহ করার মতোই। এ কারণে এবারের আসরে নরওয়েই পেয়েছে ডার্ক হর্সের তকমা। কিন্তু পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে বলা হয় বিশ্বকাপের চিরকালীন ফেবারিট। তাদের কি আর কাউকে ভয় পেলে চলে? কিন্তু অন্তত নরওয়ের বিরুদ্ধে ভয় না পেয়ে উপায় নেই! ব্রাজিল যদি সুপারম্যান হয় তবে নরওয়ে যে ক্রিপ্টোনাইট! যার সামনে এই মহাপরাক্রমশালী ফুটবল পরাশক্তিরও সাদামাটা দল হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
ফুটবল ইতিহাসে নরওয়ে হচ্ছে একমাত্র দল, যাদের বিপক্ষে একাধিক ম্যাচ খেলেও ব্রাজিল জয় পায়নি। অর্থাৎ, কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে কার্লো আনচেলত্তির দলে রীতিমতো ইতিহাস বদলে দিতে হবে এবং প্রথমবারের মতো হারাতে হবে নরওয়েকে।
এর আগে এই তালিকায় সেনেগালের নামও ছিল। কিন্তু গত বছর নভেম্বরে এক প্রীতি ম্যাচে তাদের ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে সেই খরা কাটিয়েছে ক্যানারিনহারা। বর্তমানে ৩ ম্যাচে দুই দলের জয় একটি করে, বাকি ম্যাচটি অমিমাংসীতভাবে শেষ হয়েছিল।
ব্রাজিল-নরওয়ে হেড টু হেড:
০৭/২৭/১৯৮৮ (প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ১-১ ব্রাজিল
০৫/২৯/১৯৯৭ (প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ৪-২ ব্রাজিল
০৬/২৩/১৯৯৮ (বিশ্বকাপ): ব্রাজিল ১-২ নরওয়ে
০৮/১৬/২০০৬ (প্রীতি ম্যাচ): নরওয়ে ১-১ ব্রাজিল
১৯৮৮ সালে প্রথমবার মুখোমুখি হয়েছিল ব্রাজিল-নরওয়ে। এখন পর্যন্ত সব মিলিয়ে চারবার মুখোমুখি লড়াইয়ে নরওয়ে দুবার জয় পেয়েছে এবং বাকি দুটি ড্র হয়েছে। তবে, এই দুই দলের সবচেয়ে স্মরণীয় লড়াইটি হয়েছিল ১৯৯৮ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে। সেই ম্যাচে বেবেতোর গোলে ব্রাজিল এগিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে হারায়। নরওয়ের হয়ে গোল করেন তোরে আন্দ্রে ফ্লো এবং শেতিল রেকথাল। তবে ওই পরাজয়ের পরও ব্রাজিল গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই নকআউট পর্বে ওঠে।
দুই দেশের সর্বশেষ সাক্ষাৎ হয়েছিল ২০০৬ সালে একটি প্রীতি ম্যাচে। সেটিই ছিল তারকাসমৃদ্ধ দল নিয়ে ২০০৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায়ের পর ব্রাজিলের নতুন যাত্রার সূচনালগ্নের ম্যাচ। সেই матчটি ১-১ গোলে ড্র হয়।
এবার ইতিহাস বদলে দিতে পারবে ব্রাজিল, নাকি নরওয়ে 'অভিশাপ' দীর্ঘ হবে আরও? উত্তর জানতে অপেক্ষা করতে হবে আগামী রোববার (৫ জুলাই) পর্যন্ত। বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউজার্সি স্টেডিয়ামে শেষ ১৬–এর ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল-নরওয়ে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন