প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ডারউইন টেস্ট এর মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের বিপক্ষে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটে একটি উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন দেখা গেল। ১৫ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে এটি প্রথমবার, যখন বাউন্ডারি দড়িতে কোনো বেটিং প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন ছাড়াই মাঠে নামল অস্ট্রেলিয়া।
এর আগে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে বেটিং কোম্পানির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরই এই পরিবর্তনটি উল্লেখযোগ্য। ২০১২ সাল থেকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া ওই প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে অংশীদারিত্বে ছিল।
বৃহস্পতিবার বাংলাদেশের বিপক্ষে ডারউইন টেস্ট শুরুর আগে মারারা স্টেডিয়ামের বাউন্ডারি দড়িতে বেটিং কোম্পানির পরিবর্তে অস্ট্রেলিয়ার ক্রিকেটের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার টয়োটার বিজ্ঞাপন দেখা যায়।
২০০০-এর দশকের শেষের দিকে বেটফেয়ারের মাধ্যমে ক্রিকেটের সঙ্গে বেটিং প্রতিষ্ঠানের বাণিজ্যিক সম্পর্ক শুরু হওয়ার পর এবারই প্রথম ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বড় কোনো বেটিং স্পন্সর ছাড়া থাকছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার এক মুখপাত্র এ বিষয়ে মন্তব্য করে জানান, মৌসুমজুড়ে ভিন্ন ভিন্ন বিজ্ঞাপন সম্পদের জন্য তারা আলাদা চুক্তি করে থাকেন। ডারউইন এবং ম্যাকাইতে টেস্টের বাউন্ডারি দড়ির অংশীদার হিসেবে টয়োটার সমর্থন পাওয়ার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজের সরকার গত জুলাইয়ে জুয়া-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপনের উপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করার জন্য একগুচ্ছ আইনি পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। তবে সেগুলো এখনও ফেডারেল পার্লামেন্টে পাস হয়নি।
প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে জার্সি ও স্টেডিয়ামে বেটিং বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে বেশ কিছু ক্রীড়া সংস্থা এবং বেটিং অংশীদার তাদের বিজ্ঞাপনী উপস্থিতি বাঁচানোর উদ্যোগ নিয়েছে।
এছাড়া, এপ্রিল মাসে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবে আলবানিজ বলেছিলেন, প্রাপ্তবয়স্করা চাইলে বাজি ধরতে পারবেন। কিন্তু শিশুদের যেন যেদিকেই নজর দেয়, সেদিকেই বেটিং বিজ্ঞাপন দেখতে না পায়, সেটা নিশ্চিত করতে হবে। খেলাধুলা ও জুয়াকে শিশুদের কাছে অবিচ্ছেদ্য হিসেবে উপস্থাপন না করার উপরও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন।
জুয়া-সংক্রান্ত বিজ্ঞাপন নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগের অংশ হিসেবে সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত প্রতি ঘণ্টায় বেটিং প্রতিষ্ঠানের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের সংখ্যা তিনটিতে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাবও এসেছে।
এদিকে বিগ ব্যাশ লিগ এবং উইমেনস বিগ ব্যাশ লিগ চালুর পর থেকে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া বেটিং প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে টুর্নামেন্ট বা দলের স্পন্সরশীপের কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করেনি। কারণ টি-টোয়েন্টি প্রতিযোগিতাগুলো মূলত শিশু ও পরিবারকেন্দ্রিক দর্শকদের জন্য আয়োজন করা হয়।
এছাড়া ক্রিকেটে বেটিংয়ের সুযোগ নিয়েও কড়াকড়ি রয়েছে। বেটিং কোম্পানিগুলো ক্রিকেটে যে পরিমাণ লাইভ বা ইন-প্লে বেটিংয়ের সুযোগ দিতে পারে, সেটিও ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কঠোরভাবে সীমাবদ্ধ রেখেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন