প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) এবং পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ কর্তৃপক্ষ (পিপিপিএ) একীভূত হয়ে ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সরকার ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬’ এর প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিডা, বেজা ও পিপিপিএ বিলুপ্ত হয়ে গেছে। এই তিন সংস্থার সমন্বয়ে গঠিত হয়েছে নতুন ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ’।
প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে, ইনভেস্ট বাংলাদেশ আইন, ২০২৬-এর ধারা ১-এর উপধারা (২)-এর ক্ষমতাবলে সরকার ২০ আগস্ট থেকে আইনটি কার্যকর করেছে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে এতে স্বাক্ষর করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার।
নতুন কর্তৃপক্ষের পূর্ণাঙ্গ সাংগঠনিক কাঠামো এবং বিভিন্ন উইং ও টিম গঠনের কাজ ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে বলে জানানো হয়েছে। বিলুপ্ত বিডার নির্বাহী সদস্য এবং বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান নাহিয়ান রহমান রচি বলেছেন, গেজেট কার্যকর হওয়ার পর থেকে সব কার্যক্রম ইনভেস্ট বাংলাদেশ নামেই পরিচালিত হবে। নতুন টিম ও উইং গঠনসহ আরও অন্যান্য প্রক্রিয়াগুলো ধাপে ধাপে এগিয়ে নেওয়া হবে।
তিনি জানান, কয়েক মাসের প্রস্তুতি ও পরিশ্রমের পর ইনভেস্ট বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করায় তারা আনন্দিত। বিনিয়োগকারীরা দীর্ঘদিন ধরে বিনিয়োগসংক্রান্ত বিভিন্ন সেবার জন্য একটি একক ফ্রন্ট ডেস্কের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এই প্রয়োজন থেকেই তিনটি প্রতিষ্ঠানকে একীভূত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
নাহিয়ান রহমানের মতে, ইনভেস্ট বাংলাদেশকে বিনিয়োগকারীদের জন্য একটি একক সেবাকেন্দ্রে পরিণত করা হবে। এই পরিবর্তনের ফলে বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগসংক্রান্ত সেবা আরও সহজ, নির্বিঘ্ন এবং নির্ভরযোগ্যভাবে পাওয়ার সুযোগ লাভ করবেন।
নতুন আইনের অধীনে, ইনভেস্ট বাংলাদেশ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হিসেবে কাজ করবে। এর প্রধান কার্যালয় থাকবে ঢাকায়। সরকারের অনুমোদন নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে শাখা এবং বিদেশে লিয়াজোঁ কার্যালয় স্থাপনের সুযোগও রাখা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একজন চেয়ারম্যান এবং সাতজন সদস্য থাকবেন। চেয়ারম্যান একই সঙ্গে কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করবেন।
ইনভেস্ট বাংলাদেশের প্রধান দায়িত্ব হবে বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় খাত চিহ্নিত করা, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে প্রচার চালানো, বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও সরকারি সংস্থার মধ্যে সমন্বয় করা।
একীভূতকরণের ফলে বিডা, বেজা এবং পিপিপিএর বিদ্যমান সম্পদ, নথিপত্র, চুক্তি, দায়-দেনা এবং অন্যান্য বিষয় নতুন কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর হবে। একই সঙ্গে তিন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ইনভেস্ট বাংলাদেশের অধীনে দায়িত্ব পালন করবেন।
সরকার আশা করছে, নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে বিনিয়োগকারীদের সেবা আরও সহজ ও সমন্বিত হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও প্রতিবন্ধকতা কমিয়ে দেশে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে ইনভেস্ট বাংলাদেশ।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন