প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সৌদি আরবে বসবাসরত প্রবাসী কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন এবং আইনি জটিলতা কাটানোর সময়সীমা ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত বর্ধিত করেছে দেশটির মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়।
এই ঘোষণাটি সৌদি সরকার কর্তৃক নতুন করে প্রকাশিত হয়েছে, যা লাখো প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে, কারণ ৩০ জুনের কঠোর সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রেক্ষাপটে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) সৌদির শ্রম খাতের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘কিওয়া’ (Qiwa) একটি জরুরি নির্দেশনা জারি করেছিল। নির্দেশনাটিতে বলা হয়েছিল ৩০ জুনের সময়সীমার মধ্যে নিয়োগকর্তাদের কর্মীদের ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন বা কাফালা (অন্য প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর) সম্পন্ন করতে হবে।
এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে যেসব কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট ৩ মাসের বেশি সময় ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ, তাদের নাম স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রতিষ্ঠানটির রেকর্ড থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে, যদি কোনো কর্মীর ওয়ার্ক পারমিট না থাকে কিন্তু ইকামার মেয়াদ ১৮০ দিন থাকে, সেক্ষেত্রে তাকে বাদ দেওয়া হবে না। যদি ইকামা এবং ওয়ার্ক পারমিটের মেয়াদ ১৮০ দিনের কম হয়, তাহলে দুটিই একসঙ্গে নবায়ন করতে হবে।
এছাড়াও উল্লেখ করা হয়েছে যে, বৈধ পারমিট ছাড়া কাজ করানোর জন্য নিয়োগকর্তাকেই সব বকেয়া আর্থিক দায় ও ফি বহন করতে হবে।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ‘বিশেষ সুযোগের মেয়াদ ৩১শে ডিসেম্বর, ২০২৬ পর্যন্ত’ সময় বৃদ্ধি করা হয়েছে। কালকের কঠোর নির্দেশনার পর আজ শ্রমবাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এবং নিয়ম প্রতিপালনের হার বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন ঘোষণা এসেছে সৌদি মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয় থেকে।
কারা এই সুবিধার আওতায় পড়ছেন?
১. যেসব প্রবাসী কর্মীর কাজের অনুমতিপত্রের (Work Permit) মেয়াদ ১২ মাস বা তারও বেশি সময় আগে শেষ হয়ে গেছে।
২. যেসব কর্মী কোনো প্রতিষ্ঠানে যোগদানের পর ৬ মাসের বেশি সময় পার হলেও এখনও তাদের কাজের অনুমতিপত্র ইস্যু করা হয়নি।
মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, বিগত সময়ে প্রবিধান মেনে পরিস্থিতি সংশোধন করার ক্ষেত্রে প্রবাসী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিপুল সাড়া ও অংশগ্রহণ দেখা গেছে। এর ফলে সৌদির শ্রমবাজারে নিয়ম প্রতিপালনের (Compliance) হার অনেক বেড়েছে।
ব্যবসায়ী এবং কর্মীদের পরিস্থিতি সংশোধনের জন্য একটি অতিরিক্ত ও চূড়ান্ত সুযোগ দিতেই এই সময়সীমা চলতি বছরের শেষ দিন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এর ফলে নিয়োগকর্তারা কোনো আইনি ব্যবস্থা বা অতিরিক্ত জরিমানা ছাড়াই বকেয়া ফি পরিশোধ করে কর্মীদের কাগজপত্র বৈধ করার সুযোগ পাবেন।
মন্ত্রণালয় স্পষ্ট করে জানিয়েছে, বর্ধিত সময়সীমা দেওয়া হলেও অবহেলা করার সুযোগ নেই। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিস্থিতি সংশোধন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তীতে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এজন্য যেকোনো আইনি জটিলতা বা অতিরিক্ত আর্থিক জরিমানা এড়াতে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৬-এর আগে বকেয়া ওয়ার্ক পারমিট নবায়ন করা, নতুন পারমিট ইস্যু করা কিংবা প্রয়োজনে অন্য প্রতিষ্ঠানে সেবা স্থানান্তরের (কাফালা) প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার জন্য জোর আহ্বান জানানো হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন