প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
২৫ বছর পর অবশেষে পরিবারের কাছে ফিরছেন মোহাম্মদ ফরিদ। গতকাল (১৯ আগস্ট) রাতের খবর অনুযায়ী, শিশু বয়সে বাবার হাত ধরে বিদেশে পাড়ি জমিয়ে মানবপাচারের শিকার হওয়া ফরিদ এখন ফিরে পাচ্ছে তার পরিবার। কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের অপেক্ষা শেষ হচ্ছে।
আমরা জানি, সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরে বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল ১০টায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফরিদকে তার পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রদান করা হবে।
জানা গেছে, ফরিদ ভাই সৈয়দ আলম কক্সবাজার থেকে রাতের বাসে রওনা হয়েছেন। তিনি বৃহস্পতিবার ভোরে ঢাকার আশকোনায় ব্র্যাকের মাইগ্রেশন ওয়েলফেয়ার সেন্টারে পৌঁছাবেন। সেখানে ব্র্যাক ও প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ফরিদের হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা অনুষ্ঠিত হবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২৫ বছর আগে ফরিদ মাত্র ১০ বছর বয়সে বাবার সঙ্গে প্রথমে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। পরে সেখানে সড়ক দুর্ঘটনায় পা হারিয়ে যন্ত্রণার শিকার হন। দালাল চক্রের মাধ্যমে তাকে পাচার করে তুরস্কে নিয়ে গেলে পরিবারের সঙ্গে সম্পূর্ণ যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর গত মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) ভোর সোয়া ৫টায় টার্কিশ এয়ারলাইনসের (টি কে ৭১২) একটি ফ্লাইটে আঙ্কারা থেকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন ফরিদ।
বিমানবন্দরে ফরিদ দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার কারণে বাংলা ভাষা ভুলে গিয়ে শুধুমাত্র নিজের নাম, বাবা-মায়ের নাম ও কিছু অস্পষ্ট তথ্য বলতে পেরেছিলেন। বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্ক থেকে তাকে উদ্ধার করে ব্র্যাকের আশকোনা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। তারপর ব্র্যাকের কর্মীরা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের সহায়তায় মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফরিদের পরিবারকে খুঁজে বের করেন।
বুধবার বিকেলে ভিডিও কলে ফরিদকে তার পরিবারের সঙ্গে কথা বলানো হয়। দীর্ঘ ২৫ বছর পর ভাইকে চিনতে ফরিদ আত্মবিশ্বাস নিয়ে তার হাতে থাকা অতিরিক্ত একটি আঙুলের কথা মনে করিয়ে দেন সৈয়দ আলম।
বহুদিন পরে ভাইয়ের কাছে ফিরে আসার খবর পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন ফরিদ। সৈয়দ আলম জানান, তাদের বাবা আয়ুব আলী অধীর আগ্রহে এখনও পাকিস্তানে রয়েছেন। তারা চার ভাই-বোনের মধ্যে ফরিদ সবার বড়। তুরস্কে যাওয়ার পর বহু বছর ধরে পরিবার ভাবছিল যে ফরিদ বেঁচে নেই। আর অবশেষে দুই যুগ পর বড় ভাই ফিরে আসার আনন্দে উখিয়ার বাড়িতে কান্নার ঢল নেমেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন