প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে আমের মৌসুম শুরু হয়ে গেছে। বাজারে এখন উঠতে শুরু করেছে বিভিন্ন জাতের আম যেগুলোর বেশিরভাগই ভারত, পাকিস্তান ও ইয়েমেন থেকে এসেছে। তবে ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, গত বছরের তুলনায় মৌসুমের শুরুতে এবারের দাম কিছুটা বেশি রয়েছে।
দুবাইয়ের ওয়াটারফ্রন্ট মার্কেটে পাকিস্তানি সিন্ধরি আমের (প্রায় ২.৮ কেজি) এক বক্স বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৪০ দিরহামে। চৌসা আমের ৩ কেজির বক্সের দাম ৫০ থেকে ৫৫ দিরহামের মধ্যে রয়েছে।
ভারতীয় আলফানসো আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৫০ দিরহামে প্রতি বক্স। তাছাড়া, মল্লিকা, বাদামি, বাঙ্গানাপল্লি ও দাশেরি জাতের আমের দাম ৩৫ থেকে ৪৫ দিরহামের মধ্যে, যা আকার ও মানের ওপর নির্ভর করে।
ইয়েমেনি আম সবচেয়ে সাশ্রয়ী দামে বিক্রি হচ্ছে, যেখানে ৪ কেজির বক্স পাওয়া যাচ্ছে প্রায় মাত্র ৩৫ দিরহামে। ফুজাইরাহর স্থানীয় আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ২০ দিরহাম প্রতি কেজি দরে।
ওয়াটারফ্রন্ট মার্কেটের ব্যবসায়ী আসলাম বলেন, ‘মৌসুম এখনো একদম শুরু পর্যায়ে, কিন্তু চাহিদা ইতোমধ্যে অনেক বেশি। সরবরাহ সীমিত থাকায় গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দাম কিছুটা বেশি। আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও চালান এলে দাম কিছুটা কমতে পারে।’
তদুপরি, আরেক ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, আগের বছরের তুলনায় এবার প্রতি কেজিতে কয়েক দিরহাম বেশি খরচ হচ্ছে। তিনি বলেন, ক্রেতাদের মধ্যে বিশেষ করে চৌসা ও আলফানসো আমের চাহিদা বেশি। যদিও স্টলে দাম নির্ধারিত থাকে, তবে দরদাম করলে সাধারণত ২ থেকে ৫ দিরহাম পর্যন্ত ছাড় পাওয়া যায়।
ব্যবসায়ীদের মতে, আমের দাম নির্ভর করে এর আকার, মান এবং মিষ্টতার ওপর। বড় আকার ও প্রিমিয়াম মানের বক্সগুলোর দাম বেশি হয়, ছোট আকারের আম তুলনামূলকভাবে কম দামে পাওয়া যায়।
দুবাইয়ের আল আবির ফ্রুট অ্যান্ড ভেজিটেবল মার্কেটের আরেক ব্যবসায়ী মুশতাক আহমেদ বলেন, পাইকারি বাজারে দাম খুচরা বাজারের তুলনায় সাধারণত ৫ থেকে ১০ দিরহাম কম। তবে গত মৌসুমের শুরু থেকে এবারের দাম কিছুটা বেশি।
তিনি আরও জানান, মাঝে মাঝে চালান পৌঁছাতে দেরি হলে বাজারে সরবরাহ কমে যায়, ফলে দাম বেড়ে যায়। মৌসুমের শুরুতে চাহিদাও বেশি থাকে, তাই দাম তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে।
তিনি ক্রেতাদের আচরণেও পরিবর্তন লক্ষ্য করেছেন। আগে অনেকেই একসঙ্গে ২ থেকে ৩ বক্স আম কিনতেন, কিন্তু এবার অনেকেই প্রথমে একটি বক্স কিনে দাম কেমন যাচ্ছে তা দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।
খালিজ টাইমসের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, দুবাইয়ের ওয়েস্ট জোন সুপারমার্কেটে চৌসা ও বাদামি আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় ১৯.৯৫ দিরহাম প্রতি কেজি দরে। ইয়েমেনি থাই ও চকানান আম পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ১৫.৯৫ দিরহাম প্রতি কেজি দরে। জর্ডানের মিষ্টি আম বিক্রি হচ্ছে সবচেয়ে কম দামে, প্রায় ১০.৯৫ দিরহাম প্রতি কেজি।
এ মৌসুমে সবচেয়ে বেশি চাহিদা পাচ্ছে পাকিস্তানের চৌসা ও ভারতের আলফানসো আম। তুলনামূলক সাশ্রয়ী হওয়ার কারণে ইয়েমেনি আমও অনেক ক্রেতার পছন্দ হচ্ছে।
ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও চালান আসার পর সরবরাহ বাড়বে এবং দাম ধীরে ধীরে কমে আসবে। তবে আপাতত আমপ্রেমীদের মৌসুমের স্বাদ নিতে কিছুটা বেশি দামই গুনতে হচ্ছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন