প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
চিটাগাং চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে চীন ভিত্তিক ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ডট কমের প্রতিনিধিদলের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভা শনিবার চট্টগ্রাম নগরীর ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন ছিল। এতে চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক, সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী এবং আলিবাবা ডট কমের পাকিস্তান ও বাংলাদেশের জেনারেল ম্যানেজার গাওয়া সামার, সিনিয়র স্পেশালিস্ট ও বাংলাদেশ চ্যানেল ম্যানেজার ওয়াং কিলিং ভানিয়া দুটি দেশের প্রতিষ্ঠানের পক্ষে নেতৃত্ব দেন।
এসময় চেম্বার সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেন, বাংলাদেশ এখন অর্থনৈতিক রূপান্তরের এক নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করছে। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে বন্ডেড ওয়্যারহাউজ এবং ফ্রি-ট্রেড জোন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এছাড়া চট্টগ্রামে আনোয়ারায় চীনা বিশেষায়িত ইকোনমিক জোন বাস্তবায়নে সরকার অনুমোদন দিয়েছে। তিনি বলেন, যেহেতু ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান আলিবাবা ডট কমের বিশ্বব্যাপী অনলাইনে পণ্য সরবরাহ করে থাকে, তাই তিনি বাংলাদেশের বিভিন্ন পণ্য আলিবাবার অনলাইন প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চীন, বিশেষায়িত অঞ্চল এবং সরকার নির্ধারিত ফ্রি-ট্রেড জোনে রপ্তানি নির্ভর পণ্য উৎপাদন এবং ইনটেক সার্ভিস স্টেশন করার জন্য আহ্বান জানান চেম্বার সভাপতি।
তিনি আরও বলেন, চীন বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন সহযোগী। ভৌগোলিক নৈকট্যের কারণে উভয় দেশের মধ্যে নতুন অর্থনৈতিক সংযোগ গড়ে উঠেছে। এজন্য তিনি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ী টু ব্যবসায়ী যোগাযোগ বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। তিনি আলিবাবা ডট কমের বাংলাদেশে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ, ই-কমার্স, এআই ট্রেনিংসহ সব ধরনের উদ্যোগে চিটাগাং চেম্বারের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।
আলিবাবার জেনারেল ম্যানেজার গাওয়া সামার বলেন-১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত আলিবাবা ডট কম বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান। বিশ্বজুড়ে এই প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৫০ মিলিয়নের অধিক সক্রিয় ক্রেতা রয়েছে। এছাড়া দুই লাখের অধিক সাপ্লাইয়ার্স থেকে দুই বিলিয়নের অধিক পণ্য সরবরাহ করে থাকে প্রতিষ্ঠানটি। তিনি বলেন, যেহেতু বাংলাদেশে একটি বিশাল জনগোষ্ঠী রয়েছে, তাদের কথা বিবেচনায় রেখে আলিবাবা ডট কমের বাংলাদেশে কীভাবে আরও ব্যবসা সম্প্রসারণ করা যায় সে লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিশেষ করে চট্টগ্রাম অঞ্চলে এগ্রো এবং সী-ফুডের উল্লেখযোগ্য উৎপাদনশীলতা রয়েছে এবং বিশ্বব্যাপী এর চাহিদাও রয়েছে। গাওয়া সামার বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাকের বাইরে পণ্য বৈচিত্র্যকরণ ও রপ্তানি এবং ই-কমার্স ও এসএমই উদ্যোক্তাদের আলিবাবার প্ল্যাটফর্মে যুক্ত করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। এরই অংশ হিসেবে চট্টগ্রামে আলিবাবার সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা প্রশিক্ষণসহ রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ সংক্রান্ত তথ্য পাবে।
চিটাগাং চেম্বারের সাবেক সভাপতি আমীর হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে এখনও ই-কমার্স উল্লেখযোগ্য হারে সম্প্রসারিত হয়নি। তিনি জানান এজন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ। তিনি আরও বলেন, আলিবাবা যেহেতু বিশ্বব্যাপী পণ্য সরবরাহ করে, তাই বাংলাদেশে রপ্তানি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের তরুণ উদ্যোক্তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ই-কমার্স এর সম্প্রসারণ এবং রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণে ভূমিকা রাখতে পারে আলিবাবা ডট কম।
এটি একটি সফল ব্যবস্থা ছিল যেখানে চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আমজাদ হোসেন চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মোহাম্মদ মসিউল আলম স্বপন, পরিচালক কামাল মোস্তফা চৌধুরী, আবু হায়দার চৌধুরী (আমজাদ), আমান উল্লা আল ছগির (ছুট্টু), মোহাম্মদ মনির উদ্দিন, মোহাম্মদ সাজ্জাদ উন নেওয়াজ, মো. আফসার হাসান চৌধুরী (জসিম), মো. জাহিদুল হাসান, আসাদ ইফতেখার, মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, সরোয়ার আলম খান, শহীদুল আলম ও মো. সেলিম নুর, আলিবাবা ডট কমের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার ঝাং সুহাই ব্রাইস, সার্ভিস ও অ্যাকাউন্ট ম্যানেজার ট্যাং হংজিয়া টিনা, বাংলাদেশের চ্যানেল ম্যানেজার সোনোবার মাইরা, বাংলাদেশস্থ ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. ফয়জুল আলম, নির্বাহী পরিচালক শান শাহেদ ও কনসালটেন্ট সাজিদ বিন সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন