প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
বুধবার প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক গার্ড আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়ে দেন প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন। ছবি: বাসস
রাজধানীর ব্যস্ত সড়কের পাশে একটি ব্যাংকের এটিএম বুথে। এখানে প্রতিদিনের মতো দায়িত্ব পালন করেন সাধারণ সিকিউরিটি গার্ড আব্দুস সালাম। দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তাঁর অন্য একটি অভ্যাস ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের গাড়িবহর যেদিন ওই পথ দিয়ে যায়, তিনি হাতে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে সম্মান জানান। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই দৃশ্য লক্ষ্য করেন।
তিনি সেই ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা আব্দুস সালামকে উপহার পাঠিয়েছেন।
আজ বুধবার সকালে, রাজধানীর রমনায় গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমন আব্দুস সালামের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। প্রধানমন্ত্রীর তরফ থেকে কিছু উপহারও তাঁর হাতে তুলে দেন। এ সময় তিনি আব্দুস সালামের শারীরিক অবস্থা এবং তার পরিবারের কথা জানার চেষ্টা করেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেসসচিব মো. সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) এ কথা জানিয়েছেন।
আব্দুস সালামের বাড়ি পাবনার নগরবাড়ি ঘাট এলাকায়। তিনি গত আট মাস ধরে রাজধানীর সাবেক রমনা থানার সামনের একটি বেসরকারি ব্যাংকের বুথে সিকিউরিটি গার্ডের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি গাড়ি চালাতেন। তবে স্ট্রোক করার পর গাড়ি চালাতে পারেননি। তাই গাড়ির স্টিয়ারিং ছেড়ে তিনি এই সিকিউরিটি গার্ডের কাজ শিকড় করেন। অসুস্থ শরীর নিয়েও তিনি প্রতিদিনই বিরতিহীনভাবে সকাল ৮ থেকে রাত ৮ টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টা কাজ করেন।
সুজন মাহমুদ জানান, প্রধানমন্ত্রী যখন সচিবালয়ের অফিসে যাওয়ার পথে থাকেন, প্রতিদিন আব্দুস সালাম রমনা পুরনো থানার কাছে বুথের সামনে ধানের শীষ নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। তার এই নীরব শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা চোখে পড়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। তিনি আব্দুস সালামের খোঁজ খবর নেয়ার জন্য এবং উপহার দিয়ে পাঠানোর জন্য অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনকে নির্দেশ দেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে আব্দুস সালাম আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন।
কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে আব্দুস সালাম বলেন, 'কখনো কল্পনাও করিনি এটি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। আর প্রধানমন্ত্রী আমার জন্য উপহার পাঠাবেন।'
তিনি আরও বলেন, 'আমি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাবাকে ভালোবাসি, মাকে ভালোবাসি, প্রধানমন্ত্রীকে ভালোবাসি। প্রধানমন্ত্রী আমার জানের টুকরা। তিনি যখন এই পথে যান, আমি প্রতিদিনই প্রধানমন্ত্রীকে সালাম দেই। তিনিও আমাকে গাড়ির ভেতর থেকে সবদিনই হাসি মুখে সালাম দেন। হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানান। প্রধানমন্ত্রী তার হাসি দেখালে আমার মন জুড়িয়ে যায়। আজ আমার জীবনের সেরা দিন। সবচেয়ে আনন্দের দিন। প্রধানমন্ত্রী আমার মত ক্ষুদ্র একজন মানুষকে উপহার পাঠিয়েছেন। এর চেয়ে বেশি আনন্দের আর কি হতে পারে।'
একজন সাধারণ মানুষের নীরব ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতি প্রধানমন্ত্রীর এই মানবিক সাড়া স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশংসা কুড়িয়েছে।
তারা বলছেন, দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি একজন সাধারণ মানুষের আন্তরিক অনুভূতির এমন মূল্যায়ন নিঃসন্দেহে একটি ব্যতিক্রমী মানবিক দৃষ্টান্ত।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন