প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকা, ৪ নভেম্বর, ২০২৬ : খাদ্যমন্ত্রী আফরোজা খানম এমপি বলেছেন, খাদ্য অপচয় রোধের জন্য একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল তৈরি করা আবশ্যক।
তিনি উল্লেখ করেন, একক কোনো মন্ত্রণালয়ের পক্ষে এ ক্ষেত্রে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব নয়। কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, পরিবেশ, শিল্প ও স্থানীয় সরকারসহ সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও প্রতিষ্ঠানকে একত্রে কাজ করতে হবে। সমন্বয়ের শক্তি যত বেশি হবে, ফলাফল ততই কার্যকর হবে।
আজ বুধবার ঢাকার হোটেল শেরাটনে ‘খাদ্য সাশ্রয় করুন, বাংলাদেশের খাদ্যের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করুন: খাদ্য অপচয় ও ক্ষয়ক্ষতি বিষয়ক জাতীয় সংলাপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের ফুড প্ল্যানিং অ্যান্ড মনিটরিং ইউনিট (এফপিএমইউ) এবং জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) বাংলাদেশ কার্যালয় যৌথভাবে এই জাতীয় সংলাপের আয়োজন করে।
খাদ্যমন্ত্রী আরও বলেন, সংলাপকে শুধুমাত্র আলোচনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ না রেখে কার্যকর সিদ্ধান্ত ও বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে, যাতে মানুষের জীবনে সুফল দৃশ্যমান হয়।
তিনি উল্লেখ করেন, খাদ্য অপচয় রোধ মানে শুধু খাদ্য সাশ্রয় নয়; বরং এটি কৃষকের শ্রমের মর্যাদা রক্ষা, জাতীয় সম্পদ সংরক্ষণ এবং মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ও।
তিনি বলেন, উৎপাদন, সংরক্ষণ, পরিবহন, বাজারজাতকরণ ও ভোক্তা পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি করে উৎপাদিত খাদ্যের সর্বাধিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে নিরাপদ ও পুষ্টিকর খাদ্য নিশ্চিত করার অঙ্গীকার বাস্তবায়নে খাদ্য অপচয় রোধে সরকার, বেসরকারি খাত, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, উৎপাদক ও ভোক্তাদের সম্মিলিত ভূমিকা অপরিহার্য।
সংলাপে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এফএও-এর বাংলাদেশ প্রতিনিধি মি. জিয়াওকুন শি খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি কমাতে সমন্বিত উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন খাদ্য সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা। স্বাগত বক্তব্য দেন এফপিএমইউ-এর মহাপরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান।
মূল বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ড. মঞ্জুরুল আলম, অধ্যাপক নওশাদ আলম ও ড. এম. খালেকুজ্জামান। তারা খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি হ্রাসের চ্যালেঞ্জ এবং কার্যকর কৌশল নিয়ে আলোচনা করেন।
এফএও-এর হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত খাদ্যের প্রায় ১৩.৩ শতাংশ খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে পৌঁছানোর আগেই নষ্ট হয়ে যায়। অন্যদিকে জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি- ইউএনইপি-এর হিসাব অনুযায়ী, ২০২২ সালে পরিবার, খাদ্যসেবা প্রতিষ্ঠান ও খুচরা বিক্রয় পর্যায়ে প্রায় ১০৫ কোটি টন খাদ্য অপচয় হয়েছে।
খাদ্য অপচয় ও ক্ষতি কমানো টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ১২.৩ অর্জনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাতীয় সংলাপে সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কর্মকর্তা, খাদ্য ও পুষ্টি বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ, দেশি-বিদেশি গবেষক, বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন উন্নয়ন সহযোগী ও দাতা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন