প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোতে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হওয়ায় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাকে জরিমানা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোর একটি আদালত, পরিমাণ ৫৬৭ মিলিয়ন (৫৬ কোটি ৭০ লাখ) মার্কিন ডলার।
এর আগে আরেকটি জরিমানা যুক্ত করে, বিচারক ব্রায়ান বিডশেইডের নির্দেশে মেটার মোট অর্থদণ্ড ৯৪২ মিলিয়ন (৯৪ কোটি ২০ লাখ) ডলারে পৌঁছেছে। এই অর্থদণ্ড শিশু নিরাপত্তা সংক্রান্ত মামলায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরোপিত সর্বাধিক আর্থিক দণ্ড হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
রায়ে আদালত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটাকে পরিবেশ দূষণকারী কারখানার সঙ্গে তুলনা করে একটি জনউপদ্রব হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলে হয়েছে, কারখানা থেকে নির্গত বিষাক্ত ধোঁয়া সাধারণ মানুষের শ্বাসপ্রশ্বাসের বাতাসকে যেভাবে দূষিত করে, তেমনিভাবে মেটার প্ল্যাটফর্মের কারণে শিশুরা মানসিক ক্ষতি ও যৌন শোষণের শিকার হয়ে থাকে, যা শুধুমাত্র অনলাইনেই সীমাবদ্ধ থাকে না।
এই বিষয়টি পরিবার, স্কুল এবং সমাজজুড়ে গুরুতর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। আদালত এই ক্ষতি মোকাবিলা করতে জরিমানার অধিকাংশ অর্থ দিয়ে একটি বিশেষ তহবিল গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন, যা ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের চিকিৎসাসেবা, মনস্তাত্ত্বিক সহায়তা এবং শিক্ষক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সচেতনতা প্রশিক্ষণে ব্যয় করা হবে।
২০২৩ সালে নিউ মেক্সিকো অঙ্গরাজ্যের পক্ষ থেকে দায়ের করা মামলায় মেটার বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, যে প্রতিষ্ঠানটি তাদের রিকমেন্ডেশন অ্যালগরিদমের মাধ্যমে অপ্রাপ্তবয়স্ক ব্যবহারকারীদের ক্ষতিকর কনটেন্ট ও যৌন নিপীড়কদের দিকে ধাবিত করেছে। আদালতের দ্বিতীয় ধাপের এই নির্দেশে জরিমানার পাশাপাশি ১৮ বছরের কম বয়সী ব্যবহারকারীদের সুরক্ষায় মেটাকে বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে প্রাপ্তবয়স্ক ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সরাসরি বার্তা আদান-প্রদানে নিষেধাজ্ঞা, রাত ১০টা থেকে সকাল ৭টা এবং স্কুল চলাকালীন সময়ে পুশ নোটিফিকেশন বন্ধ করা, পোস্টের লাইক সংখ্যা গোপন রাখা এবং মাসিক সর্বাধিক ৯০ ঘণ্টা ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা।
তবে এই রায়ের তীব্র বিরোধিতা করে উচ্চ আদালতে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপের অভিভাবক প্রতিষ্ঠান মেটা। তাদের দাবি হলো, কিশোর-কিশোরীদের সুরক্ষায় তারা ধারাবাহিকভাবে কাজ করে আসছে এবং এই রায়ে প্রকৃত তথ্য প্রতিফলিত হয়নি। নিউ মেক্সিকোর এই ঐতিহাসিক রায়ের পর আগামী সপ্তাহেই ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় তিন ডজন মার্কিন অঙ্গরাজ্যের দায়ের করা শিশু গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনের মামলায় নতুন বিচার প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হতে যাচ্ছে টেক জায়ান্টটি।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন