প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ এবং যুক্তরাজ্য যৌথভাবে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করতে কাজ করবে। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী তাঁর কার্যালয়ে ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুকের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করেন। ফেব্রুয়ারির ৯ তারিখ রবিবার অনুষ্ঠিত বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক এবং সচিব মো. মোখতার আহমেদও।
ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারাহ কুক জানান, যুক্তরাজ্যের শ্রমবাজারের চাহিদার সঙ্গে সমন্বয় করে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরিতে যুক্তরাজ্য সরকারও সহযোগিতা করবে। তিনি বললেন, বাংলাদেশ থেকে নিরাপদ, নিয়মিত ও যৌক্তিক ব্যয়ে শ্রম অভিবাসন নিশ্চিত করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগ রয়েছে।
সারাহ কুক আরও জানান, বাংলাদেশ বর্তমানে যুক্তরাজ্যে আশ্রয়প্রার্থীদের তালিকায় শীর্ষ পাঁচ দেশের মধ্যে রয়েছে। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যে আশ্রয়ের আবেদন করা বাংলাদেশিদের মধ্যে অল্পসংখ্যক আবেদন অনুমোদন পেয়েছে। যারা প্রত্যাখ্যাত হয়েছেন, তাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, আশ্রয়ের আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে কেউ স্বেচ্ছায় বাংলাদেশে ফিরতে চাইলে সর্বোচ্চ ৩ হাজার পাউন্ড আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, তবে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ফেরত পাঠানোর ক্ষেত্রে এটি প্রযোজ্য নয়।
যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে অভিবাসন ব্যবস্থা উন্নয়ন এবং ‘গ্লোবাল কমপ্যাক্ট অন মাইগ্রেশন’ বাস্তবায়নে সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে ব্রিটিশ হাইকমিশনার কথা বলেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী জানান, শোষণ, অনিয়মিত অভিবাসন ও মানবপাচার প্রতিরোধে বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সহযোগিতা করতে চায়। দক্ষ ও মানসম্পন্ন মানবসম্পদ তৈরির জন্য, নিরাপদ কর্মসংস্থান এবং অভিবাসী কর্মীদের অধিকার ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকারের দৃঢ় অঙ্গীকার রয়েছে।
মন্ত্রী আরও এফসিডিও (FCDO), আইএলও (ILO) ও বিশ্বব্যাংকের অংশীদারত্বের মাধ্যমে বিদেশফেরত কর্মীদের টেকসই পুনর্বাসন কার্যক্রম অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন। অবদান রাখতে, দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় আলোচনা এবং অভিবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন কার্যক্রম তদারকিতে একটি ‘যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ’ গঠন করার প্রস্তাবও তাঁর।
প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক উল্লেখ করেন, ইউরোপের শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে, যুক্তরাজ্যের প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে বাংলাদেশের প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোর সংযোগ স্থাপন করা যেতে পারে। আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত কর্মীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে তরুণদের বৈধ পথে অভিবাসনের প্রতি আগ্রহ আরও বৃদ্ধি পাবে।
বৈঠকে বাংলাদেশের ব্রিটিশ হাইকমিশনের জাস্টিস অ্যান্ড হোম অ্যাফেয়ার্স কাউন্সিলর রায়ান ডানকানসনসহ উভয় দেশের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন