প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন ও পাঁচ সরকারি কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা সফরের স্বপ্ন দেখছিলেন মশক নিধনের আধুনিক প্রযুক্তি দেখার জন্য। কিন্তু সেই বিলাসী বিদেশ সফরের প্রস্তাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এক কলমের খোঁচায় ‘না’ করে দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই সিদ্ধান্ত কেবল বাতিলই করেনি, বরং সরকারি কর্মকর্তাদের মশক নিধনের জন্য এক অনন্য দাওয়াইও বাতলে দিয়েছেন, যা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।
সরকারি সূত্র থেকে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের অর্থায়নে ফ্লোরিডা সফরের প্রস্তাবটি তৈরি করা হয়েছিল। উদ্দেশ্য ছিল— মশক নিয়ন্ত্রণ ও নিধনের আধুনিক কলাকৌশল সরেজমিনে দেখা। ফাইলটি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
ফাইলটি পর্যালোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, ফ্লোরিডায় গিয়ে মশা মারার বিদ্যা শিখতে যাবার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তিনি নিজ হাতে লিখিত নির্দেশনায় মন্তব্য করেছেন, "মশক নিধন শেখা বা দেখার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় যাওয়ার দরকার নেই। দেশেই সন্ধ্যার পর যে কোনো ডোবার পাশে দুই-তিন ঘণ্টা অবস্থান করলেই মশক নিধনের অনেক উদ্ভাবনী পদ্ধতি বের করা সম্ভব হবে।"
তিনি আবারও স্পষ্ট জানিয়ে দেন, দেশের পরিস্থিতির মধ্যেই কার্যকর ধারণা ও দেশীয় উদ্ভাবনী পদ্ধতি খুঁজে বের করা সম্ভব। প্রধানমন্ত্রী তার হাতে লেখা নোটটির ছবি শেয়ার করে প্রবাসী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের ফেসবুকে লিখেছেন, "মশা মারতে কামান দাগানোর কথাটি বহুল প্রচলিত — তবে মশার উছিলায় যে এমন দৃষ্টান্তও স্থাপন করা যায়, সেটা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের নিজ হাতে লিখা এই নোটটি বেশ ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছে।"
প্রধানমন্ত্রীর এই কঠোর এবং বুদ্ধিদীপ্ত অবস্থানকে ‘ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত’ এবং ‘পজিটিভ মাইলফলক’ হিসেবে এলাকার নেটিজেনরা দেখছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল প্রশংসাস্বরূপ। অনেকেই মনে করছেন, এই একটি নোটের ফলে ভবিষ্যতে সরকারি কর্মকর্তাদের ৫০-৬০% অযথা ও বিলাসী বিদেশ সফর বন্ধ হবে। সাধারণ মানুষের মতে, এই লেখাটি ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে থাকবে এবং রাষ্ট্রকে অপচয় থেকে বাঁচাতে একজন যোগ্য রাষ্ট্রনায়কের সিদ্ধান্ত কেমন হওয়া উচিত তা স্মরণ করিয়ে দেবে।
অনেকে মন্তব্য করেছেন, "আশা করি এমন স্মার্ট ওয়েতে লজ্জা দেওয়ার মাধ্যমে সচিব ও আমলাদের বোধদয় হবে। এই লেখাটার ছবি প্রতিটা সরকারি অফিসে দৃষ্টান্ত হিসেবে টাঙিয়ে রাখা উচিত।" প্রধানমন্ত্রীর এই চপেটাঘাত বাজে খরচ ও উদ্ভট বিদেশ সফরের সংস্কৃতিতে প্রশংসিত হয়েছে, এবং দেশের মানুষ আশা করছেন— এই কঠোর বার্তার ফলে সরকারি অর্থ অপচয়ের প্রবণতার লাগাম টানা সম্ভব হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন