প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লালমনিরহাট, ৩০ অক্টোবর, ২০২৬ : দুর্যোগকালীন মানুষের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করার পাশাপাশি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়ন ও শিক্ষার গুণগত মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু।
আজ শুক্রবার লালমনিরহাট সদর উপজেলার রাজপুর ইউনিয়নের বানিয়াটারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কাম বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণকাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন।
মন্ত্রী উল্লেখ করেন, শুধুমাত্র দৃষ্টিনন্দন ভবন নির্মাণ করলেই যথেষ্ট নয়, শিক্ষার্থীদের মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পর্যাপ্ত অবকাঠামো, শিক্ষা উপকরণ, পোশাক ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার মান প্রত্যাশিত পর্যায়ে না পৌঁছানোর কারণ খুঁজে বের করতে হবে। এজন্য শিক্ষকদের আরও দায়িত্বশীল ও আন্তরিক হতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্পের বাস্তবায়নের ফলে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের জন্য উন্নত শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হবে। পাশাপাশি বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় স্থানীয় বাসিন্দারা এখানে নিরাপদ আশ্রয় নিতে সক্ষম হবেন।
শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে মন্ত্রী জানান, ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে আসার পথে তিনি একটি কিন্ডারগার্টেন বিদ্যালয় পরিদর্শন করেছেন। সেখানে জরাজীর্ণ ভবনে সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করলেও তাদের ফলাফল সন্তোষজনক। শিক্ষার্থীদের মাসিক বেতন মাত্র ৩০০ টাকা এবং শিক্ষকদের বেতনও সন্তোষজনক নয় বলে তিনি জানতে পেরেছেন।
তিনি আরও বলেন, অন্যদিকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে উন্নত ভবন, শিক্ষার্থীদের পোশাক, খাবার, বিনামূল্যে বইসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা রয়েছে। শিক্ষকদের বেতন-ভাতাও তুলনামূলক ভালো। এরপরও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত ফলাফল নিশ্চিত না হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। শুধুমাত্র অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, পাঠদানের মান ও শিক্ষার্থীদের শেখার অগ্রগতিও নিশ্চিত করতে হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের উদ্দেশে মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মানোন্নয়নে তাদের আগে দেয়া ২২ দফা নির্দেশনা যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। সময়ের সঙ্গে শিক্ষাদান পদ্ধতি ও চিন্তাভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন মানসম্মত শিক্ষার অভাবে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ছেড়ে অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে বাধ্য না হয়, সেদিকে শিক্ষকদের বিশেষ নজর দিতে হবে।
অনুষ্ঠানে লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক মুহ. রাশেদুল হক প্রধান, জেলা পরিষদের প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনোনীতা দাস এবং এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইনছাফুল হক সরকারসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন