প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার বিচারকাজ মাত্র ১৯ দিনের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। আইনমন্ত্রী জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন, আদালত দুই আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
আজ আইনমন্ত্রী এক বিবৃতিতে বলেন, সরকারের আন্তরিকতা, পুলিশ তদন্তের দ্রুততা এবং বিচার বিভাগের সহযোগিতা এই রায় নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
আইনমন্ত্রী জানান, গত ১৯ মে রাজধানী পল্লবী এলাকায় ৮ বছরের রামিসা ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হয়। ঘটনার ৭ ঘণ্টার মধ্যে পুলিশ দুই প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করে। সরকারও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিয়েছিল এবং প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা ভুক্তভোগী পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
তিনি বলেন, রামিসার বাবা ঘটনার পর বিচার বিষয়ে আস্থা হারিয়ে ফেলেছিলেন। তখন সরকার তাকে আশ্বস্ত করেছিল যে, এই ঘটনার বিচার নিশ্চিত করা হবে। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হয়েছে।
আইনমন্ত্রী জানান, পুলিশ মাত্র ৫ দিনের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করে ২৪ মে অভিযোগপত্র দাখিল করে। একই দিন অভিযোগপত্র সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। আসামিপক্ষ আইনজীবী না নিলে রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগ দেওয়া হয়, যাতে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ না হয়।
তিনি আরো বলেন, আদালতের গ্রীষ্মকালীন অবকাশ সামনে থাকা সত্ত্বেও প্রধান বিচারপতির সহযোগিতায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোকে ছুটির আওতার বাইরে রাখা হয়। ফলে বিচার কার্যক্রমে কোনো বিলম্ব হয়নি।
আইনমন্ত্রী মামলার ধারাবাহিক কার্যক্রম তুলে ধরলেন। ১ জুন অভিযোগ গঠন, ২ জুন ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ, ৩ জুন আসামিপক্ষের সাক্ষ্য উপস্থাপন, ৪ জুন যুক্তিতর্ক এবং আজ ৭ জুন রায় ঘোষণার মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হয়েছে। তিনি জানান, আদালত মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে প্রধান আসামি সোহেল এবং তার সহযোগী স্ত্রীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।
আইনমন্ত্রী বলেন, এই রায় দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আসতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। রায় ঘোষণার পর রামিসার বাবা বিচার প্রক্রিয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেছেন, যা সরকারের জন্য একটি বড় অর্জন।
তিনি বলেন, জাতির কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনার ক্ষেত্রেও একই ধরনের কঠোর অবস্থান নেওয়া হবে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন