প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার ধামরাইয়ের বংশী নদীতে নোঙর করা একটি বালু তোলার ড্রেজারে দুর্দান্ত ডাকাতির ঘটনার অভিযোগে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ৬ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তাদের কাছ থেকে ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয়েছে, সাথে সঙ্গী হিসেবে ছিল মাটির নিচে লুকিয়ে রাখা ১টি দেশীয় পাইপগানসহ বিপুল পরিমাণ দেশীয় অস্ত্র।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ধামরাই থানায় অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাভার সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাকিবুল হাসান ইশান এই তথ্য তুলে ধরেন।
তিনি জানান, গত ১১ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে দুইটার দিকে ধামরাইয়ের ইসলামপুর এলাকায় অবস্থিত এক ড্রেজারে ইঞ্জিনচালিত ট্রলারযোগে একটি মুখোশধারী সশস্ত্র ডাকাত দল ১২-১৩ জনের সমন্বয়ে হানা দেয়। ডাকাতরা রামদা, পিস্তল, বন্দুক ও কাটারসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে ড্রেজারের ওপর উঠে পড়ে এবং সেখানে কর্মরত চারজন স্টাফকে মারধর করতে শুরু করে এবং অস্ত্রের মুখে তাদের জিম্মি করে। পরে ড্রেজার থেকে তারা দুটি ভারী ব্যাটারি, একটি ওয়েল্ডিং মেশিন, দুটি গ্রাইন্ডিং মেশিন, বৈদ্যুতিক তার, চারটি মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকাসহ মোট ২ লাখ ৪৪ হাজার ৫০০ টাকার মালামাল লুট করে এবং ট্রলারযোগে নদীর উত্তর দিকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনায় ড্রেজার মালিক মোস্তফা সাইদুজ্জামান বাদী হয়ে ধামরাই থানায় একটি ডাকাতি মামলা করেন। মামলা সূত্রে প্রকাশ পায়, ঢাকা জেলার পুলিশ সুপারের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও ধামরাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা খানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি বিশেষ দল তদন্ত করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ডাকাতদের অবস্থান শনাক্ত করা হয় এবং ঢাকা জেলা, গাজীপুর মেট্রোপলিটনের কোনাবাড়ী, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর এবং নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় টানা অভিযান চালিয়ে এই চক্রের ৬ সদস্য গ্রেপ্তার হয়।
গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন— মো. মাহাতাব হোসেন (৫২), মো. কামাল হোসেন (৫০), জয়নাল আবেদীন (২৮), আবির হাসান ওরফে আপ্পা (২৪), আরকান ওরফে আলিফ ইসলাম ছোটন (২৪) এবং মনা খান ওরফে মনির (৪৫)। তারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসলেও ঢাকার আশপাশে ভাড়াটিয়া হিসেবে থেকে এই অপরাধ চক্রটি গড়ে তুলেছিলেন।
ধামরাই থানার পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার বক্তাবলী এলাকার একটি শিপইয়ার্ডের কাছাকাছি আবাদি জমি ও ইটের স্তূপের পাশ থেকে মাটির নিচে প্লাস্টিকের বস্তা ও পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অস্ত্রগুলো উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত অস্ত্রের মধ্যে ১টি দেশীয় তৈরি পাইপগান, ১টি লোহার কাটার, ৪টি শাবল, ৩টি ক্র্যাকার, ৫টি ধারালো হাসুয়া, ১টি কাচে, ২টি দা এবং ১টি র্যাত রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন