প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীকে কেন্দ্র করে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সারাদেশে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর। আগামী ২৩ জুন দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সম্ভাব্য কর্মসূচি ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বিবেচনায় দেশের সব মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার এবং রেঞ্জ ডিআইজিদের কাছে এ সংক্রান্ত জরুরি বার্তা পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) পাঠানো ওই বার্তায় আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য কর্মকাণ্ড মূল্যায়নের নির্দেশনা দেওয়া হয়। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর দিন বিভিন্ন জেলায় দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন, ব্যানার নিয়ে মিছিল কিংবা প্রকাশ্যে সমাবেশের চেষ্টা হতে পারে।
বার্তায় আরও উল্লেখ করা হয়, এ ধরনের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিশেষ করে এনসিপি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উত্তেজনা বা সংঘর্ষের আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি কর্মসূচিতে বাধা দেওয়া হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ঘিরেও বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ, গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার এবং মাঠপর্যায়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের আলোকে আগাম প্রস্তুতির অংশ হিসেবেই এ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, এ সংক্রান্ত নির্দেশনা তারা পেয়েছেন এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, “বর্তমানে কোনো নির্দিষ্ট হুমকি বা বিশেষ আশঙ্কার তথ্য নেই। তবে ২৩ জুনকে সামনে রেখে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি। একইসঙ্গে সামনে ১০ মহররমের আশুরাও রয়েছে, তাই নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, নগরবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের নিয়মিত টহল, চেকপোস্ট ও বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণআন্দোলনের মুখে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর আওয়ামী লীগের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলা ও গ্রেপ্তার অভিযান পরিচালিত হয়। বর্তমানে দলটির অধিকাংশ জ্যেষ্ঠ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন।
সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিচারিক প্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। তবে এর মধ্যেও দেশের বিভিন্ন স্থানে দলটির নেতাকর্মীদের ঝটিকা মিছিল ও সাংগঠনিক তৎপরতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বিভিন্ন সময় অভিযান ও ধরপাকড় চালিয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন