প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বঙ্গবন্ধু চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ থেকে বাংলাদেশ চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদ দাবি জানিয়েছে, চরাঞ্চলের মানুষের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার জন্য পৃথক চর বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করা হোক এবং চরবাসীর জন্য আলাদা বাজেট বরাদ্দ করা হোক। তাদের বক্তৃতা অনুযায়ী, সোমবার (১ জুন) সকালে কুড়িগ্রাম প্রেস ক্লাবে তারা একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছে।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, দেশের শতাধিক উপজেলার প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে নদী ভাঙনের শিকার হয়ে রয়েছেন। কিন্তু দারিদ্র্য, অবহেলা ও পরিকল্পনার অভাবে চরাঞ্চলের মানুষ এখনো শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত রয়েছে। এই কারণে চরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে আলাদা পরিকল্পনা এবং বিশেষায়িত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন।
লিখিত বক্তব্যে, বাংলাদেশের চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক শফিকুল ইসলাম বেবু জানান, কুড়িগ্রাম দেশের অন্যতম বৃহৎ চরাঞ্চল অধ্যুষিত জেলা। এখানে প্রায় চার শতাধিক চর রয়েছে, এবং এর মধ্যে আড়াই শতাধিক চরের মানুষ বসবাস করে। দীর্ঘদিন ধরে এসব এলাকার মানুষ নদীভাঙন, দারিদ্র্য, যোগাযোগ সংকট এবং মৌলিক নাগরিক সুবিধার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছে।
তথ্য অনুযায়ী, গত ১০ বছরে কুড়িগ্রামে প্রায় এক লাখ মানুষ নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন হয়ে গেছে। নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে হাজারো পরিবারের বসতভিটা, ফসলি জমি ও জীবিকার উৎস। এই কারণে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তা থেকেও বাদ পড়ে যাচ্ছে। প্রতিবছর নতুন নতুন পরিবার বাস্তুচ্যুত হচ্ছে এবং তাদের সামনে অনিশ্চিত জীবন আসছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয় যে, জাতিসংঘের অভিবাসন বিষয়ক সংস্থা আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর ব্রহ্মপুত্র নদের ভাঙনে কুড়িগ্রাম জেলার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার অভ্যন্তরীণ স্থানান্তরের শিকার হয়। এছাড়া গত পাঁচ বছরে নদীভাঙনের কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবার স্থায়ীভাবে ঢাকা, ঠাকুরগাঁও ও পার্বতীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চলে গেছে।
এই অবস্থায় বক্তারা চরাঞ্চলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নদীভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা এবং পুনর্বাসনের জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আশরাফুল হক রুবেল, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাঈয়েদ আহমেদ বাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এসময় বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন