প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠান ইতোমধ্যে শুরু হয়ে গেছে। দেশটির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা এই নেতা ইসলামিক রিপাবলিকের রাজনৈতিক, সামরিক ও কৌশলগত নীতিনির্ধারণে প্রায় চার দশক ধরে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করে আসছিলেন।
এখন তার শেষ বিদায়ে অংশ নিতে রাজধানী তেহরানে সমবেত লাখো মানুষের কণ্ঠে শোকের পাশাপাশি তীব্র ক্ষোভও প্রকাশিত হয়েছে। জনগণের মধ্যে প্রতিশোধের আগুন দেখা গেছে এবং তারা এর জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিজ্ঞা করেছেন।
১৯৮৯ সালে ইরান-ইরাক যুদ্ধের পর আলী খামেনি সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তার নেতৃত্বের আওতায় সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় সশস্ত্র বাহিনী, বিচার বিভাগ, রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার সংস্থা এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত নিয়োগের ওপর ব্যাপক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছে।
খামেনির সময়কালে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) নিরাপত্তা, রাজনীতি ও অর্থনীতিতে শক্তিশালী হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের মোকাবেলায় ইরান তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারণ করেছে।
তার পারমাণবিক নীতি ছিল পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে ইরানের অন্যতম বিতর্কিত বিষয়। খামেনি দাবি করেছিলেন যে, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে চায় না, কিন্তু শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখার পক্ষে দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আঞ্চলিক কৌশলে, তিনি মিত্র সরকার ও সশস্ত্র গোষ্ঠীর উপর নির্ভর করে মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, যদিও এটি উপসাগরীয় আরব দেশগুলো, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে উত্তেজনা বৃদ্ধি করেছে।
খামেনির মৃত্যু অনেক ইরানির কাছে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির প্রতীক হয়ে উঠেছে, যা রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে দুর্বল করার পরিবর্তে নতুন আবেগ সৃষ্টি করেছে। লাখো মানুষ তার শেষ বিদায়ে অংশ নিচ্ছেন, যা দেশটির সাম্প্রতিক ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠান হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
শনিবার জানাজায় অংশ নেওয়া সাধারণ নাগরিক এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে আসা ধর্মপ্রাণ মানুষ খামেনির মৃত্যুকে পারিবারিক অভিভাবক হারানোর চেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হিসেবে দেখতে পাচ্ছেন।
এই হামলার জন্য দায়ী যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্রদের বিরুদ্ধে চূড়ান্ত প্রতিশোধ নেওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারা।
গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রাঙ্গণে জড়ো হওয়া জনতার আবেগ এবং ক্ষোভের চিত্র তুলে ধরে আরশ রাহিমি নামের ৪০ বছর বয়সী একজন ব্যক্তি রয়টার্সকে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের নেতার রক্তের প্রতিশোধ নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘আজ এখানে যারা সমবেত হয়েছেন, তারা প্রত্যেকেই সর্বোচ্চ নেতার হত্যার বিচার চান। আমাদের নেতা সবসময় বলেছেন যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের রক্তের শত্রুতা রয়েছে। তাই আমেরিকার সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কখনই ভালো হওয়ার নয়।’
এই জাতীয় শোকের গভীরতা সাধারণ ইরানিদের কতটা স্পর্শ করেছে, তা দূরদূরান্ত থেকে আসা মানুষের কথায় প্রকাশিত হয়েছে।
ইরানের হামাদান প্রদেশ থেকে তেহরানে আসা হামিদ তেইমোরি নামের একজন ব্যক্তি বলেন, ‘আমি এক অদ্ভুত ও অবর্ণনীয় মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে রয়েছি। আমার নিজের বাবা যখন মারা গেলেন, তখনও আমি এতটা কাঁদিনি, যতটা কাঁদছি আমাদের সর্বোচ্চ নেতার শাহাদতের খবর শুনে।’
অপেক্ষমাণদের একজন সোমাইয়ে সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরাকে বলেন, ‘আমরা আমাদের নেতার প্রতি ভালোবাসা থেকেই এসেছি। এই অপেক্ষা একই সঙ্গে মধুর এবং বেদনাদায়কও।’
অনেকের মতে, দেশের জন্য খামেনির অবদানের তুলনায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করা খুবই সামান্য ত্যাগ।
দেশটির এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ফাতেমেহ বলেন, ‘তাকে বিদায় জানাতে কোনো ধরনের কমতি রাখা উচিত নয়।’
আরেক শিক্ষার্থী মাহদি বলেন, ‘১০ থেকে ১২ ঘণ্টা অপেক্ষা করা কোনো বিষয়ই নয়। মনে হচ্ছে যেন আমরা নিজের পরিবারের একজন সদস্যের শোকানুষ্ঠানে অংশ নিচ্ছি।’
এদিকে, প্রয়াত এই নেতার সপ্তাহব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজা ও শোকানুষ্ঠানে বাংলাদেশ, চীন, রাশিয়া, ভারত, সৌদি আরব, কাতার, ওমান, পাকিস্তানসহ বিশ্বের শতাধিক দেশের প্রতিনিধি অংশ নিচ্ছেন। তারা মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত আলি খামেনির প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন