প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কুমিল্লার মেঘনা ও তিতাস উপজেলার সীমান্তবর্তী চর বিনোদনপুর এলাকায় চরের জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই উপজেলার বাসিন্দাদের মধ্যে একটি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সোমবার (১৫ জুন) সকাল থেকে প্রায় তিন ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংঘর্ষের ফলে উভয় পক্ষের অন্তত ৩৫ জন আহত হন। সংঘর্ষের সময় ১০টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর এবং একটি মুদি দোকান থেকে নগদ টাকা লুটের অভিযোগও উঠে।
স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, ১৯৯০ সালে জেলা প্রশাসন মেঘনা উপজেলার গোবিন্দপুর ইউনিয়নের আলীপুর গ্রামের বাসিন্দাদের জন্য ১৪ দশমিক ৭৫ একর জমি লিজ প্রদান করে। এরপর ১৯৯৯ সালে তিতাস উপজেলার মজিদপুর ইউনিয়নের নতুন বাটেরা এলাকার বাসিন্দাদের জন্য ১০ দশমিক ১৪ একর জমি লিজ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই নতুন বাটেরা এলাকার এসব বাসিন্দারা ওই জমিটি ভোগদখল করে আসছিলেন। সম্প্রতি আলীপুরের বাসিন্দারা জমির দখল নিতে গেলে চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়, যা পরবর্তীতে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়।
এলাকার বাসিন্দাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমিটি বাটেরা মৌজার অন্তর্ভুক্ত। সিএস ও এসএ রেকর্ডে আলীপুর গ্রামের কয়েকজনের নামে জমির মালিকানা থাকলেও বিএস রেকর্ড অনুযায়ী, জমিটি সরকারি খাসজমি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। এর ফলে দীর্ঘকাল ধরে দুই পক্ষের মধ্যে একটি বিরোধ চলমান রয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ টেঁটা, রামদা, চাপাতি, ভল্লম, হকিস্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র এবং ইট-পাটকেল ব্যবহার করেন। সংঘর্ষের ফলে অনেকের হাত, পা ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে।
নতুন বাটেরাচর গ্রামের বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেঘনা উপজেলার আলীপুর ও বিরনপুর এলাকা থেকে ট্রলারযোগে ২০ থেকে ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আকস্মিক হামলা চালায়। তারা স্থানীয় ওয়ার্ড সদস্যের বাড়িসহ অন্তত ১০টি ঘরবাড়িতে ভাঙচুর চালায় এবং এক মুদি দোকান থেকে প্রায় এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে, মেঘনা উপজেলার বাসিন্দাদের দাবি, বিরোধপূর্ণ জমির প্রকৃত লিজগ্রহীতা তারা। জমির দখল নিতে গেলে তাদের হামলা হয়, যাতে তাদের পক্ষেরও বহু লোক আহত হয়।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে রয়েছেন ফারুক, আনোয়ার হোসেন, রাজ্জাক, বাছির, জাহাঙ্গীর আলম, রবি মোল্লা, সাগর, সালাউদ্দিন, শাহজাহান, সুলতান মিয়া, নাছির মিয়া ও কবির হোসেনসহ অন্তত ৩৫ জন। তাদের উদ্ধার করে মেঘনা ও তিতাস উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আহত সুলতান মিয়া, নাছির মিয়া ও কবির হোসেন বলেন, "আমাদের পূর্বপুরুষরা প্রায় একশ বছর ধরে এ চরভূমি ভোগদখল করে আসছেন। আইনের মাধ্যমে কেউ মালিকানা প্রমাণ করতে পারলে আমরা জমি ছেড়ে দেব। কিন্তু হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।"
ঘটনার পর সীমান্ত এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করতে থাকায় ২ থানার পুলিশ ঘটনারস্থলে অবস্থান করছে।
মেঘনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহীদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পরপরই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিরুল হক সময় সংবাদকে জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে তিতাস থানা থেকে ২০ থেকে ২৫ সদস্যের একটি পুলিশ দল ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন