প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চলতি সপ্তাহে ভারতের উত্তরাখণ্ডের দেরাদুন জেলার শিমলা বাইপাসের সেভলা কালান এলাকায় বজরং দলের জঙ্গিরা একটি মসজিদের ছাদ মেরামতের কাজ জোরপূর্বক বন্ধ করে দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, মসজিদটি অবৈধভাবে নির্মিত এবং রাস্তার জায়গা দখল করে গড়ে উঠেছে। সংগঠনটি পুরো ভবনটি সিলগালা করে দেওয়ারও হুমকি দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উগ্রবাদী সংগঠন বজরং দলের সদস্যরা যখন নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয়, তখন মুসৌরি দেরাদুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (এমডিডিএ), স্থানীয় পুলিশ এবং সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন, তবে তারা এ বিষয়ে কোনো হস্তক্ষেপ করেননি।
মসজিদটির তৃতীয় তলায় গ্রাউটিংয়ের (ছাদ মেরামতের) কাজ চলছিল। এমন সময় বজরং দলের একটি দল, বিকাশ বর্মার নেতৃত্বে, সেখানে গিয়ে নির্মাণশ্রমিকদের কাজ বন্ধ করতে বাধ্য করে। বিকাশ বর্মা এবং তাঁর সঙ্গীরা দাবি করেন, এটি একটি হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ এলাকা এবং মসজিদটি রাস্তার ওপর অবৈধ দখল সৃষ্টি করে পথচারীদের চলাচলে বাধা তৈরি করছে। তিনি সম্পত্তির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের দাবি জানান এবং অবৈধ প্রমাণিত হলে মসজিদটি গুঁড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।
মসজিদ পরিচালনা কমিটির প্রতিনিধিরা বজরং দলের এই দাবিকে একবাক্যে প্রত্যাখ্যান করেছেন। 'মুসলিম সেবা সংগঠন'-এর সভাপতি নাঈম কুরেশি এবং সহ-সভাপতি আকিব কুরেশি জানান, তৃতীয় তলার ছাদে কেবল স্বাভাবিক সংস্কার কাজ চলছিল যাতে বৃষ্টির পানি ভেতরে প্রবেশ না করে। সেখানে নতুন কোনো নির্মাণকাজ করা হয়নি।
বজরং দলের তোলা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়ে তাঁরা বলেন, "মসজিদটি সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া মেনে এবং সরকারি নিয়মকানুন অনুসরণ করেই নির্মাণ করা হয়েছে।" উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে দেরাদুন ও তার আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন মসজিদের বিরুদ্ধে একের পর এক পদক্ষেপ নেওয়ার যে ধারা চলছে, এটি তারই একটি নতুন রূপ।
এর আগে গত ২ জুন, কালিসেনার প্রধান ভুপেশ জোশীর নেতৃত্বে একটি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর দাবির মুখে থানো গ্রামের একটি মসজিদ সিলগালা করে দেয় মুসৌরি দেরাদুন উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। ওই হিন্দুত্ববাদী দলটির দাবি ছিল, নিকটবর্তী একটি মন্দিরের সামনে কোনো মসজিদ থাকা চলবে না।
মসজিদটির ইমাম ইয়াসির আরাফাত জানান, রাজ্য সরকারের সংখ্যালঘু কল্যাণ বিভাগ নির্মিত মাত্র একটি ঘরের অনুমোদিত নকশা (ম্যাপ) না থাকার অজুহাতে পুরো মসজিদটি সিলগালা করে দেওয়া হয়। অথচ পুরো মসজিদের নিবন্ধিত জমি ও বৈধ কাগজপত্র রয়েছে।
স্থানীয় মুসলিম অধিবাসীরা জানান, ১৯৭৮ সাল থেকে এই মসজিদটি সেখানে চালু রয়েছে। 'ইন্ডিয়া টুমরো'-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই এলাকায় বন্ধ করে দেওয়া এটি ছিল পঞ্চম মসজিদ। মসজিদটি সিলগালা করার পর কালিসেনার সদস্যরা ভবনের বাইরে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান (হোম-যজ্ঞ) পালন করে।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে উত্তরাখণ্ড সরকার ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তাদের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের প্রক্রিয়া জোরদার করেছে। রাজ্যটি ইতোমধ্যে তাদের মাদ্রাসা আইন বাতিল করে সংখ্যালঘু পরিচালিত সমস্ত স্কুল নজরদারির জন্য একটি একক কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে এবং এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য সমন্বিত ধর্মীয় পাঠ্যক্রম তৈরির কাজ করছে।
সমালোচকদের মতে, রাজ্য সরকারের এসব পদক্ষেপ এবং হিন্দুত্ববাদী দলগুলোর ধারাবাহিক অভিযান উত্তরাখণ্ডের মুসলিম প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর তীব্র চাপ তৈরি করছে। যদিও সরকারের দাবি, তারা কেবলমাত্র নিয়মকানুন জোরদার ও শিক্ষার মান বজায় রাখার জন্য এই পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন