প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স (AI) একটি বর্তমান বাস্তবতা; এটি ভবিষ্যতের ধারণা নয়। অনেক ক্ষেত্রেই, যেমন শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ব্যাংকিং, শিল্প উৎপাদন এবং গণমাধ্যম, AI-এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে এর সাথে সংশ্লিষ্ট একটি প্রশ্ন উঠছে: AI কি মানুষের চাকরি কেড়ে নেবে, নাকি নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, AI প্রযুক্তি কর্মক্ষেত্রে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনছে। যেসব কাজ নিয়মিত, পুনরাবৃত্তিমূলক এবং তথ্যভিত্তিক, সেগুলো ক্রমেই স্বয়ংক্রিয় হয়ে যাচ্ছে। তাই কিছু পেশায় মানুষের চাহিদার হ্রাসের আশঙ্কা দেখা দিচ্ছে। উদাহরণস্বরূপ, ডেটা এন্ট্রি, কাস্টমার সাপোর্ট, সাধারণ হিসাবরক্ষণ এবং কিছু প্রশাসনিক কাজ বর্তমানে AI-নির্ভর সফটওয়্যার দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে। তবে, বিষয়টিতে অন্য একটি দিকও রয়েছে। ইতিহাসের শিক্ষায় দেখা যায়, নতুন প্রযুক্তির আবির্ভাবে কিছু চাকরি বিলুপ্ত হয়েছে, তবে নতুন ধরনের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হয়েছে। AI-র ক্ষেত্রেও এমন সম্ভাবনা বিদ্যমান। বর্তমানে, AI ডেভেলপমেন্ট, ডেটা অ্যানালিটিক্স, মেশিন লার্নিং, সাইবার নিরাপত্তা, ডিজিটাল মার্কেটিং, এবং প্রযুক্তি ব্যবস্থাপনার মতো খাতে দক্ষ ব্যক্তিদের চাহিদা বাড়ছে। এই কারণে, প্রযুক্তির সাথে খাপ খাইয়ে নিতে পারলে নতুন প্রজন্মের জন্য কর্মসংস্থানের নতুন অর্থ উন্মোচিত হতে পারে। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশে তরুণ জনগণের সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে কর্মসংস্থানের চ্যালেঞ্জও বড়। যদি AI-এর বিস্তার দক্ষতা উন্নয়নের সাথে মেলানো না যায়, তখন অনেক তরুণ চাকরির বাজারে পিছিয়ে পড়তে পারেন। তবে, সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে তরুণরা বৈশ্বিক ডিজিটাল অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারেন। শিক্ষাবিদদের মতে, বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় প্রযুক্তি-ভিত্তিক দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা, সৃজনশীল চিন্তা এবং সমালোচনামূলক বিশ্লেষণের উপর জোর দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, যদিও AI তথ্য প্রক্রিয়াকরণে দক্ষ, তবে এটি মানবিক বিচারবোধ, নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার বিকল্প হতে পারে না। অর্থনীতিবিদদের মতে, AI-কে শুধুমাত্র চাকরির প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে দেখতে হবে না। বরং, এটি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, নতুন শিল্প খাতের বিকাশ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুযোগও তৈরি করতে পারে। তবে, এর সুফল পেতে হলে সরকার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি খাতকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিশ্ব যখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের পথে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন AI নিয়ে ভয় না পেয়ে প্রস্তুতির দিকে মনোযোগ দিতে হবে। প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের এই সময়ে যারা নতুন দক্ষতা অর্জন করবে, তারাই ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে এগিয়ে থাকবে। সবশেষে, বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চাকরির বাজারের জন্য একই সাথে সুযোগ এবং চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করছে। এটি একটি দিক থেকে কিছু প্রচলিত চাকরির ধরনকে পরিবর্তন করছে, অন্যদিকে নতুন সম্ভাবনার দ্বারও খুলে দিচ্ছে। তাই, AI-কে হুমকি হিসেবে না দেখে, বরং পরিবর্তিত বাস্তবতার অংশ হিসেবে গ্রহণ করে দক্ষতার উন্নয়নের মাধ্যমে নিজেদের প্রস্তুত করাই হতে পারে ভবিষ্যতের কার্যকর কৌশল।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন