প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম আমানুল্লাহ সার্কভুক্ত দেশগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্য ফুল-ফান্ডেড স্কলারশিপ চালুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বিশেষ করে নেপালের শিক্ষার্থীদের জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে সম্পূর্ণ বিনা খরচে উচ্চশিক্ষার সুযোগ চালু করার কথা জানান। এ উদ্যোগটি শিক্ষা, গবেষণা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের মাধ্যমে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং দক্ষিণ এশিয়ায় উচ্চশিক্ষা সহযোগিতাকে আরও শক্তিশালী করবে।
এ ঘোষণা তিনি বৃহস্পতিবার নেপাল থেকে কাঠমান্ডুর ধুমবারাহিতে অবস্থিত ন্যাশনাল কলেজের আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির ভাষণে দেন। এই সম্মেলনটি ক্রস-কালচারাল ও মাল্টিডিসিপ্লিনারি হাইব্রিড মডেলে অনুষ্ঠিত হয় এবং এতে বিভিন্ন দেশের গবেষক, মনোবিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও নীতিনির্ধারকেরা অংশগ্রহণ করেন।
উপাচার্য এ সময় বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম বিশ্ববিদ্যালয়, যা প্রায় ৪০ লাখ শিক্ষার্থী এবং আড়াই হাজারের বেশি কলেজ নিয়ে দেশের উচ্চশিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। প্রায় ৫০টি বিষয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত করা হয় এবং মনোবিজ্ঞান এখানে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
তিনি আরও বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে অনেক দেশবাসী শিক্ষার্থী মানসিক আঘাত ও ট্রমার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, দক্ষ কাউন্সেলিং ব্যবস্থা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা প্রদানের জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাপনার প্রয়োজন রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত না করে টেকসই মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব নয়। এই লক্ষ্য নিয়ে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করার দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
ড. আমানুল্লাহ জানান, বর্তমানে দেশে কাউন্সেলিং, অ্যাপ্লাইড এবং সোশ্যাল সাইকোলজিস্টের তীব্র অভাব রয়েছে। বর্তমান চাহিদা পূরণের জন্য অন্তত ৩০ হাজার মনোবিজ্ঞানীর প্রয়োজন, কিন্তু কর্মরত আছেন মাত্র ৩০০ জন। এ সংকট কাটাতে প্রত্যেক কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পর্যায়ক্রমে কাউন্সেলিং সেবা চালু এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক দক্ষ মনোবিজ্ঞানী তৈরিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি উচ্চশিক্ষা ও গবেষণায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের উপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, প্রশিক্ষণ, একাডেমিক বিনিময় এবং মানসিক স্বাস্থ্য উন্নয়ন কর্মসূচিতে অংশীদারত্ব গড়ে তুলতে কাজ করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষর করা হয়েছে। শিগগিরই মানসিক স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনেরও আয়োজন করা হবে।
তিনি কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়সহ নেপালের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে সার্কভুক্ত শিক্ষার্থীদের জন্য ঘোষিত স্কলারশিপের সুযোগ গ্রহণ করতে আহ্বান জানান এবং বাংলাদেশ-নেপালের শিক্ষা ও গবেষণা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন।
সম্মেলনে সার্কের মহাসচিব রাষ্ট্রদূত গোলাম সারওয়ার, নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান, কাঠমান্ডু বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. অচ্যুত ওয়াগল, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা ও সংস্কৃতি বিষয়ক দপ্তরের পরিচালক মোহাম্মদ শফিউল করিমসহ বিভিন্ন দেশের শিক্ষাবিদ, গবেষক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন