০৮:৪১ পি.এম
উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস করে বরিশালে রাতের আঁধারে নির্বিচারে পাচার হচ্ছে নিষিদ্ধ চিংড়ির রেণুপোনা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে এই চক্রটি ব্যবহার করছে নিত্যনতুন কৌশল। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এই অবৈধ বাণিজ্যের মূল হোতা গোপালগঞ্জের বাসিন্দা টুলু। আর তাকে নিরাপদে বরিশালের সীমান্ত পার করে দিতে মাঠপর্যায়ে ‘শেল্টারদাতা’ হিসেবে কাজ করছে স্থানীয় কিছু অসাধু চক্র, কথিত সাংবাদিক ও মৎস্য ব্যবসায়ী।
সম্প্রতি এই সিন্ডিকেটের সাথে ‘মফিজুর রহমান’ (ছদ্মনাম) নামে এক কথিত সাংবাদিক এবং পোর্টরোডের মৎস্য ব্যবসায়ী বিএনপি নাম ভাঙিয়ে রনির সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের সুযোগ নিয়ে তারা মধ্যরাতে প্রাইভেটকারে ‘সাংবাদিক’ স্টিকার লাগিয়ে এই নিষিদ্ধ রেণুর চালান নিরাপদে পার করে দিচ্ছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, বরিশাল বিভাগে অবৈধভাবে মাছ ও চিংড়ির রেণুপোনা পাচারের সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের প্রধান সমন্বয়ক হলেন গোপালগঞ্জের বাসিন্দা টুলু। এই চক্রের সাথে যুক্ত থেকে বিভিন্ন সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে আটক হয়েছেন জাকির, লিটন এবং রিয়াজ নামের তিন সহযোগী। এছাড়া বিভিন্ন সময় রেনু পরিবহনে যুক্ত থাকার অপরাধে ২০ থেকে ২২ জন ট্রাকচালক ও শ্রমিককে হাতেনাতে আটক করেছে প্রশাসন।
আরও পড়ুন: রোকনপুর সীমান্তে নারীকে পুশ-ইন-এর চেষ্টা প্রতিহত করলো বিজিবি
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, পটুয়াখালীর কলাপাড়া এবং ভোলার উপকূলীয় অঞ্চল থেকে প্রতিদিন নিষিদ্ধ উপায়ে বিপুল পরিমাণ চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করা হয়। এরপর ড্রাম ভর্তি করে ট্রাকে করে তা বরিশালের ওপর দিয়ে খুলনা বা বাগেরহাটের উদ্দেশ্যে পাচার করা হয়।
এই কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য টিকিয়ে রাখতে টুলু সিন্ডিকেট স্থানীয় প্রশাসন, মৎস্য কর্মকর্তা ও প্রভাবশালী মহলকে ম্যানেজ করার অপচেষ্টা চালায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কড়াকড়ির কারণে তারা কৌশলে ভিন্নতা এনেছে। অভিযোগ উঠেছে, মৎস্য ব্যবসায়ী রনি ও কথিত সাংবাদিক মফিজুর রহমান বর্তমানে একটি রাজনৈতিক দলের নাম ভাঙিয়ে এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছেন। গভীর রাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে তারা নিজেদের প্রাইভেটকারে ‘সাংবাদিক’ স্টিকার ব্যবহার করে রেণুর চালান নির্দিষ্ট গন্তব্যে পৌঁছে দেওয়ার ‘নিরাপদ রুট’ তৈরি করে দিচ্ছেন।
আরও পড়ুন: ময়মনসিংহে একদিনে ট্রেনে দুই বিপত্তি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাহত রেল চলাচল
টুলু ও তার সাঙ্গপাঙ্গদের এই অবৈধ তৎপরতা রুখতে প্রতিনিয়ত অভিযান চালাচ্ছে প্রশাসন। বরিশাল নগরীর রূপাতলী এবং শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাত (দপদপিয়া) সেতুসহ বিভিন্ন প্রবেশদ্বারে র্যাব-৮ ও নৌ পুলিশ চেকপোস্ট বসিয়ে একাধিকবার রেণুভর্তি ট্রাকসহ এই চক্রের সদস্যদের আটক করেছে। পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাদের মোটা অঙ্কের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু জামিনে বা জরিমানা দিয়ে বের হয়ে তারা আবারও একই পেশায় লিপ্ত হচ্ছে।
ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষিত আছে ‘তালাশ বিডি’র কাছে
জানা গেছে, মধ্যরাতে প্রাইভেটকারে সাংবাদিক স্টিকার লাগিয়ে রেণু পাচারের বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর ভিডিও ফুটেজ অনুসন্ধানী সংবাদ মাধ্যম ‘তালাশ বিডি’র হাতে এসেছে। আরও সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের কাজ চলছে এবং আগামী পর্বে এই চক্রের সাথে জড়িত পর্দার আড়ালের মূল কতজন সাংবাদিক আছে তাদের নামসহ বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
পরিবেশবিদ ও মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নদী ও সমুদ্র উপকূল থেকে একটি চিংড়ির রেণু সংগ্রহ করতে গিয়ে নির্বিচারে ধ্বংস করা হচ্ছে শত শত প্রজাতির অন্যান্য জলজ প্রাণী ও মাছের পোনা। টুলু সিন্ডিকেটের এই লোভী ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে উপকূলীয় অঞ্চলের প্রাকৃতিক মৎস্য সম্পদ ও জীববৈচিত্র্য আজ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়ছে। এতে দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় বড় ধরনের অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে।
এ বিষয়ে সাংবাদিক ছদ্মনাম মফিজুর রহমান জানান আমি এর মধ্যেও কোচ গার্ডের সাথে অভিযান পরিচালনা করেছি, তালাশ বিডির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দেয় আপনি অভিযান পরিচালনা করার কে আর অভিযান পরিচালনা করে আপনি একটা আয়ুস দিচ্ছেন দেশের জন্য কাজ করছেন। এই মুখোশধারী কথিত সাংবাদিক রেনুপনা পাচার মূল সেটার দাদা সে নাকি বরিশালের বিশাল বড় এক সাংবাদিক।
আরও পড়ুন: সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ৫ বছরের শিশুর সঙ্গে নৃশংসতা, পরে মৃত্যু
এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে সিন্ডিকেট প্রধান টুলুর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তার হোয়াটসঅ্যাপ নাম্বারে বিস্তারিত লিখে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো উত্তর মেলেনি।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন