প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ঢাকার পর এ বার যশোর আদ-দ্বীনে ভুল চিকিৎসা ও চিকিৎসকদের অবহেলার ফলস্বরূপ ইমরান (৩৫) নামে এক মাছ ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এর প্রেক্ষিতে হাসপাতালের সামনে রোগীর স্বজন এবং প্রতিবেশীরা বিক্ষোভ করতে শুরু করেন।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে যশোরের পুলেরহাট এলাকার আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার কারণে হাসপাতাল চত্বরে ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। মৃতের স্বজন এবং স্থানীয় জনতা একাধিকবার বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মৃত ইমরান যশোর জেলার শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। তিনি মূলত একজন মাছ ব্যবসায়ী এবং পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য ছিলেন।
ইমরানের পরিবারের বক্তব্য অনুযায়ী, তীব্র জ্বর এবং শ্বাসকষ্ট নিয়ে ইমরানকে বৃহস্পতিবার বিকেল পাঁচটার দিকে আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এই সময় জরুরি বিভাগে দায়িত্বে থাকা চিকিৎসক সুপান্ত ভৌমিক তাকে ভর্তি করে পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে পাঠান। সেখানে কর্তব্যরত সহকারী রেজিস্টার ডা. রাহাত ও মেডিকেল অফিসার ডা. মুন্নি রোগীকে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই একের পর এক ইনজেকশন প্রয়োগ করেন।
ইমরানের খালাতো ভাই ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করেন, প্রথম ইনজেকশন দেওয়ার পর থেকেই ইমরান তীব্র অস্বস্তি অনুভব করতে শুরু করেন। এই বিষয়টি সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের জানানো হলেও তারা কোনো গুরুত্ব দেননি। তারপরে পরবর্তী ইনজেকশন দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ইমরানের মুখ দিয়ে ফেনা বের হতে শুরু করে এবং কিছুক্ষণের মধ্যেই তিনি নিস্তেজ হয়ে পড়েন। তখন রোগীকে হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তরিত করা হয়, সেখানে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ দিকে ভুল ইনজেকশন ও চিকিৎসকদের অবহেলায় ইমরানের মৃত্যু হয়েছে বলে খবর ছড়িয়ে পড়লে তার স্বজন, প্রতিবেশী এবং স্থানীয় লোকজন হাসপাতালে সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। তারা দায়ী চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে বিচার এবং শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। কোতোয়ালি থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি শান্ত করে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, এই হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলার কারণে রোগীদের মৃত্যুর ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে একাধিকবার ভুল চিকিৎসায় রোগী মৃত্যু এবং সিজার, অপারেশনসহ বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে স্বাস্থ্য বিভাগের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কিন্তু কোনো সুফল পাননি।
এই ঘটনার পরে মৃতের বাবা শওকত আলী বিশ্বাস যশোর কোতোয়ালি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ (সাধারণ ডায়েরি) করেছেন।
তবে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আদ্-দ্বীন সকিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন। তিনি দাবি করেন, রোগীকে নিয়ম মেনেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। রোগীকে গ্যাসের ইনজেকশন, এন্টিবায়োটিক ইনজেকশন এবং স্যালাইন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটলে জীবন রক্ষাকারী শেষ ইনজেকশন 'হাইসোমাইড' রোগীর শরীরে পুশ করা হয়।
ডা. ইমদাদ দাবী করেন, এর বাইরের কোনো ওষুধ ব্যবহার করা হয়নি। রোগী জ্বরের ইতিহাস নিয়ে ভর্তি হলেও অন্যান্য শারীরিক সমস্যার কারণে কার্ডিয়াক অ্যারেস্টের ফলে মারা গেছেন।
মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার জন্য ময়নাতদন্ত ছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই উল্লেখ করে তিনি প্রাথমিকভাবে হৃদরোগের কারণে মৃত্যুর কথা জানান।
যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেছেন, ‘রাতে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে এই বিষয়টি জানলাম। তবে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। শুক্র ও শনিবার সরকারি ছুটি। রোববার অফিস খুললে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রয়োজনে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাসুম খান জানান, রাতেই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ঘটনার পর হাসপাতাল এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে দায়িত্ব পালন করছেন। মৃতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রসঙ্গত, যশোর শহরের রেল রোডে আদ-দ্বীন হাসপাতালের গোড়াপত্তন হয়েছিল। এই হাসপাতালে একসময় অনিয়ম এবং ভুল চিকিৎসার কারণে নিয়মিত রোগী মৃত্যুর অভিযোগ উঠতো। বিক্ষুব্ধ লোকেরা এখানে অনেকবার ভাঙচুরও করেছেন। আলো-বাতাসের সংকট থাকে এবং হাসপাতালটি মূলত প্রসূতি ও শিশুদের জন্য।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন