প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) বাড়ানোর লক্ষ্যে নতুন প্রণোদনা ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন যে, প্রবাসী বাংলাদেশি বা কোনো বিদেশি নাগরিক যদি দেশটিতে বিনিয়োগ নিয়ে আসে, সেক্ষেত্রে সেই বিনিয়োগের ওপর ১ দশমিক ৫ শতাংশ ইনসেনটিভ বা কমিশন দেওয়া হবে।
এছাড়া, প্রকৃত এবং ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের সহায়তা করার জন্য ৯ শতাংশ সুদে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠনের কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক। বুধবার (১০ জুন) বিকেলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিনে সংসদ সদস্যদের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ তথ্য জানান।
অর্থমন্ত্রীর বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে।
সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘সরকার শুধুমাত্র বিদেশি বিনিয়োগ নয়, বরং দেশীয় বিনিয়োগকেও উৎসাহিত করতে চায়। এ লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ (ডিরেগুলেশন) প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিভিন্ন উদ্যোগ বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
বিনিয়োগ বৃদ্ধি করতে ব্যাংকঋণের সুদের হার কমানোর বিষয় সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অর্থনীতির বিভিন্ন বিষয় পর্যালোচনা করা হচ্ছে। সুদের হার কমানো বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে কার্যকর হলে সে সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তবে এ বিষয় এখনও কোন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।’
সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য বেগম সাবিকুন্ নাহারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘স্বৈরাচারের সময় এই দেশে কী ঘটেছিল, তা সকলেই জানেন। অর্থনীতি এমন একটি বিষয়, যার ফল এক দিনে পাওয়া যায় না। খারাপ পলিসির প্রভাব যেমন ধীরে ধীরে আমাদের কাঁধে এসে পড়ে, ঠিক একইভাবে বর্তমান সরকারের নেওয়া ইতিবাচক পদক্ষেপগুলোর সুফল পেতেও কিছুটা সময় অপেক্ষা করতে হবে।’
এ সময় প্রধানমন্ত্রী সংসদকে জানান যে, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতোমধ্যে ৬ হাজার কোটি টাকার একটি তহবিল গঠন করেছে। যেসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান مختلفভাবে সমস্যার সম্মুখীন হয়েছে, কিন্তু সত্যিকার অর্থে যাদের ক্রেডিবিলিটি বা গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তাদের এই তহবিল থেকে ৯ শতাংশ সুদে ঋণ সহযোগিতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
সংসদ সদস্য বেগম জহরত আবির আদিব চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন যে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের মুনাফা নিজ দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার (প্রফিট রিপ্যাট্রিয়েশন) ক্ষেত্রে বিদ্যমান বাধা আইনের মাধ্যমে সমাধানের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ বৃদ্ধির কৌশল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী আরো বলেন, ‘সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে, বিদেশ থেকে কোনো বাংলাদেশি বা বিদেশি নাগরিক যদি বিনিয়োগ আনতে পারে, তাহলে তাকে মোট বিনিয়োগের ১ দশমিক ৫ শতাংশ কমিশন দেওয়া হবে। এর ফলে বিদেশে বসবাসরত দক্ষ এবং প্রভাবশালী বাংলাদেশিরা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারবেন এবং দেশে বৈদেশিক বিনিয়োগের প্রবাহ বাড়বে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন