প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ক্রিকেটের মাঠে স্লেজিং নতুন কিছু নয়, তবে যদি স্লেজিংয়ের সঙ্গে আইপিএলের টোপ যুক্ত হয়, তাহলে পুরো পরিস্থিতি আরো মজার হয়ে ওঠে। আজ গল টেস্টের শেষ দিনে ভারতের যশস্বী জয়সওয়াল এমন এক দৃশ্য দেখালেন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে, যেখানে তার ‘মাইন্ড গেম’-এর শিকার হলেন নিরোশান ডিকভেলা।
শ্রীলঙ্কার ১৪২ রানের ৫ উইকেট পড়ার পর ডিকভেলা ব্যাটিংয়ে নামেন এবং ঠিক তখনই শুরু হয় জয়সওয়ালের স্লেজিং। জয়সওয়াল স্কয়ার লেগ থেকে ডিকভেলাকে আক্রমণাত্মক শট খেলতে উৎসাহিত করতে থাকেন।
তাদের কথোপকথন ছিল এরকম—
জয়সওয়াল: প্রথম ইনিংসে তো অনেক শট খেলেছ। (দ্বিতীয় ইনিংসে) আমাদের দেখতে হবে সেই রকম কিছু। চলো, করে দেখাও।
ডিকভেলা: তাই?
জয়সওয়াল: হ্যাঁ, আমি অপেক্ষা করছি। চলো, দেখাও। সেখানে মারো (ডিপ স্কয়ার লেগের দিকে ইশারা করে), কেন নয়?
ডিকভেলা: কোনো দরকার নেই। আমাকে আইপিএলে নিয়ে যাও, তারপর আমি মারব।
জয়সওয়াল: নিয়ে যাব, ১০০ শতাংশ। তুমি একটা ছক্কা মারো, আমি তোমাকে আইপিএলে নিয়ে যাব।
ডিকভেলা: ধন্যবাদ।
মজার এই কথোপকথন এখানেই শেষ হয়েছে। কিন্তু আসল মজা হলো পরের বলেই। প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা অফ স্টাম্পের বাইরে শর্ট বল করেন, ডিকভেলা জায়গা করে নিয়ে কাট করতে যান। কিন্তু শটটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেননি এবং ব্যাটের কিনারায় লেগে বল চলে যায় উইকেটকিপার ঋষভ পন্তের হাতে। ১০ রান করে ডিকভেলা আউট হয়ে যান। অর্থাৎ, আইপিএলের টোপ গিলে ছক্কা মারার চেষ্টা করতে গিয়ে তিনি পরের বলেই আউট হলেন।
ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে মুহূর্তটি দিনের সবচেয়ে আলোচিত ও মজার ঘটনার একটি হয়ে দাঁড়িয়েছে। জয়সওয়ালের ‘মাইন্ড গেম’ যে কার্যকরী ছিল, ডিকভেলার আউট হওয়া তার বড় প্রমাণ। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে জনপ্রিয় ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন, ‘জয়সওয়াল ও ডিকভেলার মধ্যকার কথোপকথনটি বেশ মজার ছিল। কারণ এতে একজন ক্রিকেটারের ব্যক্তিত্বের বিষয়টি ফুটে উঠেছে। ডিকভেলা একটু চঞ্চল এবং কথাবার্তায় সরব। এবং হয়তো এজন্যই তিনি জয়সওয়ালের প্রলোভনে সাড়া দিয়েছেন।’
হার্শা বলেন, ধৈর্যহারা হওয়ার কারণে শ্রীলঙ্কা শেষ দিনে ২ উইকেট হারিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘যখন শ্রীলঙ্কা ধৈর্য ধরে রক্ষণাত্মকভাবে ব্যাটিং করেছে, তখন তাদের কোনো সমস্যা হয়নি। যে দুটি উইকেট পড়েছে, সেগুলো মূলত মেজাজ ও ধৈর্য ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে।’
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ৭২ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে শ্রীলঙ্কার সংগ্রহ ছিল ১৯৫। স্বাগতিকদের জিততে দরকার আরও ১৭৭ রান, সফরকারী ভারতের চাই ৪ উইকেট। সোনাল দিনুশা ৮০ ও কেশারা নুয়ান্থা ১৩ রান নিয়ে ব্যাটিং করছিলেন। ম্যাচের এখনো প্রায় ৬০ ওভার বাকি রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন