প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ময়মনসিংহের নান্দাইলে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ডিলারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত হয়েছে নিম্নমানের পণ্য বিক্রির অভিযোগ। উপকারভোগীদের দাবি, আপত্তি জানালেও তারা এ বিষয়ে কোন প্রতিকার পাননি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলা প্রশাসনের দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত ট্যাগ অফিসারকে সামনে রেখেই ডিলাররা অস্বচ্ছল মানুষের হাতে খারাপ পণ্য তুলে দিচ্ছেন। এ ঘটনায় বুধবার (২৪ জুন) অনেক উপকারভোগী নিম্নমানের পণ্য হাতে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়েছিলেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার নান্দাইল পৌরসভাসহ বেশ কয়েকটি স্থানে টিসিবির কার্ডধারীদের মাঝে নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী পণ্য বিতরণ করা হয়। ডিলাররা স্থানীয় খাদ্যগুদাম থেকে চাল সংগ্রহ করে থাকেন।
চলতি বছরের শুরু থেকেই জানা গেছে যে, উপকারভোগীরা মানসম্মত পণ্য না পাওয়ার অভিযোগ করে আসছিলেন।
বুধবার সকাল ১০টায় পণ্য বিতরণ শুরু হলে, চাল ও অন্যান্য পণ্য নিম্নমানের হওয়ার কারণে কার্ডধারীরা আপত্তি জানান। তবে তাদের আপত্তি অগ্রাহ্য করা হয় এবং পণ্য বিক্রি অব্যাহত রাখা হয়। পরে অনেকে তেল ও চাল নিম্নমানের আখ্যা দিয়ে বাজারে বিক্রি করে দেন, বলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণমাধ্যমকে জানান।
পৌরসভার কার্ডধারীরা জানান, প্রতিমাসে দুই কেজি মসুর ডাল, দুই লিটার সয়াবিন তেল, পাঁচ কেজি চাল, এক কেজি চিনি, ডিটারজেন্ট ও সাবান দিয়ে ৬২৫ টাকার প্যাকেজ তৈরি করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, অখ্যাত কম্পানির সাফ নামের ডিটারজেন্ট ও সাবান নিতে না চাইলে তাদের টিসিবির পণ্য দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে তারা দুই লিটার তেলের লোভে প্যাকেজ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। পরে বাড়ি ফিরে দেখা যাচ্ছে যে ওই তেল পামওয়েল, যা বোতলেই সাদা দানা বেঁধে যাচ্ছে।
পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা হিমেল মিয়া জানান, টিসিবির ডিলাররা কখনো ভালো চাল দেন, কখনো পোকা ধরা এবং পোকায় খাওয়া চাল দেন। কিন্তু ওই চাল তাদের হাঁস-মুরগিকে খাওয়াতে হয়। অন্যদিকে তাদের দেওয়া তেলও অত্যন্ত নিম্নমানের।
৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাহেদ আলী বলেন, ‘চালে পুথি ধরা, পোকা খাওয়া থাকলে সেগুলো খাওয়া যায় না। তা ছাড়া সয়াবিন তেলের বিপরীতে দেয়া হচ্ছে পাম ওয়েল। সরকার আমাদের স্বল্পমূল্যে পণ্য দেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে। কিন্তু স্থানীয় ডিলার ও কর্মকর্তাদের কারণে আমরা খারাপ পণ্য পাচ্ছি।’
জানতে চাইলে টিসিবির ডিলার তাওহিদুল ইসলাম রানা জানান, ‘এ ধরনের পণ্য বিক্রি করে তারাও উপকারভোগীদের তোপের মুখে পড়ছেন। কিন্তু আমাদের যে ধরনের পণ্য সরবরাহ করা হয়, তাই-ই বিক্রি করা হয়। এর ওপর আমাদের কোনো হাত নেই।’
এ ব্যাপারে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ময়মনসিংহের উপপরিচালক কামাল হোসেন কালের কণ্ঠকে বলেন, ঢাকা থেকে যেভাবে পণ্য দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে, সেভাবেই ডিলারদের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এখন পণ্য যদি নিম্নমানের হয়, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা জান্নাত বলেন, ‘পণ্য নিয়ে লোকজন আমার অফিসে এসেছিলেন। দেখে মনে হয়েছে এগুলো নিম্নমানের। এ অবস্থায় টিসিবির ডিলারদের দ্রুত ডাকা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন