প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং ব্যবসার কাঠামো নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবে, মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান 'ওরাকল' গত এক বছরে বিশ্বজুড়ে প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। কম্পানিটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বার্ষিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মে তারিখ পর্যন্ত ওরাকলের পূর্ণকালীন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪১ হাজার। এই সংখ্যা এক বছর আগে ছিল প্রায় ১ লাখ ৬২ হাজার। অর্থাৎ, এক বছরে কর্মী সংখ্যা প্রায় ১৩ শতাংশ কমেছে। ওরাকল জানিয়েছে, তাদের বিভিন্ন কার্যক্রমে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর কারণে কর্মী সংখ্যা কমানো হয়েছে।
কম্পানিটি এছাড়াও সতর্ক করে বলেছে, ভবিষ্যতেও এআই ব্যবহারের ফলে আরো কিছু পদ বিলুপ্ত হতে পারে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসায়িক কার্যক্রমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার বৃদ্ধির কারণে কর্মী সংখ্যা কমছে। ভবিষ্যতে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, ওরাকলের এই সিদ্ধান্ত প্রযুক্তি খাতে চলমান বড় পরিবর্তনের অংশ। বর্তমানে বিশ্বের বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো এআইভিত্তিক অবকাঠামো গড়ে তুলতে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করছে। বিশেষ করে ডেটা সেন্টার নির্মাণ, উন্নত কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন এআই সেবা চালুর জন্য শত শত বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। এই বিনিয়োগের চাপ সামলাতে, অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটছে। সাম্প্রতিক সময়ে অ্যামাজন এবং ফেসবুকের মালিক মেটাও হাজার হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছে। কর্মসংস্থান পর্যবেক্ষণকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে প্রযুক্তি খাতে ১ লাখেরও বেশি কর্মী চাকরি হারিয়েছেন।
ওরাকল জানিয়েছে, কর্মী ছাঁটাই ও পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করতে গত এক বছরে তাদের প্রায় ১৮০ কোটি ডলার ব্যয় হয়েছে। এই অর্থ কর্মীদের ক্ষতিপূরণ, চাকরি ছাড়ার সুবিধা এবং পুনর্গঠন-সংক্রান্ত অন্যান্য খাতে খরচ করা হয়েছে। এর আগের অর্থবছরে একই খাতে কম্পানিটির ব্যয় ছিল ৩৭ কোটি ৪০ লাখ ডলার। ফলে, এক বছরের ব্যবধানে এই ব্যয় কয়েক গুণ বেড়েছে।
কম্পানিটি স্বীকার করেছে, পুনর্গঠনের এই প্রক্রিয়ায় কিছু ঝুঁকি রয়েছে। ওরাকল বলছে, কর্মী সংখ্যা কমানোর ফলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে দক্ষ জনবলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। এতে উৎপাদনশীলতা কমে যেতে পারে এবং ব্যবসার ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। পুনর্গঠনের এই উদ্যোগ কিছু ক্ষেত্রে কার্যক্রমে বিঘ্ন তৈরি করতে পারে।
বর্তমানে এআই খাতের বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য ডেটা সেন্টার নির্মাণ ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো গড়ে তোলার প্রতিযোগিতায় রয়েছে ওরাকল। ওপেনএআই, মেটাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের জন্য এআই অবকাঠামো সরবরাহে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে কাজ করছে কম্পানিটি। আগেই জানা গেছে, চলতি বছরে অবকাঠামো খাতে অন্তত পাঁচ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে ওরাকল। বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যক্তি এবং ওরাকলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ল্যারি এলিসন বর্তমানে কম্পানিটির প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে, প্রতিষ্ঠানটি এআই খাতে বিনিয়োগ দ্রুত বাড়াচ্ছে।
এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ানোর কারণে শুধুমাত্র ওরাকল নয়, বরং আরো অন্যান্য বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কর্মী সংখ্যা কমাচ্ছে। গুগল, অ্যামাজন ও মেটা চলতি বছরে সম্মিলিতভাবে প্রায় ৬৫ হাজার কোটি ডলার এআই খাতে বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে। অ্যামাজন জানিয়েছে, আগামী এক বছরে তারা শুধু এআই খাতেই ২ হাজার কোটি ডলার ব্যয় করবে। একই সঙ্গে কয়েক ধাপে প্রায় ৩০ হাজার কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে তাদের।
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের ফলে অনেক প্রতিষ্ঠানের কাজের ধরন বদলে যাচ্ছে। ফলে কিছু চাকরির চাহিদা কমে যাচ্ছে, আবার নতুন ধরনের দক্ষতার প্রয়োজন বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে আগামী কয়েক বছরে প্রযুক্তি খাতে কর্মসংস্থানের ধরনে আরো বড় পরিবর্তন দেখা দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন