০১:২২ এম
মঙ্গলের সবচেয়ে কাছের উপগ্রহ ফোবোসকে নিয়ে বিজ্ঞানীরা নতুন সতর্কবার্তা দিয়েছেন। এতদিন যে ধারণা ছিল, মঙ্গলের মহাকর্ষীয় টানে একসময় এটি ভেঙে গিয়ে গ্রহটির চারপাশে একটি বলয় তৈরি করবে, সেই ধারণা নতুন গবেষণায় পরিবর্তিত হয়েছে। গবেষণায় বলা হচ্ছে, ফোবোস নিজেদের ছিটকে পড়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে ধীরে ধীরে ভেঙে যেতে পারে।
ফোবোস ও ডেইমোস—মঙ্গলের এই দুই উপগ্রহের উৎপত্তি নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। একদল বিজ্ঞানী মনে করেন, এগুলো আসলে গ্রহাণু ছিল এবং পরবর্তীতে মঙ্গলের কাছে এসে আটকে পড়ে গেছে। কিন্তু তাদের প্রায় গোলাকার এবং স্থিতিশীল কক্ষপথের কারণে অনেক বিজ্ঞানীর ধারণা, এটি আসলে কোনো বড় সংঘর্ষের পর মঙ্গলকে ঘিরে তৈরি হওয়া পদার্থ থেকে উত্পন্ন হয়েছে।
ফোবোস অত্যন্ত কাছ থেকে দ্রুত ঘোরে। এই কারণে মঙ্গলের মহাকর্ষীয় টান ধীরে ধীরে ফোবোসের কক্ষপথকে সংকুচিত করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ফোবোস পুরোপুরি শক্ত পাথর নয়; বরং এটি আলগাভাবে একটি জোড়া লাগানো ধ্বংসস্তূপের মতো গঠিত। এই কারণেই এটি সহজেই ভেঙে পড়তে পারে।
আরও পড়ুন: রোকনপুর সীমান্তে নারীকে পুশ-ইন-এর চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি
গণনা ও কম্পিউটার সিমুলেশন অনুসারে, মঙ্গলের দিকে থাকা অংশ এবং বিপরীত দিক থেকে প্রাথমিকভাবে প্রথম খসে পড়া অংশ শুরু হবে। ধীরে ধীরে বড় অংশগুলো বিচ্ছিন্ন হয়ে উপগ্রহটি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, যে ভাঙা অংশগুলো তৈরি হবে, সেগুলো মঙ্গলের চারপাশে ঘুরে আবার উচ্চ গতিতে ফোবোসে আঘাত করতে সক্ষম হতে পারে। এই বিষয়টিকে বিজ্ঞানীরা ‘সেস্কুইনারি বিপর্যয়’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, নিজের ছিন্নভিন্ন অংশের আঘাতেই ফোবোসের শেষ হয় যেতে পারে— যা আগের ধারণার চেয়ে ভিন্ন ও জটিল হতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন