প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
নাটোর জেলার সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষিশিক্ষক আব্দুল আজিজ নিজের আঙুর বাগান পরিচর্যা করছেন। সম্প্রতি তোলা একটি ছবিতে দেখা যাচ্ছে। কালের কণ্ঠের প্রকাশনায় এসেছে এ খবর।
ফল চাষের বিষয়ে কথাটি উঠলে সাধারণত সকলের মাথায় বিদেশের বিস্তীর্ণ বাগানের ছবিই ভেসে ওঠে। তবে, এই প্রচলিত ধারণা পুরোপুরি বদলে দিয়েছেন আব্দুল আজিজ।
শখের আঙুর চাষই এখন তার সাফল্যের নতুন গল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
নাটোরের সিংড়া উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের কৃষিশিক্ষক আব্দুল আজিজ ছাত্রজীবন থেকেই কৃষির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। তিনি আগেই ড্রাগন এবং আপেল কুল চাষে সাফলতা অর্জন করেছিলেন। তবে এবার তিনি নতুন স্বপ্ন দেখছেন আঙুরের কারণে।
আব্দুল আজিজ জানান, তিনি মাত্র ৯ মাস আগে বাড়ির পাশে প্রায় এক বিঘা পতিত জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে কয়েকটি আঙুরের চারা রোপণ করেন। ইউটিউবে আঙুর চাষের কৌশল শিখে তিনি ধীরে ধীরে গাছের পরিচর্যা করতে শুরু করেন। শুরুতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকলেও ধৈর্য, পরিশ্রম এবং পরিকল্পনার মাধ্যমে তিনি সফলতা অর্জন করতে পেরেছেন।
তিনি উল্লেখ করেন যে, প্রথম দিকে শখের বসে বাড়ির আঙিনায় মাত্র চারটি বাইকুনুর জাতের চারা লাগিয়েছিলেন। পরে একটি গাছ থেকে পান সাত-আট কেজি আঙুর। সেই সাফল্যই তার ভাবনায় পরিবর্তন আনে। এরপর তিনি বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের উদ্যোগ নেন।
আজিজের বাগানে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাছে গাছে ঝুলছে এখন পাঁচ জাতের আঙুর। বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং এবং ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরে ভরে উঠেছে পুরো বাগান। প্রত্যেক গাছেই থোকায় থোকায় ফল ঝুলছে।
আজিজ বলেন, ‘শুরুতে এটা শুধু শখ ছিল। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে এটি একটি সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। সঠিক পরিচর্যা ও পরিকল্পনা থাকলে আমাদের দেশেও আঙুর চাষ সম্ভব। বাজার ভালো থাকলে এবার প্রায় ৯ লাখ টাকার আঙুর বিক্রির আশা করছি।’
এদিকে, আজিজের এই উদ্যোগ দেখতে প্রতিদিনই বাগানে ভিড় করছে স্থানীয় কৃষক এবং উৎসুক মানুষ। অনেকেই তার কাছ থেকে পরামর্শ নিচ্ছেন এবং কিনছেন চারাও। স্থানীয়দের ভাষ্য, এভাবে আঙুর চাষ বাড়ানো হলে একসময় নাটোরের চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলায়ও সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
বাগানে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা জানান, ভিডিওতে আঙুর চাষ দেখেছি, কিন্তু এখানে এসে সরাসরি এত আঙুর ফলতে দেখে খুব ভালো লাগছে। আমরা সবাই চারা নিয়ে বাড়িতে লাগানোর চিন্তা করছি।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বলেন, গত বছরও সিংড়ায় পরীক্ষামূলক আঙুর চাষে সফলতা পাওয়া গেছে। বিশেষ করে বাইকুনুর, সামার রয়েল, ডিক্সন, গ্রিন লং এবং ব্ল্যাক ম্যাজিক জাতের আঙুরের ফলন ছিল আশাব্যঞ্জক।
কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে আঙুর চাষের সম্ভাবনা রয়েছে। আব্দুল আজিজ সেটা প্রমাণ করেছেন। তার এই উদ্যোগ স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন