প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বুরকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট ও সামরিক শাসক ইব্রাহিম তাওরে ইসলামিক ব্যক্তিত্ব ও ইমামদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেন, উগ্রবাদী ইসলামের বিরুদ্ধে তাদের লড়াই ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।
তাঁর এই বক্তব্য নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে, কারণ এর আগে কয়েকজন প্রভাবশালী ইমামকে আটক এবং একটি বিতর্কিত ধর্মীয় আইন পাস করা হয়েছিল।
তাওরে মুসলিম ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশে বলেন, উগ্রবাদ প্রচার করলে রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, “যদি এটি আপনাদের ইসলাম হয়ে থাকে, আমরা এর বিরুদ্ধে লড়ব। উগ্রবাদীদের অবশ্যই পরিবর্তন হতে হবে। যদি তারা পরিবর্তন না হয়, তাহলে যুদ্ধ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।”
এদিকে, বিতর্কিত ধর্মীয় আইনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাওরে বলেন, এই আইনের মাধ্যমে বুরকিনা ফাসোর ধর্মনিরপেক্ষ চরিত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যারা খুতবায় উগ্রবাদ ছড়াবেন, তাদেরকে বহিষ্কার করা হবে।
তবে যারা ইসলামের শান্তির বার্তা প্রচার করবেন, তাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দেন তাওরে। তাঁর অভিযোগ, বিদেশি শক্তিগুলো ধর্মকে ব্যবহার করে বুরকিনা ফাসোকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক সময়ে দেশটির সামরিক সরকার ও মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বেড়েছে। গত মে মাসে প্রসিদ্ধ সুন্নি ইমাম মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোকে নিরাপত্তা বাহিনী আটক করে। তিনি ধর্মীয় আইনের খসড়ার তীব্র সমালোচনা করেছিলেন।
এরপরেই মুসল্লিরা তাঁর মুক্তির দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন। এ অবস্থায় কর্তৃপক্ষ রাজধানী ওগাদোগুর সবচেয়ে বড় সুন্নি মসজিদ নিরাপত্তার কারণে বন্ধ করে দেয়। বর্তমানে মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দো কোথায় রয়েছেন, তা জানা যায়নি।
বার্তা সংস্থা এএফপির তথ্য অনুযায়ী, মোহাম্মদ ইশহাক কিন্দোর প্রায় ১০০ সমর্থককে আটক করে সেনাবাহিনীর বন্দিশালায় নেওয়া হয়েছে। সেখানে তাদের ‘নাগরিক প্রশিক্ষণ’ দেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
এর আগে এপ্রিলের মাঝামাঝিতে একই ধরনের অভিযোগে মাহমুদ বারো নামের আরেক ইমামকে আটক করা হয়।
গত ২০ জুন বুরকিনা ফাসোর অন্তর্বর্তীকালীন পার্লামেন্ট সর্বসম্মতিক্রমে একটি ধর্মীয় আইন পাস করে। আইনটিতে শিশুদের দিয়ে ভিক্ষা করানো, ধর্মের অপব্যবহার এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত না হলে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
সরকারের দাবি, ধর্মনিরপেক্ষতা অক্ষুণ্ন রাখতেই এই আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের উদ্দেশ্যেই আইনটি করা হয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন