প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরবে দিন দিন বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নতুন করে ৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৫ জন। বর্তমানে হাসপাতালের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ১৫ জন রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জুলাই থেকে ১৮ আগস্ট পর্যন্ত ভৈরবে মোট ৮০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ৬৯ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। অবস্থার অবনতি হওয়ায় ৩ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ১৫ জন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে ভৈরবপুর এলাকায় ১৫ জন এবং কালিপুর এলাকায় ১৯ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। ফলে এসব এলাকায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ নজরদারি শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
এরই অংশ হিসেবে বুধবার সকালে ভৈরবপুর উত্তরপাড়ার আলীম উদ্দিন মিয়ার বাড়ির রইছ মিয়ার ভাড়াটিয়া বাহাদুর মিয়ার বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় একটি বালতিতে বিপুল পরিমাণ এডিস মশার লারভা পাওয়া যায়। পরে কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটতত্ত্ববিদ ও ভৈরব পৌরসভার সমন্বয়ে গঠিত ভিজিল্যান্স টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
পরিদর্শনকালে ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক, জেলা কীটতত্ত্ববিদ মুসফিকুর রহমান, জেলা স্বাস্থ্য তত্ত্বাবধায়ক মো. রুহুল আমিন, পৌরসভার স্যানেটারি ইন্সপেক্টর নাসিমা বেগম এবং কনজার্ভেটিভ কর্মকর্তা রুকনুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি ও এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত করে দ্রুত পরিষ্কার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃষ্টির মৌসুমে বাড়ির আঙিনা, ছাদ, ফুলের টব, বালতি ও ড্রামসহ বিভিন্ন পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এডিস মশা বংশবিস্তার করতে পারে।
ভৈরব পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ফারুক বলেন, বৃষ্টির মৌসুমে বাড়ির সামনে বা আশপাশে পানি জমতে দেওয়া যাবে না। সবাইকে নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। কারণ জমে থাকা পানিতে এডিস মশা ডিম পাড়ে এবং সেখান থেকেই নতুন মশার জন্ম হয়।
তিনি বলেন, ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু প্রশাসনের অভিযান যথেষ্ট নয়। নাগরিকদেরও নিজ নিজ বাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত অপসারণ করতে হবে এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে।
এ ছাড়া কারও জ্বর, শরীর ব্যথা বা ডেঙ্গুর উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
স্বাস্থ্য বিভাগ ও পৌর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত অভিযান ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি ডেঙ্গুর প্রকোপ ঠেকাতে নাগরিকদের নিজ নিজ বাসাবাড়ি ও আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন