প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর ছয় দিন পরে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি তিন বছর বয়সী শিশুকে জীবিত উদ্ধার করার খবর পাওয়া গেছে। উদ্ধারকারী দলের তথ্য অনুযায়ী, জর্ডানের একটি উদ্ধারকারী দল বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, শিশুটির নাম ক্লাইবার মোরান এবং তাকে লা গুয়াইরা রাজ্যের ধ্বংসস্তূপ থেকে বের করে আসার সময় উদ্ধারকারীরা উল্লাস প্রকাশ করেছেন। শিশুটির উদ্ধারকে ডেলসি রদ্রিগেজ আশার একটি মুহূর্ত হিসেবে বর্ণনা করেছেন। এর মধ্যে জাতিসংঘ উল্লেখ করেছে যে, জরুরি ভিত্তিতে কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার মানুষের খাদ্য এবং আশ্রয় প্রয়োজন রয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত সপ্তাহের ৭.২ ও ৭.৫ মাত্রার ভূমিকম্পের কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১,৯৪৩ জনে পৌঁছেছে। এতে ১০ হাজারেরও বেশি মানুষ আহত হয়েছে এবং আরও কয়েক দশক ধরে হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।
নাসার স্যাটেলাইটের তথ্য অনুযায়ী, শক্তিশালী ভূমিকম্পে সম্ভাব্যভাবে ৫৮,৮৭০টি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অথবা সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গেছে। জর্ডানের সিভিল ডিফেন্স জানিয়েছে, ক্লাইবারকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং তার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে। ভেনেজুয়েলার জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ কোনও সময় এ পরিস্থিতি সম্পর্কে উল্লেখ করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়া মানুষকে জীবিত পাওয়ার সবচেয়ে সম্ভাবনা থাকে প্রথম তিন দিনের মধ্যে, কিন্তু ছয় দিন পরে শিশুটির উদ্ধার কার্যক্রম সফল হয়েছে। লা গুয়াইরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর অন্যতম। সেখানে অনেক স্থানীয় বাসিন্দা নিজেরাই উদ্ধারকাজ চালানোর চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা জানিয়েছে, লা গুয়াইরায় খাদ্যসংকট প্রবল আকার ধারণ করেছে। মৌলিক সেবার পাশাপাশি যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। ইউএনএইচসিআর তাদের ওয়েবসাইটে এক বিবৃতিতে বলেছে, ‘সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সীমিত থাকায় কমিউনিটিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে।’ লা গুয়াইরার ১৮ বছর বয়সী বিক্রেতা দানিয়েলা আরমাস বলেন, ‘কিছু ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে, কিন্তু কখনও কখনও খাবারের জন্য মানুষ প্রায় একজন আরেকজনকে মারার চেষ্টাও করছেন।’ ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, আগামী ছয় মাসে ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ হাজার মানুষের জন্য সুরক্ষা, জরুরি ত্রাণসামগ্রী এবং অস্থায়ী আশ্রয় সহায়তা বাড়াতে তাদের প্রাথমিকভাবে ১ কোটি ৫০ লাখ মার্কিন ডলার প্রয়োজন।
এছাড়াও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বর্তমানে ‘চরম চাপের’ মধ্যে রয়েছে। ডব্লিউএইচওর মুখপাত্র ক্রিশ্চিয়ান লিন্ডমেয়ার বলেছেন, ‘টিকাদানের হার নিম্ন থাকায় হাম ও ডিফথেরিয়ার মতো টিকায় প্রতিরোধযোগ্য রোগের প্রাদুর্ভাবের ঝুঁকি বেড়েছে।’ হোর্হে রদ্রिगেজ বলেছেন, ‘শিশু ক্লাইবারের উদ্ধার প্রমাণ করে যে এখনও জীবিত মানুষকে খুঁজে পাওয়ার আশা রয়েছে এবং দেশীয় ও আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে।’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘লা গুয়াইরা ও অন্যান্য রাজ্যে ইতোমধ্যে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে।’ যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকোসহ আরও কয়েক ডজন দেশের আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল প্রশিক্ষিত কুকুর ও ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে জীবিতদের খোঁজে অনুসন্ধান চালিয়েছে। দেশটিতে কিছু আন্তর্জাতিক সহায়তা এসেছে। জাতিসংঘের মুখপাত্র জানিয়েছেন, মঙ্গলবার ৪৭ টন মানবিক সহায়তা সামগ্রী এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে জরুরি চিকিৎসাসেবা দেওয়ার জন্য স্বাস্থ্য কিট, নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় সামগ্রী রয়েছে।
এদিকে, যেসব মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, সেগুলোর দাফন শুরু করেছেন ভেনেজুয়েলার মানুষ। আরও অনেক পরিবার নিজেদের স্বজনদের মরদেহের জন্য অপেক্ষা করছে, যারা মারা যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। লা গুয়াইরার বন্দরে স্থাপিত অস্থায়ী মর্গে উইলকার মোলাল্লা এএফপিকে বলেন, ‘আমি আমার বোন, তার সন্তানদের এবং আমার ভাইয়ের সন্তানগুলোর মরদেহ শনাক্ত করার অপেক্ষায় রয়েছি। আমাদের পরিবারে ১১ জন ছিল। আমরা মাত্র দুজন বেঁচে আছি, কারণ আমরা তখন কাজে ছিলাম।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন