প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কর অঞ্চল নোয়াখালীর নিয়োগ পরীক্ষায় প্রবেশপত্রে ছবি জালিয়াতি সন্দেহে আরও এক জালিয়াতকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত মঙ্গলবার (২২ জুন) সকালে এক নতুন দুই কর্মচারীকে জালিয়াতির কারণে চিহ্নিত করা হয়। তাদেরকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। এর আগে, গত রোববার (২১ জুন) রাতের প্রথম দফায় দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
সোমবার সকালে অফিস সহায়ক পদে যোগদান করতে আসা সুজনকে গ্রেফতার করে পুলিশে দেয়া হয়। সুজন লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তৈয়ব উল্যাহর ছেলে (রোল: ১৬০০১৭৮৯)। তবে একই পদে আসা নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার তারেক উদ্দিনের ছেলে রাশেদ উদ্দিন (রোল: ১৬০০৩৫৩১) পরিস্থিতি বুঝতে পেরে কার্যালয় থেকে পালিয়ে যান।
রোববার রাতে যাদের গ্রেফতার করা হয়েছিল, তারা হলেন: অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে নিয়োগপ্রাপ্ত সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নের ব্রহ্মপুর গ্রামের নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুন (রোল: ১৫০০২৩১৯) এবং অফিস সহায়ক পদে নিয়োগ পাওয়া হাতিয়ার গুল্যাখালীর বাসিন্দা কামাল উদ্দিন। কামাল উদ্দিনের বাবা মো. আনছারুল হক। তারা দুজনেই লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় প্রক্সি পরীক্ষার্থীর মাধ্যমে প্রথম স্থান অর্জন করে চাকরিতে যোগদান করতে এসেছিলেন। গ্রেফতার হওয়া নাসফুর উল্যাহ হুমায়ুনের মামা নূরনবী আয়কর বিভাগেই কর্মরত আছেন বলে জানা গেছে।
সূত্র জানায়, অফিস সহায়ক পদে নিয়োগপত্র পাওয়া কামাল উদ্দিনের সঙ্গে মো. জুলফিকার আলী রায়হানের ১২ লাখ টাকার চুক্তি হয়। চুক্তির শর্ত মোতাবেক আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক হাতিয়া শাখা থেকে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক (ইউসিবি) ঢাকার বনশ্রী শাখায় টাকা পরিশোধ করা হয়। কামালের পক্ষে আব্দুল হান্নান নামের এক যুবক লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলেন।
আয়কর দফতরের সূত্র জানায়, গত ১১ জুন কর অঞ্চল নোয়াখালীর অধীনে লিখিত ও ভাইভা পরীক্ষা শেষে ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডে ১১২ জন প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়। নির্বাচিতদের মেডিকেল রিপোর্ট ও প্রয়োজনীয় সনদসহ রোববার (২১ জুন) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশনা অনুযায়ী যখন তারা যোগদান করতে আসলে প্রথম স্থান অধিকার করা প্রার্থীদের দেখে কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদে তারা প্রক্সি দেয়ার কথা স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে সুধারাম মডেল থানা পুলিশ ও সিআইডিকে খবর দেয়া হলে তারা কর অফিসে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে প্রক্সির বিষয়টি নিশ্চিত হন। বর্তমানে আটকরা সুধারাম মডেল থানা হেফাজতে রয়েছেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটকরা জানান, ঢাকা ও চট্টগ্রামের একটি জালিয়াতি চক্রের সাথে ১২ থেকে ২০ লাখ টাকার বিনিময়ে তাদের চুক্তি হয়েছিল। চক্রটি বিভিন্ন সরকারি চাকরির পরীক্ষায় অন্যের হয়ে প্রক্সি দিয়ে থাকে। চাকরির আবেদন করার সময়ই তারা চুক্তি করা পরীক্ষার্থীর ছবি পরিবর্তন করে আবেদন করত, যাতে পরীক্ষার সময় কোনো অমিল ধরা না পড়ে। তবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ব্যক্তি আর যোগদান করতে আসা ব্যক্তি এক না হওয়ায় চৌকস কর কর্মকর্তাদের সন্দেহ হয়। পরে হাতের লেখা যাচাই-বাছাই করতেই তারা অপরাধ স্বীকার করেন।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. লিয়াকত আকবর দুইজনকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, ‘নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। পাশাপাশি এই চক্রে জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।’
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন