প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারত হয়ে নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের নতুন একটি মৌসুমী চক্র শুরু হয়েছে।
একটি ত্রিপক্ষীয় সহযোগিত চুক্তির আওতায় গত মধ্যরাত থেকে ভারতীয় বিদ্যুৎ গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে এই আন্তঃসীমান্ত জলবিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় শুরু হয়।
ঢাকায় নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী রোববার সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “আজ মধ্যরাত থেকে বিদ্যুৎ বাণিজ্যের নতুন মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। চুক্তি অনুযায়ী, মধ্য-জুন থেকে মধ্য-নভেম্বর পর্যন্ত নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ আসবে। এই সময়কালটি বাংলাদেশে বিদ্যুতের উচ্চ চাহিদার মৌসুম এবং নেপালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পিক সিজন।”
এই অংশীদারিত্বের আনুষ্ঠানিক সূচনাকে একটি ‘আনন্দদায়ক মুহূর্ত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন নেপালী রাষ্ট্রদূত। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে বাংলাদেশে উচ্চ চাহিদার মৌসুমে ভারত হয়ে নেপাল থেকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহের একটি পাইলট প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সে বছর পরীক্ষামূলকভাবে মাত্র একদিনের জন্য এই বিদ্যুৎ সঞ্চালন করা হয়।
পরবর্তীতে, ২০২৫ সালে এই সরবরাহ ব্যবস্থা পূর্ণাঙ্গ রূপ পায় এবং মধ্য-জুন থেকে মধ্য-নভেম্বর পর্যন্ত পুরো মৌসুম জুড়েই বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখা হয়। তারই ধারাবাহিকতায়, চলতি মৌসুমেও নেপাল বাংলাদেশকে ৪০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহ করবে।
বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নেপালের বিশাল বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভাবনার তুলনায় ৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ খুবই সামান্য। তবে এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম।
রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভাণ্ডারী বলেন, “বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা এবং নেপালের জলবিদ্যুৎ সম্ভাবনার তুলনায় ৪০ মেগাওয়াট একেবারেই কিছু নয়। তবে এটি প্রতীকী হলেও একটি বড় মাইলফলক। কারণ উপ-অঞ্চলে এ ধরনের উদ্যোগ এটাই প্রথম এবং আমরা আশাবাদী যে ভবিষ্যতে এর পরিধি আরও বৃদ্ধি পাবে।”
এদিকে, বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিমাণ আরও বৃদ্ধির পরিকল্পনা চলছে। নেপালের একজন কূটনীতিক জানিয়েছেন, বাংলাদেশে অতিরিক্ত আরও ২০ মেগাওয়াট জলবিদ্যুৎ সরবরাহের বিষয়ে উভয় দেশই সম্মত হয়েছে, যা বাস্তবায়িত হলে মোট সরবরাহের পরিমাণ দাঁড়াবে ৬০ মেগাওয়াটে। এই অতিরিক্ত বিদ্যুৎ সঞ্চালনের প্রস্তাবটি বর্তমানে ভারতের বিবেচনাধীন রয়েছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন