প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের অত্যন্ত সুরক্ষিত ভূগর্ভস্থ পরমাণু কেন্দ্র ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’-এ সামরিক হামলার নতুন হুমকি দিয়েছেন। তিনি এই বিস্ফোরক মন্তব্যটি করেছেন হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে।
ট্রাম্প দাবি করেন, গত কয়েক মাস ধরে ইরানের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনের যে সামরিক অভিযান চলছে, তার মূল লক্ষ্য হচ্ছে তেহরানকে পরমাণু অস্ত্র অর্জনের হাত থেকে রক্ষা করা। তিনি বলেন, গত পাঁচ মাসের মার্কিন পদক্ষেপের ফলে ইরান পরমাণু অস্ত্র অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে এবং তেহরানের হাতে এই অস্ত্র থাকলে পরিস্থিতি বর্তমানের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠত।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন সাইটের বর্তমান গতিবিধি অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে, এমন তথ্য দেন ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দেন যে, যদি ওই ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় বিন্দুমাত্র সন্দেহজনক কার্যক্রম লক্ষ্য করা যায়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে কঠোর আঘাত হানবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, ইরানজুড়ে যেকোনো ধরনের সামরিক বা কৌশলগত নড়াচড়া তাদের নখদর্পণে রয়েছে।
‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ নামের এই ভূগর্ভস্থ কমপ্লেক্সটি ইরানের নাতানজ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছাকাছি অবস্থিত এবং এতে দুটি গভীর সুড়ঙ্গ ব্যবস্থা রয়েছে। বিভিন্ন সূত্রে প্রকাশ, ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাত দিয়ে, ইরান তাদের হাজার হাজার সেন্ট্রিফিউজ এই গভীর ভূগর্ভস্থ সুবিধাজনক স্থানে স্থানান্তর করেছে। এই স্থাপনার ভূগর্ভস্থ গঠনপ্রকৃতি এতটাই মজবুত যে প্রচলিত উপায়ে বিমান হামলা চালিয়ে একে ধ্বংস করা বেশ দুরূহ, যা ইরানের পরমাণু অবকাঠামো ধ্বংসের মার্কিন অভিযানের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বর্তমান সামরিক উত্তেজনার পটভূমি তুলে ধরে ট্রাম্প দাবি করেন, মার্কিন সামরিক হস্তক্ষেপের ফলেই মধ্যপ্রাচ্যে একটি বড় ধরনের আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়ানো সম্ভব হয়েছে। তিনি মন্তব্য করেন, আমেরিকার এই সময়োপযোগী পদক্ষেপ না থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরায়েলের অস্তিত্ব সংকটে পড়ত এবং পরবর্তীতে ইউরোপীয় ও মার্কিন শহরগুলোও বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়তে পারত। এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড সেন্টকম জানায়, তারা ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর আইআরজিসি'র বিভিন্ন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ধারাবাহিক বিমান হামলা সম্পন্ন করেছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জলযান এবং মার্কিন সেনা সদস্যদের লক্ষ্য করে তেহরানের সাম্প্রতিক আগ্রাসী প্রচেষ্টার প্রতিক্রিয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প জানান, মার্কিন হামলায় ইরানের অত্যাধুনিক রাডার সিস্টেম ধ্বংস হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তার বাহিনী ইতোমধ্যে দুই দফায় তাদের রাডার সিস্টেম সম্পূর্ণ গুঁড়িয়ে দিয়েছে। বারবার আক্রমণের মুখে পড়ে ইরানের সামরিক বাহিনী নতুন করে রাডার স্থাপনের আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে, আমেরিকার এই ধারাবাহিক সামরিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একে দেশটির সার্বভৌমত্বের ওপর চরম লঙ্ঘন এবং বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর আগ্রাসন বলে অভিহিত করেছে। মার্কিন হামলার জবাব হিসেবে তেহরানও পশ্চিম এশিয়ায় অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে নিজস্ব শক্তিতে প্রতিরক্ষামূলক পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন