প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সিলেট নগরের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনের মাধ্যমে রায়হান আহমদ হত্যা মামলায় প্রধান আসামী পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেছে আদালত। একই সঙ্গে, অপর দুই আসামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং তিনজনকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে সিলেটের মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী রায়টি ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় ছয় আসামির মধ্যে পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আশেক এলাহী আদালতে উপস্থিত ছিলেন, অন্য পাঁচ আসামী পলাতক অবস্থায় রয়েছে।
আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মুমিনুল ইসলাম রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আকবর হোসেন ভূঁইয়া ছাড়া অন্য দুই আসামী কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ ও টিটু চন্দ্র দাসকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং এক লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। এছাড়া পুলিশের এসআই মো. হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী ও সাংবাদিক আব্দুল আল মামুনকে সাত বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে পিপি মুমিনুল ইসলাম বলেন, রাষ্ট্রপক্ষ এই রায়ে প্রাথমিকভাবে সন্তুষ্ট। তবে রায় পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এদিকে, নিহত রায়হানের মা সালমা বেগমও রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। রায় ঘোষণার সময় তিনি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ‘রায়ে আমি সন্তুষ্ট। এখন প্রধান অভিযুক্ত আকবর হোসেনকে ফাঁসির দড়িতে ঝুলিয়ে রায় কার্যকর করলে আমরা শান্তি পাব। রায়হানের আত্মাও শান্তি পাবে।’
তবে আসামিদের পলাতক থাকা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন সালমা বেগম। তিনি বলেন, ‘আজকে তো শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা তো শাস্তি পাচ্ছে না। আসামিরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে গেল।’
প্রসঙ্গত, ২০২০ সালের ১০ অক্টোবর মধ্যরাতে সিলেট নগরের কাষ্টঘর এলাকা থেকে রায়হানকে ধরে নিয়ে বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে আটকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন সকালে তার মৃত্যু ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের সময় এক পুলিশ সদস্যের মোবাইল ফোন থেকে রায়হানের পরিবারের কাছে টাকা চাওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় ১১ অক্টোবর রায়হানের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার নির্যাতন ও হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর সিলেট মহানগর পুলিশের তৎকালীন উপকমিশনার (উত্তর) আজবাহার আলী শেখের তত্ত্বাবধানে তিন সদস্যের একটি কমিটি তদন্ত করে পুলিশ হেফাজতে রায়হানের মৃত্যুর বিষয়ে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হয়। ১২ অক্টোবর ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ চার পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। আরো তিনজনকে ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করা হয়। পরে মামলাটি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) হস্তান্তর করা হয়।
ঘটনার পর পালিয়ে যাওয়া আকবরকে ২০২০ সালের ৮ নভেম্বর রাতে ভারতের দনা বস্তি এলাকা থেকে খাসিয়া সম্প্রদায়ের লোকজন আটক করেন। পরদিন তাকে সীমান্তবর্তী দনা এলাকায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।
২০২১ সালের ৫ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক আওলাদ হোসেন আদালতে প্রায় এক হাজার ৯০০ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে ছয়জনকে আসামী করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য। তারা হলেন এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এসআই হাসান উদ্দিন, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস ও হারুন অর রশিদ। অপর আসামী আব্দুল আল নোমানের বিরুদ্ধে ঘটনার পর ভিডিও ফুটেজ গায়েব করার অভিযোগ আনা হয়।
গত বছরের ১০ আগস্ট উচ্চ আদালত থেকে জামিন পান মামলার প্রধান আসামী আকবর। পরদিন ১১ আগস্ট সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে তিনি পালিয়ে যান। মামলার অন্য আসামিদেরও পলাতক থাকার বিষয়টি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন রায়হানের মা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন