ঢাকা মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০২ই আষাঢ়, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ৩০শে জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিজরী
মঙ্গলবার, ১৬ই জুন, ২০২৬ইং ০২ই আষাঢ়, ১৪৩৩বাং

গভীর রাতে সাংবাদিক স্টিকারযুক্ত গাড়িতে চিংড়ি রেণু পাচার: নেপথ্যে গোপালগঞ্জের টুলু, ছদ্মবেশী সাংবাদিক মফিজুর রহমান ও মৎস্য ব্যবসায়ী রনি


গভীর রাতে সাংবাদিক স্টিকারযুক্ত গাড়িতে চিংড়ি রেণু পাচার: নেপথ্যে গোপালগঞ্জের টুলু, ছদ্মবেশী সাংবাদিক মফিজুর রহমান ও মৎস্য ব্যবসায়ী রনি

উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে বরিশালে রাতের আঁধারে নির্বিচারে পাচার হচ্ছে নিষিদ্ধ চিংড়ির রেণুপোনা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এই চক্রটি ব্যবহার করছে নিত্যনতুন কৌশল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অবৈধ বাণিজ্যের মূল হোতা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা টুলু। আর তাকে নিরাপদে বরিশালের সীমান্ত পার করে দিতে মাঠপর্যায়ে ‘শেল্টারদাতা’ হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র, কথিত সাংবাদিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী।

সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের সাথে ‘মফিজুর রহমান’ (ছদ্মনাম) নামে এক কথিত সাংবাদিক এবং পোর্টরোডের মৎস্য ব্যবসায়ী বিএনপি নাম ভাঙিয়ে রনির সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তারা মধ্যরাতে প্রাইভেটকারে ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে এই নিষিদ্ধ রেণুর চালান নিরাপদে পার করে দিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল বিভাগে অবৈধভাবে মাছ ও চিংড়ির রেণুপোনা পাচারের সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক হলেন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা টুলু। এই চক্রের সাথে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে আটক হয়েছেন জাকির, লিটন এবং রিয়াজ নামের তিন সহযোগী। এছাড়া বিভিন্ন সময় রেনু পরিবহনে যুক্ত থাকার অপরাধে ২০ থেকে ২২ জন ট্রাকচালক ও শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করেছে প্রশাসন।

আরও পড়ুন: রোকনপুর সীমান্তে নারীকে পুশ-ইন-এর চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া এবং ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন নিষিদ্ধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করা হয়। এরপর ড্রাম ভর্তি করে ট্রাকে করে তা বরিশালের ওপর দিয়ে খুলনা বা বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে পাচার করা হয়।

এই কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে টুলু সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কড়াকড়ির কারণে তারা কৌশলে ভিন্নতা এনেছে। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য ব্যবসায়ী রনি ও কথিত সাংবাদিক মফিজুর রহমান বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা নিজেদের প্রাইভেটকারে ‘সাংবাদিক’ স্টিকার ব্যবহার করে রেণুর চালান নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ‘নিরাপদ রুট’ তৈরি করে দিচ্ছেন।

আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে একদিনে ট্রেনে দুই বিপত্তি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাহত রেল চলাচল

টুলু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের এই অবৈধ তৎপরতা রুখতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। বরিশাল নগরীর রূপাতলী এবং শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুসহ বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে র‍্যাব-৮ ও নৌ পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে একাধিকবার রেণুভর্তি ট্রাকসহ এই চক্রের সদস্যদের আটক করেছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জামিনে বা জরিমানা দিয়ে বের হয়ে তারা আবারও একই পেশায় লিপ্ত হচ্ছে।

ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত আছে ‘তালাশ বিডি’র কাছে

জানা গেছে, মধ্যরাতে প্রাইভেটকারে সাংবাদিক স্টিকার লাগিয়ে রেণু পাচারের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম ‘তালাশ বিডি’র হাতে এসেছে। আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আগামী পর্বে এই চক্রের সাথে জড়িত পর্দার আড়ালের মূল কতজন সাংবাদিক আছে তাদের নামসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।


পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও সমুদ্র উপকূল থেকে একটি চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে শত শত প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী ও মাছের পোনা। টুলু সিন্ডিকেটের এই লোভী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ছদ্মনাম মফিজুর রহমান জানান আমি এর মধ্যেও কোচ গার্ডের সাথে অভিযান পরিচালনা করেছি, তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় আপনি অভিযান পরিচালনা করার কে আর অভিযান পরিচালনা করে আপনি একটা আয়ুস দিচ্ছেন দেশের জন্য কাজ করছেন। এই মুখোশধারী কথিত সাংবাদিক রেনুপনা পাচার মূল সেটার দাদা সে নাকি বরিশালের বিশাল বড় এক সাংবাদিক।

আরও পড়ুন: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ৫ বছরের শিশুর সঙ্গে নৃশংসতা, পরে মৃত্যু

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিন্ডিকেট প্রধান টুলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বিস্তারিত লিখে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে : সাইফুল হক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৮:৪১ পি.এম


বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে : সাইফুল হক

বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের বাইরে রাখতে হবে। তিনি আরও জানান, নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় বিচারব্যবস্থাকে রাজনৈতিক বিরোধীদের দমনে ব্যবহার করা যাবে না।

বিচারের ক্ষেত্রে বিচারকেরা অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক সংকটে ভোগেন যা খুবই উদ্বেগজনক। বিচারকদের এই মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে মুক্তি দিতে হবে।

শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতির প্রতিনিধিসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

সাইফুল হক বলেন, সেটাই সবচেয়ে ভালো সরকার, যারা বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসে। তিনি উল্লেখ করেন, সরকারের নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে পার্লামেন্ট ও বিচার বিভাগের মধ্যে যৌক্তিক ভারসাম্যমূলক সম্পর্ক না থাকলে উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা কার্যকরী থাকতে পারে না।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিচারব্যবস্থার প্রধান সমস্যা হচ্ছে রাজনৈতিক প্রভাব ও হস্তক্ষেপ। উচ্চ আদালতের বিচারক নিয়োগের ক্ষেত্রে অনেক সময় রাজনৈতিক বিবেচনার কার্যকরী ভূমিকা রয়েছে বলে বিচারকেরা অনেক সময় মনস্তাত্ত্বিক সংকটে ভোগেন। এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে না পারলে আমাদের উপযুক্ত বিচার পাওয়া সম্ভব হবে না।

বিচারকদের অবশ্যই এই মনস্তাত্ত্বিক সংকট থেকে মুক্তির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, বিচারব্যবস্থাকে অবশ্যই রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাবের বাইরে কাজ করতে দিতে হবে। সামাজিকভাবে প্রান্তিক ও দুর্বল জনগণের ন্যায়বিচার পাওয়ার ক্ষমতার ওপর বিচার বিভাগের প্রতি আস্থা ও কার্যকারিতা নির্ভর করছে।

সাইফুল হক আরও বলেন, দেশের নতুন গণতান্ত্রিক যাত্রায় বিচার বিভাগকে কোনোভাবে রাজনৈতিক বিরোধী বা ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে ব্যবহার করা যাবে না। তিনি উল্লেখ করেন, "মানুষের জন্যই আইন, আইনের জন্য মানুষ নয়।"

তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, নতুন নির্বাচিত সরকার স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ এবং জনপ্রত্যাশা অনুযায়ী বিচারব্যবস্থার সংস্কারে অচিরেই প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেবে।

প্রবীণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপুর সভাপতিত্বে প্রতিনিধিসভায় বক্তব্য দেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী শেখ রফিকুল ইসলাম, বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য আকবর খান, বিপ্লবী শ্রমিক সংহতির সভাপতি মীর মোফাজ্জল হোসেন মোশতাক, বিপ্লবী যুব সংহতির আহ্বায়ক বাবর চৌধুরীসহ অনেকেই।

প্রতিনিধি সভায় অ্যাডভোকেট মাহবুবুল করিম টিপুকে আহ্বায়ক, অনিরুদ্ধ সরকারকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং অ্যাডভোকেট সুমন মিয়াকে সদস্য সচিব নির্বাচিত করে গণতান্ত্রিক আইনজীবী সংহতির ২১ সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। সভায় সংগঠনের খসড়া ঘোষণা ও গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নতুন জেলা ছাত্রদল কমিটিকে ঘিরে সাতক্ষীরায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


নতুন জেলা ছাত্রদল কমিটিকে ঘিরে সাতক্ষীরায় আনন্দ মিছিল অনুষ্ঠিত

সাতক্ষীরা, ১৫ মে, ২০২৬ : সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটিকে স্বাগত জানাতে শহরে আনন্দ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৫টায় সাতক্ষীরা শহরের খুলনা রোড মোড় সংলগ্ন আসিফ চত্বর থেকে আনন্দ মিছিলটি বের হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে এই মিছিল যায়।

জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির সভাপতি আবু রায়হান, সাধারণ সম্পাদক জে.এম দাউদ মাসুদ খান অর্ঘ্য এবং সাংগঠনিক সম্পাদক শাহিন ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া সাতক্ষীরা সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মাসুদ রানা সহ জেলা ও কলেজ ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীরা এ সময় আনন্দ মিছিলে যোগদান করেন।

সমাবেশে বক্তারা কেন্দ্রীয় ছাত্রদলকে ধন্যবাদ জানান। বক্তারা আগামী দিনে রাজপথের আন্দোলনে ঐক্যবদ্ধ থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ১২ মে আবু রায়হানকে সভাপতি এবং জে.এম দাউদ মাসুদ খান অর্ঘ্যকে সাধারণ সম্পাদক করে সাতক্ষীরা জেলা ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণা করেছে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ‘বিশ্ব পরমাণু ব্যবস্থার’ চিত্র

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৮:৪৪ পি.এম


ইরান যুদ্ধ বদলে দিয়েছে ‘বিশ্ব পরমাণু ব্যবস্থার’ চিত্র

ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে বিদ্যমান পরমাণু ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন শুরু হয়ে গেছে। যার সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়ছে পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধ, বেসামরিক পরমাণু বাণিজ্য এবং সামগ্রিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর। কেনেথ লুয়ঙ্গোর বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই যুদ্ধ ইতিমধ্যে ভেঙে পড়া বৈশ্বিক পরমাণু ব্যবস্থার ওপর সর্বশেষ হাতুড়ির আঘাত হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রযুক্তিগত ও ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা আন্তর্জাতিক শৃঙ্খলাকে দুর্বল করে দিয়ে গেছে। আর বর্তমান সংঘাত সেই ক্ষতকে আরও গভীর করে তুলছে।

ইরান যুদ্ধ একটি গুরুত্বপূর্ণ নজির স্থাপন করেছে, যেখানে একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের কার্যকর পরমাণু কর্মসূচি সামরিক শক্তির মাধ্যমে ধ্বংস করে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। যদিও অতীতে ইসরায়েল ইরাক কিংবা সিরিয়ার নির্মাণাধীন গবেষণামূলক চুল্লিতে হামলা চালিয়েছে, তবে চলমান এই কর্মসূচিকে পুরোপুরি অকেজো করে দেয়ার চেষ্টার এই ঘটনা ইতিহাসে বিরল। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র এবং বৈজ্ঞানিক সক্ষমতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প উভয়েই দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলো এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

এই ধ্বংসযজ্ঞের ফলে ইরানের ফিশাইল মেটেরিয়াল বা পরমাণু জ্বালানির ওপর নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রায় ৪০০ কেজি সমপরিমাণ অস্ত্র-তৈরির উপযোগী ইউরেনিয়াম ইসফাহান পরমাণু কমপ্লেক্সের ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছে। ১৯৯০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর যেমন নিয়ন্ত্রণহীন পরমাণু অস্ত্রের ঝুঁকি দেখা দিয়েছিল, ইরানের ক্ষেত্রেও তেমন এক অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তবে সোভিয়েত সংকটের সময় রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে সহযোগিতা দেখা গিয়েছিল, বর্তমান বৈরী পরিবেশে ইরানের ক্ষেত্রে তা প্রায় অসম্ভব বলে মনে করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, ইরান সম্ভবত এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে ইউরেনিয়াম উদ্ধারের জন্য যুক্তরাষ্ট্র বা চীনের ওপর নির্ভর করতে ইচ্ছুক। অন্যদিকে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট করে দিয়েছেন, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম ইরান থেকে সরিয়ে না নেওয়া এবং পরমাণু কেন্দ্রগুলো পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন না করা পর্যন্ত এই যুদ্ধ শেষ হবে না। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে এই বিপজ্জনক তেজস্ক্রিয় পদার্থ উদ্ধার করা যেমন ব্যয়বহুল, তেমনি এটি অন্য কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়াও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত জটিল একটি প্রক্রিয়া।

ইরানের এই ঘটনাটি আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা বা আইএইএ-র সীমাবদ্ধতাগুলোকেও সামনে নিয়ে এসেছে। বর্তমান বিশ্বে যখন পরমাণু শক্তির বিস্তার ঘটছে, তখন আইএইএ-র বর্তমান কাঠামো এবং বাজেট সকল দেশের পরমাণু কর্মসূচি সঠিকভাবে তদারকি করার জন্য অপর্যাপ্ত বলে মনে করা হচ্ছে। যদি এই সংস্থা পরমাণু কর্মসূচির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হয়, তবে শক্তিশালী দেশগুলো আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক কাঠামোর বাইরে গিয়ে নিজেরা সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণের প্রবণতা বাড়িয়ে দেবে, যার মহড়া আমরা বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দেখতে পাচ্ছি।

এদিকে, ইরান যুদ্ধের ঢেউ এখন মধ্যপ্রাচ্যের উদীয়মান পরমাণু শক্তিগুলোর ওপর আছড়ে পড়ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিশর, তুরস্ক এবং সৌদি আরবের মতো দেশগুলো তাদের পরমাণু বিদ্যুৎ কর্মসূচি এগিয়ে নিতে চায়। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের মধ্যে পরমাণু সহযোগিতা চুক্তিটি এখন এক বড় বিতর্কের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। সৌদি আরব তাদের নিজস্ব ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের অধিকার বজায় রাখতে চায়। তবে এটা পরমাণু অস্ত্র বিস্তার রোধে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নীতির পরিপন্থী। তবুও ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে রাশিয়া বা চীনের প্রভাব কমাতে যুক্তরাষ্ট্রকে হয়তো এখানে নমনীয় হতে হতে পারে।

বিশ্বের পরমাণু বাজারে বর্তমানে রাশিয়া এবং চীন অত্যন্ত শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। রাশিয়া আকর্ষণীয় আর্থিক প্যাকেজ এবং বর্জ্য ফেরত নেওয়ার সুবিধার মাধ্যমে বাজার দখল করছে, আর চীন তাদের বিশাল শিল্প সক্ষমতা নিয়ে রপ্তানি বাজারে প্রবেশের অপেক্ষায় রয়েছে। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রকে তার পুরনো নীতি পরিবর্তন করে সৃজনশীল অংশীদারিত্বের কথা ভাবতে হচ্ছে। কারণ পরমাণু প্রযুক্তি রপ্তানির মানে হলো সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে অন্তত ১০০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করা। এটাও বিশ্ব রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তারের মূল চাবিকাঠি।

ন্যাশনাল ইন্টারেস্টের বিশ্লেষণ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফতুল্লায় ফোমের বালিশ কারখানায় আগুন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ১৫ই মে, ২০২৬ ইং

০৮:৪৬ পি.এম


ফতুল্লায় ফোমের বালিশ কারখানায় আগুন

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় ফোমের তৈরি বালিশ কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এই আগুনে কারখানার মেশিনপত্র, বিপুল সংখ্যক তৈরি বালিশ এবং ফোম পুড়ে গেছে।

শুক্রবার (১৫ মে) দুপুরে সদর উপজেলার ফতুল্লা থানাধীন কুতুবপুর ইউনিয়নের আদর্শনগর এলাকায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট এলাকায় আসা জনগণের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কারখানার মালিকের ধারণা অনুযায়ী, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত ঘটেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুপুরে হঠাৎ করে কারখানার টিনের চালের ফাঁক ফোকর দিয়ে প্রচুর পরিমাণে কালো ধোঁয়া বের হতে শুরু করে। এই ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে এবং আতঙ্ক ব্যবধান ঘটায়। তখন স্থানীয়রা ফায়ার সার্ভিসকে বিষয়টি জানান। কাঁচপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এলাকার জনগণের সহযোগিতায় সময়মত আগুন নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম হয়।

কারখানার মালিক সুমন জানালেন, তার কারখানায় ২২জন শ্রমিক কাজ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, বিদ্যুতের শর্ট সার্কিটের কারণেই এ দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। আগুনে তার ব্যবসার ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৫০ লাখ টাকা হবে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা জানিয়েছেন, আগুনে কারখানার সকল মেশিন পুড়ে গেছে। এ ছাড়া সেখানে মজুতকৃত তৈরি বালিশ ও ফোমও পুড়ে গেছে। তবে, ক্ষয়ের পরিমাণ এবং आग লাগার কারণ সম্পর্কে তদন্ত করে পরে বিস্তারিত জানানো হবে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা উল্লেখ করেছেন, যেহেতু কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তাই এটির কারণগুলো জানা প্রয়োজন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৩০শে জ্বিলহজ্জ, ১৪৪৭হিঃ
ফজর ০৩:৪৩
জোহর ১২:০০
আসর ০৪:৪০
মাগরিব ০৬:৪৭
ইশা ০৮:০৯
সূর্যোদয় : ০৫:১১ সূর্যাস্ত : ০৬:৪৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%